অর্থ ও বাণিজ্য আন্তর্জাতিক

পাট নিয়ে যৌথ কাজ করবে বাংলাদেশ-ভারত

pat-silpo--BG-72520130822062111স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, কলকাতা,হটনিউজ২৪বিডি.কম: ইন্ডিয়ান জুট ইনস্টিটিউট রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে পাট এবং পাটজাত সামগ্রী বিষয়ে কলকাতায় এক আলোচনা সভা বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় অনুষ্ঠিত হয়।

এই আলোচনা সভায় বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন- আবদুল লতিফ সিদ্দিকী এমপি, কলকাতায় বাংলাদেশের উপ হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম প্রমুখ।

ভারতের পক্ষে ছিলেন ন্যাশনাল জুট বোর্ড–এর সম্পাদক অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, ইন্ডিয়ান জুট ইনস্টিটিউট রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রাঘবেন্দ্র গুপ্ত। রাঘবেন্দ্র ভারতের পাটজাত শিল্পের অবস্থান বর্ণনা করেন।

তিনি বলেন, পাটজাত বিভিন্ন পণ্য ভারতে তৈরি হচ্ছে। এই পণ্যগুলির চাহিদাও বাড়ছে বলে তিনি সভায় মত প্রকাশ করেন। তবে তিনি জানান, প্রতিযোগিতা মূলক বাজারে যদিও পাটজাত দ্রব্য কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে তবে মান উন্নয়ন করতে পারলে চাহিদা বাড়বে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন আগামী দিনে যৌথ তৎপরতায় ভারত ও বাংলাদেশ পাটজাত দ্রব্য নিয়ে কাজ করবে।

আবদুল লতিফ সিদ্দিকী মনে করিয়ে দেন বাংলাদেশের উর্বর মাটিতে খুব ভালো মানের পাট পাওয়া যায়। যা ভারত চাইলে সহজেই ব্যবহার করতে পারে। তিনি মনে করিয়ে দেন গোটা বিশ্বে ভারত এবং বাংলাদেশ ছাড়া আর কোন দেশ পাট নিয়ে তেমন উল্লেখ যোগ্য কাজ করছে না।

তিনি বলেন গোট বিশ্বে পাটজাত পণ্যের বড়বাজার রয়েছে। চেষ্টা করলে সেই বাজারকে আরও বৃদ্ধি করা যায়। আবদুল লতিফ সিদ্দিকী উপস্থিত ভারতের প্রতিনিধিদের স্মরণ করিয়ে দেন যে- তারা যেন চীনের বিরাট বাজারের কথা যেন ভুলে না যায়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পাটের মান খুবই ভালো ভারতে রয়েছে অনেক পাটজাত পণ্যের কারখানা। এগুলিকে শক্তিশালী করে গোটা বিশ্বে পাটজাত পণ্যের ব্যবসা বাড়ান যায়। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে বড়ো বাজার রয়েছে। কিন্তু সেই বাজার ধরতে গেলে দরকার ভাল মানের পাটের সঙ্গে উন্নত প্রযুক্তি।

আলোচনায় উঠে আসে দেশ ভাগের ফলে ভারতের দিকে থাকে পাটের কারখানাগুলি আর বাংলাদেশের পাটের জমি। আর মাঝে কাঁটা তারের বেড়া- আর সমস্যার শুরু ঠিক এই জায়গা থেকেই।

আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, দুই বাংলার ভাষা এক, সংস্কৃতি এক তার মধ্যে বৈষম্যের চোরা স্রোতকে স্থান দিলে চলবে না। তিনি রাখি উৎসবের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন কবিগুরু গঙ্গা স্নান করে প্রথম রাখিটি পড়িয়েছিলেন নাখোদা মসজিদের ইমামের হাতে।

তিনি বলেন এটাই বাঙালির ঐতিহ্য, আর এই বন্ধুতাকেই সামনে রেখে দুই দেশের উচিৎ পরস্পরের দিকে এগিয়ে আসা। খোলামেলা এই আলোচনায় উঠে আসে পাটজাত দ্রব্য ব্যবহার না করে চীনের তৈরি রাসায়নিক সামগ্রীর ব্যবহারের দিকে ভারতের প্রবণতার কথা।

খুব প্রাসঙ্গিকভাবেই উঠে আসে তিস্তা চুক্তির প্রসঙ্গ। আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন তার বিশ্বাস তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এই ব্যাপারে তিনি ভারত সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বৈমাত্রাসুলভ আচরনের হতাশা ব্যক্ত করেন।

তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন এই সমস্যার সমাধান খুব দ্রুত বেড়িয়ে আসবে।আলোচনা সভা শেষে ভারতের প্রতিনিধিরা সহমত পোষণ করে বলেন, আগামী দিনে পাটজাত পণ্যের বাজার ধরার জন্য তারা প্রযুক্তি গত উন্নয়নের দিকে বেশি করে জোর দেবেন।

সভায় উপস্থিত সকলেই আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী দিনে দুই দেশ হাতে হাত মিলিয়ে পাটজাত পণ্যের উন্নয়ন ও বিপণনে উদ্যোগ গ্রহণ করবে।