জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর শিক্ষাঙ্গন

‘অন্যায্য’ দাবিতে পদত্যাগ নয়: জাবি ভিসি

Prof+Anwarজাবি প্রতিনিধি হটনিউজ২৪বিডি.কম: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেছেন, আন্দোলনরত শিক্ষকদের ‘অন্যায্য’ দাবির মুখে তিনি পদত্যাগ করবেন না। নিজের কার্যালয়ে চতুর্থ দিনের মতো অবরুদ্ধ উপাচার্য শনিবার দুপুরে সাংবাদিকদের একথা বলেন। জাহাঙ্গীরনগরে সৃষ্ট অচলাবস্থা কাটাতে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে উপাচার্য একথা বললেন। আন্দোলনত সাধারণ শিক্ষক ফোরাম বিকালে ঢাকায় নুরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন, সেখানে উপাচার্যকে অপসারণের দাবি তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছে তারা। অধ্যাপক আনোয়ার বলেন, “শিক্ষকদের দাবি অনৈতিক ও অন্যায্য। এই ধরনের দাবির মুখে পদত্যাগ করব না।” বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সঙ্কট নিরসনে ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ চেয়েছেন অবরুদ্ধ উপাচার্য। শিক্ষকরা যে সব অভিযোগ জানিয়েছেন, তা সত্যতা খুঁজতে তদন্তেও আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক আনোয়ার। অন্তর্কোন্দলে ছাত্রলীগের এক কর্মী নিহতের পর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবিরের পদত্যাগের পর গত বছর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্বে আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক। পরবর্তীতে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে স্থায়ী হন তিনি। কয়েক মাস আগে তার বিরুদ্ধে শিক্ষক সমিতি আন্দোলন শুরু করলে বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়। এক পর্যায়ে হাই কোর্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রমে বাধা না দেয়ার নির্দেশ দিলে পিছু হটে শিক্ষক সমিতি। এরপর ‘সাধারণ শিক্ষক ফোরাম’ ব্যানারে নতুন কৌশলে আন্দোলন শুরু হয়, যাতে অধ্যাপক শরীফ এনামুল সমর্থকদের সঙ্গে সক্রিয় রয়েছেন বিএনপি সমর্থক শিক্ষকরাও। শনিবার সকালে প্রশাসনিক ভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনরত ‘সাধারণ শিক্ষক ফোরাম’। ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক হানিফ আলী সম্মেলনে জানান, বিকালে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে তারা উপাচার্যের পদত্যাগের একদফা দাবি জানাবেন। তিনি বলেন, “মন্ত্রী যেহেতু বিচক্ষণ মানুষ, তিনি আমাদের এই দাবিটিকে আমলে নেবেন বলে আশা করছি।” আন্দোলনকারী শিক্ষকের সংখ্যা ৫০ জনও হবে না- অধ্যাপক আনোয়ারের এই দাবির জবাবে ফোরামের সদস্য সচিব অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ জন সিন্ডিকেট সদস্য, ৬ জন ডিনের ৫ জন, শিক্ষক প্রতিনিধি ৩৩ জন সিনেট সদস্যদের মধ্যে ২৯ জন, ১৫ জন প্রভোস্টের মধ্যে ১২ জন এবং ৩৪ জন বিভাগীয় সভাপতির ২৫ জন ভিসির পদত্যাগ দাবি করছেন।” সংবাদ সম্মেলনের পর প্রশাসনিক ভবনের দাঁড়িয়ে উপাচার্যের উদ্দেশে কালো পতাকা প্রদর্শন করছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। পাশাপাশি সেখানে অবস্থান নিয়ে উপাচার্যে বিরুদ্ধে বক্তব্য ও স্লোগানও অব্যাহত রেখেছেন তারা। 

Prof+Anwarএদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পরিস্থিতির মধ্যে ‘অচল ক্যাম্পাস সচল করার দাবিতে’ ক্যাম্পাসে মিছিল করছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্রজোট।