জাতীয় প্রযুক্তি

ট্রেনে চালু হচ্ছে ডিজিটাল টিকেটিং

Rail-2420130824051125হটনিউজ২৪বিডি.কম,নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা, ২৪ আগস্ট: বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাসের পর এবার ট্রেনে চালু হচ্ছে ডিজিটাল টিকেটিং ব্যবস্থা।
ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে পরীক্ষামূলকভাবে চার মাসের জন্য এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। জাপানি ঋণদানকারী সংস্থার (জাইকা) আর্থিক ও জাপানের সনি করপোরেশনের কারিগরি সহায়তায় আগামী মাসে এটি চালু হবে। ফলে কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহের পরিবর্তে ‘এসপাস’ কার্ডের মাধ্যমে ভাড়া পরিশোধ করা যাবে।
জাইকার সমীক্ষা অনুযায়ী, জয়দেবপুর থেকে এয়ারপোর্ট হয়ে কমলাপুর পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ১০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করে। তবে পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে রেলওয়ে ঠিকমতো ভাড়া আদায় করতে পারে না। এ রুটে সর্বোচ্চ ৫০০ জনের বেশি ভাড়া পায় রেলওয়ে।
বাকিরা বিনা ভাড়ায় ভ্রমণ করছে। তবে এসপাস কার্ড চালু হলে প্রতিটি কোচের দরজায় একজন করে অ্যাটেনডেন্ট রাখা হবে। ট্রেনে ওঠানামার ক্ষেত্রে
কার্ড ব্যবহার বা তাত্ক্ষণিক টিকিট দেয়ার ব্যবস্থা থাকবে। এতে অন্তত পাঁচ হাজার যাত্রীর ভাড়া পাবে রেলওয়ে।
এ প্রসঙ্গে এন-ওয়েভ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহজাহান আলী বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর পাশাপাশি এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ভাড়া পরিশোধে স্মার্ট কার্ডের ব্যবহার বাড়ছে। এতে ভাড়া আদায় সহজ ও দ্রুত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের আয় বাড়ে।
জানা গেছে, ডিজিটাল টিকেটিং ব্যবস্থা চালুর জন্য জাইকা, বাংলাদেশ রেলওয়ে ও ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সই হবে। প্রাথমিকভাবে ট্রেনে ব্যবহারের জন্য ২৫ হাজার কার্ড ইস্যু করা হবে।
সনি করপোরেশনের পক্ষে কাজ করছে এন-ওয়েভ কোম্পানি (বিডি) লিমিটেড। কমলাপুর, বিমানবন্দর ও জয়দেবপুর স্টেশনেই কার্ড বিক্রি করা হবে। ব্যালান্স ফুরিয়ে গেলে কার্ড পুনরায় রিচার্জ করা যাবে।
এ প্রসঙ্গে রেলওয়ের মহাপরিচালক আবু তাহের বলেন, ঢাকা-জয়দেবপুর ট্রেনে এসপাস কার্ড চালুর বিষয়ে অগ্রগতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই এ-সংক্রান্ত চুক্তি সই হবে। আগামী মাস থেকে এটি চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর ১৮ এপ্রিল বিআরটিসির এসি বাসে পরীক্ষামূলকভাবে মতিঝিল-আবদুল্লাহপুর ডিজিটাল টিকেটিং বা এসপাস কার্ড চালু করা হয়। পরে আরো দুই রুটে এ পদ্ধতি চালু হয়েছে। এ কার্ড চালুর ফলে গড়ে সংস্থাটির আয় ৩৩ শতাংশ বেড়েছে। ফলে বিআরটিসির এসি বাসে এটি স্থায়ীভাবে চালু করা হয়।