খুলনা জাতীয়

১২০জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত

download (1)রিপন হোসেন, যশোর থেকে:যশোর সদরের চাঁচড়া ইউনিয়নের রুদ্রপুর রূপদিয়া, চুড়ামনকাটি গ্রাম ও শার্শার উপজেলার নাভারণ গ্রামে চার দিনে অন্তত ১২০ জন নারী-পুরুষ ও শিশু পানি বাহিত ডায়রিয়ায় রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। চার দিনের ব্যবধারে শতাধিক মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় এলাকায় আতংকের সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত কেউ নতুন করে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়নি। ফলে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ১১৫ জন রোগী রুদ্রপুর ও রূপদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ওই দুই গ্রামে মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। বাকীরা জেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। গুরুতর আক্রান্ত ১০ জন রোগীকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে তারা সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তাদের আশংকা কেটে গেছে। নলকূপের পানি খেয়ে মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

যশোর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী পরিদর্শক ও অস্থায়ী মেডিকেল টিমের সদস্য আকবর হোসেন জানান, সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের রুদ্রপুর ও রুপদিয়া গ্রামে গত ৪ দিনে অন্তত ১১৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে। এই ক্যাম্প থেকে ১৯ আগস্ট ৫৩ জন, ২০ আগস্ট ১২ জন, ২১ আগস্ট ১৮ জন ও ২২ আগস্ট ৩২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিভিন্ন এলাকার ১০ জন ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আকবর হোসেন আরও জানান, রুদ্রপুর গ্রাম নিচু এলাকা হওয়ায় সম্প্রতি অতি বৃষ্টির কারণে পরিবেশ দূষিত হয়েছে। দূষিত পরিবেশের পানি পান ও খাবার খাওয়ায় অনেক মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে।

এ সংবাদ পাওয়ার পর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোন্তাজুল হকের নেতৃত্বে মেডিকেল দল অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে চিকিৎসা সেবা প্রদান করছে। বৃহস্পতিবার যশোর-৩ সদর আসনের এমপি খালেদুর রহমান টিটো ডায়রিয়া আক্রান্ত এলাকায় পরিদর্শন করেছেন।

এছাড়াও গত এক সপ্তাহে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭০ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন। তবে কারও মৃত্যর সংবাদ পাওয়া যায়নি।