খুলনা জাতীয়

দৌলৎগঞ্জ-মাঝদিয়া স্থলবন্দর আবার চালু হচ্ছে

Bondor Yeard-2420130824071304হটনিউজ২৪বিডি.কম,চুয়াডাঙ্গা, ২৪ আগস্ট : সুদীর্ঘ সময়ের পর প্রস্তাবিত দৌলৎগঞ্জ -মাজদিয়া স্থলবন্দরটি আবার চালু হচ্ছে।১৯৫৮ সাল থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত দৌলৎগঞ্জ-মাজদিয়া শুল্ক ষ্টেশনটি চালু ছিল। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের কারণে শুল্ক স্টেশনটি বন্ধ হয়ে যায়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে শুল্ক স্টেশনটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশে পুনরায় চালু হয়।

১৯৯৪ সালের ৩ নভেম্বর সকল প্রকার পণ্য আমদানি-রপ্তানির আদেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ১৯৯৫ সালে শুল্ক স্টেশনটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। ২০০৯ সালের ১১ জুন সকল প্রকার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে ১৯টি পণ্য আমদানির অনুমতি প্রদান করা হয়।জাতীয় রাজস্ব বোর্ড প্রকাশিত ২০০৯ সালের শুল্ক এসআরও বুকলেট মোতাবেক অনুযায়ী এ বন্দরের অবস্থান ২৭।

দৌলৎগঞ্জ-মাজদিয়া স্থল বন্দর এলাকায় আগথেকেই শুল্ক স্টেশনের সড়ক অবকাঠামো বিদ্যমান। বন্দরটি জীবননগর উপজেলা ও ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ দিয়ে চলে যাওয়া জাতীয় সড়কের খুবই সন্নিকটে। দূরত্ব মাত্র ৩৫ কি.মি.। এখান থেকে দেশের যেকোন স্থানে দ্রুততম সময়ে যাতায়াত সম্ভব।বন্দরটি জীবননগর উপজেলা সদর থেকে মাত্র সাত কি.মি. দূরে অবস্থিত। এখান থেকে ঢাকার দুরত্ব ২৪০ কি.মি.। সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি রয়েছে রেল যোগাযোগের সুবিধাও। ফলে পচনশীল খাদ্যদ্রব্য কম সময়ের মধ্যে জীবননগর থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ সম্ভব।

বন্দরের অবকাঠামো : পূর্বে শুল্ক স্টেশন থাকায় বাংলাদেশ-ভারত উভয় অংশে প্রশস্ত সড়ক বিদ্যমান। বিডিআর চেক পোস্টের জন্য একটি গোলঘর, তিনরুম বিশিষ্ট একটি পাকা ঘর, ইমিগ্রেশনের জন্য দুই রুম বিশিষ্ট একটি সেমি পাকা ঘর, দুইটি পাকা টয়লেট, একটি টিউবওয়েল, কোয়ারেন্টাইন অফিসারের জন্য একটি টিনসেড অফিস কক্ষ, কাস্টমসের জন্য একটি টিনসেড অফিস কক্ষ রয়েছে।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি টিনসেড ও তিন একর জমির উপর ট্রান্সশিপমেন্ট করার উপযোগী করে সি এন্ড এফ এজেন্সী কর্তৃক কাঁটা তারের বেড়া দ্বারা বাউন্ডারি নির্মাণ করা হয়েছে।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান ২০০৯ সালে বন্দর এলাকা পরিদর্শন করে ৩ কোটি ২২ লক্ষ টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করেন। যা বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন। এখানে বিদ্যুৎ সুবিধাও বিদ্যমান। স্থল বন্দরের জন্য প্রস্তাবিত স্থানের দক্ষিণে মেদিনীপুর বিওপি ৭৩৫ মিটার এবং উত্তরে নতুনপাড়া বিওপি এক কি.মি. দূরে অবস্থিত। এখানে যে অবকাঠামো সুবিধা বিদ্যমান তাতে তাৎক্ষণিকভাবে স্থল বন্দরের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব।

দৌলৎগঞ্জ-মাজদিয়া স্থলবন্দর স্থাপনে ভারতের পক্ষ হতে বাংলাদেশ সরকারের কাছে প্রস্তাব এসেছে। জিরো পয়েন্ট থেকে (ভারত অংশে) কৃষ্ণনগর হয়ে নবদ্বীপ পর্যন্ত ভারতের পাকা সড়ক আছে। ভারতের ৩৪নং জাতীয় সড়ক যেখান খেকে ভারতের সকল স্থানে যাওয়া যায় সে স্থানটি সোনা মসজিদ স্থলবন্দর খেকে ৩৭০ কি.মি. দুরে, বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে ১৭২ কিমি: দুরে। অথচ দৌলৎগঞ্জ-মাঝদিয়া স্থলবন্দর হতে সে স্থানটি মাত্র ৪৪ কি.মি. দুরে। মাজদিয়া-কলকাতা রেলস্টেশন মাত্র তিন কি.মি. দূরে।

প্রাথমিক ভাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এ স্থলবন্দর দিয়ে ১৯টি পণ্য আমদানীর অনুমোদন দিয়েছে। আমদানী করা যাবে এমন পণ্যের মধ্যে রয়েছে গবাদীপশু, মাছের পোনা, তাজা ফলমূল, গাছগাছড়া, বীজ, গম, চাল, পেয়াজ, মরিচ, আদা, কয়লা, স্যানেটারি সামগ্রী, পাথর, রাসায়নিক সার, কাঠ ও জিপসাম।