অপরাধ খুলনা

ছাত্রলীগ অফিসে সন্ত্রাসীদের বোম হামলা

3রিপন হোসেন, যশোর থেকে :যশোর উপশহর বাবলাতলা ছাত্রলীগের আঞ্চলিক কার্যালয়ে বোমা হামলা ও গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কে বা কারা এই হামলা চালায়। এই হামলায় শামীম নামে এক ছাত্রলীগ কর্মী আহত হয়েছে। আহত ছাত্রলীগ নেতা শামীমকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় যুবলীগের একটি অংশ এ হামলা করেছে বলে দাবি করেছেন জেলা ছাত্রলীগ সাধারন সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল। হামলার প্রতিবাদে বিকেলে ছাত্রলীগ শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে। এদিকে ঘটনার পর পরই কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ ইমদাদুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সংবাদকর্মীদের জানান, এই হামলার পিছনে কারা জড়িত বা কাদের ইন্ধন রয়েছে তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

প্রত্যদর্ক্ষিরা জানান, শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩ টার দিকে দুটি পালসার মটর সাইকেল ও একটি ইজিবাইকে করে ১০/১২ জন সন্ত্রাসী উপশহর বাবলাতলা বাজারে অবস্থিত ছাত্রীলীগের আঞ্চলিক কার্যালয় এবং পাশে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য্য লক্ষ্য করে ৪/৫টি বোমা হামলা করে। এতে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য্যসহ ছাত্রলীগের কার্যালয় এবং বঙ্গবন্ধুসহ অফিসের বিভিন্ন প্রকারের ছবি ও আসবাবপত্র ভাংচুর করে। আহত হয় শামীম নামে এক ছাত্রলীগ কর্মী। ঘটনার সময় আশপাশের লোকজন হামলাকারিদের ধাওয়া করলে তারা ৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল অভিযোগ করেছেন-আধিপত্য প্রতিষ্ঠার কারনেই যুবলীগের একটি অংশ এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন শহরের ঘোপ ধানপট্টি এলাকার টাক শিপন ও তার গ্রুপের ক্যাডার সেতু, ছিনতাইকারী জুয়েল, সোনা লিটন, ডিম রিপন,বোনাই নান্নুসহ ১০/১২ জন সন্ত্রাসী এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। সূত্র বলছে, এরা সকলেই জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলী রেজা রাজুর লোক বলে পরিচিত। এই গ্রুপটি উপশহর কেন্দ্রীক রাজনীতি করে এবং তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। এদের পিছনে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ রায় দেবুর ইন্ধন রয়েছে বলেও একটি নির্ভরশীল সূত্র দাবি করেছে। দেবু জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির খোদ লোক হিসেবে পরিচিত । এ ব্যাপারে যোগাযোগ করলে দেবু জানান, এই হামলার পিছনে তুহিন গ্রুপের হাত রয়েছে। টাক শিপন গ্রুপের সাথে তুহিন গ্রুপের ক্যাডারদের সাথে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছিলো। তারই জের ধরে গতকাল সকালে তুহিন গ্রুপের ক্যাডাররা টাক শিপন গ্রুপের এক সদস্যকে মারপিট করে। তারই জের ধরে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এই ঘটনার পিছনে তার কোন ইন্ধন ছিলো না বলে দেবু দাবি করেছে। কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কারা এবং কেন এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে বিকেলে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফুল হক রিয়াদের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ শহরে মিছিল করেছে। মিছিল শেষে শহরের এম কে রোডস্থ আর এস ভবনের সামনের সড়কে এস সংক্ষিপ্ত সমাবেশে রিয়াদ বক্তৃতা করেন। রিয়াদ এই হামলার পিছনে জামায়াত শিবির চক্রের হাত রয়েছে দাবি করে অবিলম্বে তাদেরকে আটকের দাবি জানান। তবে ঘটনার পর এখনো এ ব্যাপারে কোতয়ালী থানায় কোন মামলা করেনি কোন পক্ষই।