রংপুর হটনিউজ স্পেশাল

ফেলানীর বাবা ও মামা ভারত থেকে এখন গ্রামের বাড়িতে

download (6)ডাঃ জি এম ক্যাপ্টেন, কুড়িগ্রামঃভারতের আদালতে সাক্ষ্য দান শেষে কুড়িগ্রামে ২০ আগষ্ট মঙ্গলবার লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থল বন্দর দিয়ে ৪ সদস্যের বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল কোচবিহার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং বিকেল সাড়ে ৫টায় কুড়িগ্রামের বিজিবি’র ৪৫ ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। তারপর কুড়িগ্রাম ৪৫, বিজিবি অধিনায়ক লে.কর্ণেল জিয়াউল হক খালেদ ফেলানীর বাবা ও মামাকে তাদের গ্রামের বাড়ি ফুলবাড়ি উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তবর্তী এলাকায় পৌঁছান। তারা তাদের বাড়িতে ফিরে গেলে ঐ এলাকায় আদালতে সাক্ষ্য দেয়ার কথা শুনতে এলাকাবাসীরা তার বাড়িতে ভিড় করেন। অন্যদিকে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন ফেলানীর মা জাহানারা বেগম ও ভাইবোনসহ পরিবারের অন্যান্য সকল সদস্য। বৃহস্পতিবার ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম জানান, ভারতের আদালতে সাক্ষ্য দিতে আমি কোন ভয় পাইনি এবং ভালভাবে সাক্ষ্য দিয়েছি। আদালতের লোকজন আমাকে অনেক প্রশ্ন করেছেন আমি তার সব উত্তর দিয়েছি। বাংলায় উত্তর দিয়েছি উনারা তা ইংরেজি করে শুনিয়েছেন। আমি বলেছি আমার চোখের সামনে ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করেছে। এসময় আদালতে উপস্থিত সেই ঘাতক বিএসএফ সদস্য অমীয় ঘোষকে আমি চিনতে পেরেছি যে উনিই আমার মেয়েকে গুলি করেছিলেন। তিনি পরিবারের সকলের সাথে থেকে এসব কথা বলতে বলতে কেদে ফেলেন। তিনি জানান,এরপরও যদি ন্যায় বিচার না পাই তাহলে আমার মাইয়াডার (মেয়ে ফেলানী) আতœা শান্তি পাইবনা। আমরা সকলেই এখন রায়ের অপেক্ষায় আছি। ফেলানীর মামা আব্দুল হানিফ জানান, আমাদের সাক্ষ্য দেয়া শেষ হয়েছে এখন আমরা দেখব কবে এবং কী রায় হয়?তিনি আরও জানান,আমরা ভারতেই শুনেছি আদালতে আরও অনেকে সাক্ষ্য দেবেন তারপর বিচারের রায় ঘোষনা করা হবে। ফেলানীর মা কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান,আমার স্বামী ও ভাই সাক্ষ্য দিয়ে ভারত থেকে এসেছে । তাদের কাছে আমি শুনেছি, তারা যেভাবে আমার মাইয়াডারে( মেয়েটাকে) মেরেছে তা ঠিকঠিক আদালতে দাড়িয়ে তারা বলেছেন। এজন্য আমি মা হিসেবে খুশি হয়েছি হয়ত একটা ন্যায্য বিচার পাব। সঠিক বিচার না হলে আমগো ( আমাদের ) মাইয়াডা ( মেয়েটা ) কবরে অনেক কষ্ট পাবে শান্তিতে ঘুমোতে পারবেনা। তবে সে রায়ের অপেক্ষায় আমরা আছি।

কুড়িগ্রাম ৪৫, বিজিবি অধিনায়ক লে.কর্ণেল জিয়াউল হক খালেদ জানান, ফেলানীর বাবা ও মামাকে ভারত নিয়ে যাওয়া-আসা সকল খরচসহ ফেরার পর নগদ কিছু টাকা পয়সা খরচ দিয়ে গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান,ভারত থেকে ফিরে আসার পর গত ২০ ও ২১ আগষ্টও বিচার কাজ চলেছে বলে জেনেছি। তবে এ বিচার কার্যে সাক্ষ্যদান আরও কয়েকদিন চলবে তারপর রায় ঘোষনা হবে। এখন শুধু অপেক্ষার পালা।