অপরাধ ঢাকা

সেই পরিমলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন ধর্ষিত ছাত্রী

images (3)আদালত প্রতিবেদক:শিক্ষক পরিমল জয়ধরের বিরুদ্ধে রুদ্ধদ্বার আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন ভিকারুননিসা নূন স্কুলের ধর্ষিত ছাত্রী। গতকাল ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ওই ছাত্রীর সাক্ষ্য নেন বিচারক আরিফুর রহমান। ছাত্রীর সাক্ষ্য নেয়ার পর পরবর্তী সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। আলোচিত এই মামলায় এনিয়ে চারজনের সাক্ষ্য নেয়া হল। এর আগে গত ৪ জুলাই ওই ছাত্রীর সাক্ষ্য দেয়ার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে তিনি আদালতে আসতে পারেননি। তবে ওই ছাত্রীর মা আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। এই মামলার রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ কৌঁসুলি ফোরকান মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, গতকাল রুদ্ধদ্বার এজলাসে দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত আসামি পরিমল জয়ধরের সামনেই সাক্ষ্য দেন ওই ছাত্রী। বিচারক ছাড়া তথন সেখানে ছিলেন আসামির আইনজীবী, ওই ছাত্রীর ব্যক্তিগত আইনজীবী ও রাষ্ট্র পক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর। এছাড়া ওই ছাত্রীর সাক্ষ্যগ্রহণের আগে বিচারকের নির্দেশে অন্য সবাই এজলাস ছেড়ে যান। ধর্ষিত ছাত্রী সাক্ষ্য দেয়ার পর তাকে জেরা করেন পরিমলের আইনজীবী মাহফুজ মিয়া। এর আগে ধর্ষিতা ছাত্রীর সাক্ষ্য বিচারকের খাস কামরায় নিতে গত গত ১১ জুন বাদি পক্ষ আবেদন করলে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। এ ব্যাপারে ফৌজদারি মামলার আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মনসুর রিপন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের মামলায় ক্যামেরা ট্রায়ালের বিধান থাকলেও আইনজীবী ও বিচারকদের মধ্যে এর চর্চা দেখা যায় না বললেই চলে। তবে আইনের ২০(৬) ধারায় বলা রয়েছে- “কোনো ব্যক্তির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কিংবা ট্রাইব্যুনাল স্বীয় বিবেচনায় উপযুক্ত মনে করলে এই আইনের ধারা ৯-এর অধীন অপরাধের (ধর্ষণ মামলার বিচার) বিচার কার্যক্রম রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠিত করতে পারবে।”

২০১১ সালের ৭ জুলাই আসামি পরিমল জয়ধর বিচারকের কাছে দোষ স্বীকার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মুলক জবান বন্দি দিয়েছে। ২০১১ সালের ১৭ জুলাই ধর্ষিতা ওই ছাত্রী ঢাকার সাবেক মুখ্য মহানগর হাকিম শামীমা পারভিনের কাছে স্বেচ্ছায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছে। পরে এ মামলা থেকে ভিকারুননিসা স্কুলের সাবেক অধ্যক্ষ হোসনে আরা বেগম ও বসুন্ধরা শাখা প্রধান লুৎফর রহমানকে অব্যাহতি দিয়ে আসামি পরিমল জয়ধরের বিরুদ্ধে গত বছরের ৭ মার্চ অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এর আগে আসামি পরিমলের বিরদ্ধে ২০১১ সালের ২৮ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক মাহবুবে খোদা।

মামলয় অভিযোগ করা হয়, গত ২৮ মে ভিকারুন্নিসা স্কুলের দশম শ্রেণীর ওই ছাত্রীকে হাত বেধে, মুখে ওড়না গুঁজে জোরপূর্বক তার ই”ছার বিরুদ্ধে পাশবিক নির্যাতন করে। উপুর্যপুরি পাশবিক নির্যাতনে মেয়েটি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে। সে সময় পরিমল তার মোবাইল ফোনে ছবি তোলে। ঘটনার শেষে ছাত্রীটির হাতের বাধন খুলে কাউকে এ বিষয়ে কিছু বললে ইন্টারনেটে নির্যাতনের ছবি ছেড়ে দেয়া হবে বলে হুশিয়ার করে দেয়। পরবর্তীতে ১৭ জুনে পরিমলের কাছে পড়তে গেলে আবারো সে ওই ছাত্রীটিকে নির্যাতন করে। সেদিন ওই ছাত্রী প্রতিবাদ করলে পরিমল তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়। পরে ২১ জুন বিষয়টি বসুন্ধরা ভিকারুন্নিসা শাখার প্রধান লুৎফর রহমানকে খুলে বলা হলে তিনি ভেবে দেখবেন বলে আশ্বাস দেয়। ২২ জুন পরিমল স্কুলে আসলে শাখা প্রধানকে বিষয়টি আবারো বলা হয়। ২৩ জুন স্কুলে অবিভাবক সহ মিটিং করা হয়। ওই মিটিংয়ে ভিকারুন্নিসার অধ্যক্ষ হোসনে আরা বেগম উপ¯ি’ত ছিলো। শেষে গত ২৮ জুন পরিমলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে শাখা প্রধানের কাছে দশম শ্রেনীর সকল ছাত্রীর স্বাক্ষরিত আবেদন জমা দেয়া হয়। সেদিনও ওই শাখা প্রধান বলেন, ঘটনাটি অধ্যক্ষকে জানানো হয়েছে এবং বলেন আমার নীতিনির্ধারনী কোন ক্ষমতা নেই। পুরো বিষয়টিই অধ্যক্ষ ‘ডিল’ করেন। পরবর্তিতে এ বিষয়ে তাদের কোন ভূমিকা না থাকায় গত ৫ জুলাই ছাত্রীটির বাবা বাদি হয়ে বাড্ডা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পরিমল জয়ধর, অধ্যক্ষ হোসনে আরা এবং বসুন্ধরা শাখার প্রধান লুৎফর রহমানকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ৬ জুলাই পরিমল জয়ধরকে কেরানীগঞ্জের পরিমলের স্ত্রীর বড় বোনের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে পরিমল কারাগারে আছেন। পরিমল ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলা বিভাগের শিক্ষক হিসাবে যোগ দেন। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ার লাটেংগা গ্রামের বাসিন্দা।