অপরাধ ঢাকা হটনিউজ স্পেশাল

মাফ করে দেন দশ হাজার দেই

land-officer--SSM-120130824020842গাজীপুর প্রতিনিধি :  তহশিল অফিসটিতে (ইউনিয়ন ভূমি অফিস) সরকারিভাবে স্টাফ আছেন দুইজন। কিন্তু সেখানে দাফতরিক কাজে অংশ নিতে দেখা গেলো আরও চার বহিরাগতকে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, এদের প্রত্যেকেই অফিসার পরিচয় দিয়ে জনগণের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করছেন।

বিষয়টি নিয়ে ওই অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এদের চিনি না। এ সময়, ‘দশ হাজার টাকা দেই। মাফ করে দেন’ বলে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আপোশরফারও চেষ্টা করেন তিনি।

সরেজমিনে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলাস্থ কাওরাইদ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা গেলো এই চিত্র।

অফিসটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী ভূমি কর্মকর্তার নাম আব্দুর রশীদ। এছাড়া কর্মচারীও রয়েছেন একজন, নাম কামাল হোসেন।

অথচ সেখানে কর্মকর্তা পরিচয়ে দাফতরিক কাজে অংশ নিচ্ছেন আরও ৪ জন। এরা হলেন নুরুল হক, সুরুজ মিয়া ও ফারুক। অপরজনের নাম জানা যায়নি।

জানা গেছে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আব্দুর রশীদের ছত্রছায়ায় থেকে দীর্ঘদিন ধরেই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন তারা।

ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম জানান, ৪ হাজার ৫শ’ টাকা দিয়ে একটি খাজনার রশিদ নিয়েছি। এখন দেখা যাচ্ছে রশিদটি অকার্যকর।

আরেক ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম জানালেন, একটি মিসকেস (আপিল) নিয়ে দুই বছর ধরে ঘুরছি। কিন্তু কোনো সমাধান পাচ্ছি না।

এছাড়া অন্যান্য ভুক্তভোগীরা জানালেন, একটি নামজারি ও জমা ভাগের (ভূমি উন্নয়ন কর) জন্য ৫/৬ হাজার টাকা করে দিতে হয়। একটি পরচার জন্য মাসের পর মাস ঘুরতে হয়। মোটা অংকের টাকা দিতে হয়।

স্থানীয়রা বলছেন, আব্দুর রশীদ ঢাকায় থাকেন। মাঝে মধ্যে অফিসে আসেন। কিছুদিন পূর্বে স্থানীয় চেয়ারম্যান রশীদকে ডেকে নিয়ে নিয়মিত অফিস করার জন্য বলেন। কিন্তু আব্দুর রশীদ নিজেকে ভূমি কর্মকর্তা সংগঠনের নেতা পরিচয়ে অফিস ফাঁকি অব্যাহত রাখেন। বিভিন্ন সময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অফিসে থাকার অজুহাত দেখিয়ে ঢাকার বাসায় আরাম আয়েশ করেন।

এসব বিষয়ে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ হটনিউজকে বলেন, ভুল করে চেক দেয়া হয়েছে।

স্টাফ নয় এমন ৪ ব্যক্তি কি ভাবে কাজ করেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওরা আমার স্টাফ নয়। তার ওই বক্তব্য চ্যালেঞ্জ করে ভুক্তভোগীরা আব্দুর রশীদের দিকে তেড়ে আসেন।

এ সময় রশীদ প্রতিবেদককে গোপনে ডেকে নিয়ে বলেন, দশ হাজার টাকা দেই, মাফ করে দেন।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে শ্রীপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুল ইসলাম ভূঁইয়ার মোবাইলে বার বার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি।