অর্থ ও বাণিজ্য খুলনা

কুষ্টিয়াসহ দেশের ১৫ টি চিনিকলে ৫৮১ কোটি টাকার চিনি অবিক্রিত

images (1)কাঞ্চন কুমার,কুষ্টিয়া:বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প সংস্থা ( বিএসএফআইসি)’র অধিন দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ১৫টি চিনিকল বর্তমান এক সংকটাপন্ন অবস্থায় পতিত হয়েছে। দেশের উত্তর-দক্ষিনাঞ্চলের একমাত্র ভারী শিল্প তথা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চালিকা শক্তি চিনি শিল্পে কর্মরত ২৬ হাজার শ্রমিক/কর্মচারী, এ শিল্পে ব্যবহৃত একমাত্র কাঁচামাল আখ উৎপন্নকারী প্রায় ৭০ লক্ষ আখ চাষী তথসহ লক্ষ লক্ষ শ্রমজীবি মানুষ এ শিল্পের উপর নির্ভরশীল। দেশের পূজিবাদী আর ধণিক শ্রেণীর কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের কারনে চিনি শিল্পের জন্য সহায়ক নীতিমালা পরিবর্তন করে আতœঘাতী নীতিমালা প্রণয়ন করে এ শিল্পকে এক গভীর সংকটের মধ্যে ঠেলে দেয়া হয়েছে বলে অভিমত অভিজ্ঞ মহল ও চিনি শিল্পের সাথে জড়িত সংশ্লিষ্টদের। বে-সরকারী পর্যায়ে উৎপাদিত রিফাইনারীজ সুগার মিল গুলোর চিনির উৎপাদন খরচের সাথে সামঞ্জস্য না থাকায় বাজার প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে না রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ১৫টি চিনিকল। যে কারণে উৎপাদিত চিনি দির্ঘ দিন অবিক্রিত অবস্থায় গুদামেই পড়ে থাকছে। গত ২০১২-১৩ মাড়াই মৌসুমে মোট ১ লক্ষ ৭১ হাজার ২৩ মে:টন চিনি উৎপাদন করেছে রাষ্ট্রায়াত্ত্ব চিনিকল গুলো। প্রাপ্ত তথ্য মতে বিগত ২০১১-১২ মাড়াই মৌসুমের উৎপাতি ৯ হাজার ১শত১৮ মে:টনসহ ১৫টি চিনিকলের গুদামে বর্তমানে ১ লক্ষ ১৬ হাজার ২ শত ৪১ মে:টন ৫শ’ ৮১ কোটি ২০ লক্ষ ৮২ হাজার টাকার চিনি অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তারমধ্যে কুষ্টিয়া চিনিকলের ৫ হাজার ৬ শত ৩৪ মে:টন মোট ২৮ কোটি ১৭লক্ষ টাকার চিনি অবিক্রিত রয়েছে। চিনিকল গুলোর নিয়োজিত ডিলাররা জানান, বে-সরকারী রিফাইনারীজ সুগার মিলের চিনি পাইকারী ৫০ কেজির বস্তা ২১ থেকে ২২শ’ টাকার স্থলে সরকারী চিনিকলের উৎপাদিত চিনি ২৫শ’ টাকায় বাজারে বিক্রি হচ্ছে। যে কারণে তারা বাজারে চিনির মূল্য অসামঞ্জস্য থাকায় রাষ্ট্রায়ত্ত্ব চিনিকল গুলোর উৎপাদিত চিনি উ্্ত্তোলন করছেন না। একটি সূত্রে জানা যায়, সরকারী ও বে-সরকারী পর্যায়ে দেশে পর্যাপ্ত পরিমানে আমদানীকৃত চিনির মজুত রয়েছে। দেশে বার্ষিক চিনির চাহিদা ১৩ থেকে ১৪ লক্ষ মে:টন। সেখানে চাহিদার অতিরিক্ত চিনি দেশে মজুত থাকায় ও রিফাইনারীজ সুগার ব্যবসায়ীদের কবলে পড়ে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব চিনিকল গুলো উৎপাদিত চিনি বিক্রি করতে না পারায় বছরেরও অধিক সময় গুদামে পড়ে থাকতে হচেছ। ফলে আদ্রতার কারণে চিনির গুনগতমান কমে যাচেছ, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচেছ চিনিকল গুলো। সেই সাথে সুদসহ ব্যাংকের কাছে ঋনের বোঝা বেড়ে চলেছে। চিনি শিল্পের একমাত্র কাঁচামাল আখচাষে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার অভাব, আখের ফলন বৃদ্ধি করনে লাগসই প্রযুক্তি ব্যবহার করে উচ্চ ফলনশীল ও স্বল্প মেয়াদী আখ উৎপন্ন করতে না পারায় বিগত বছর গুলোর তুলনায় পর্যাপ্ত আখের অভাবে বর্তমান বছর গুলোয় চিনিকল গুলোতে চিনির উৎপাদন অনেকাংশে কমে গেছে । চিনি শিল্পে নিয়োজিত কর্মকর্তারা জানান, চিনি শিল্পকে বাঁচাতে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের ন্যায় সরকার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সমূদয় চিনি ক্রয় করে মজুত রেখে উৎপাদন খরচের সাথে সামঞ্জস্য রেখে চিনির একই মূল্য নির্ধারন করে বাজার নিয়ন্ত্রন করলে চিনি শিল্পকে বাঁচান সম্ভব। সেই সাথে বহুমূখী উৎপাদন ব্যবস্থার আওতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন প্লান্ট, সুগার প্রসেস প্লান্ট, ডিস্টিলারীজ স্থাপন করে চিনিকল গুলোকে সারা বছর চলমান রাখতে পারলে এই শিল্পকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব। সংশ্লিষ্টরা বললেন, চিনি শিল্পের জন্য সরকারের বর্তমান নীতিমালা কোনভাবেই সহায়ক নয়’এশিল্পকে বাঁচাতে সরকারকে পূর্বের ন্যায় এবং আরো কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

চিনি অবিক্রিত থাকায় ব্যাংকের ঋনের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প সংস্থা (বিএসএফআইসি)’র ১৫টি চিনিকলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের বেতন প্রদান। প্রায়শ: বেতনের দাবীতে স্বস্ব চিনিকলের কর্মকর্তাসহ শ্রমিক নেতাদের ঢাকাস্থ বিএসএফআইসি’র চিনি ভবনে দেন-দরবার করতে হচ্ছে। বাংলাদেশ চিনিকল শ্রমিক ও কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক রেজাউল করিম জানান, চিনি শিল্পের স্বার্থ তথা শ্রমিক ও কর্মচারীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের উপর মহলে তারা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।