জাতীয় রাজশাহী

নাটোরের আহম্মেদপুর-গুরুদাসপুর সড়কের দূরাবস্থা

NATORE-22.08.13-1মোঃ মাহফুজ আলম মুনী, নাটোর থেকে :নাটোরের আহম্মেদপুর-গুরুদাসপুর পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার সড়কের দূরাবস্থার কারণে ওই পথে প্রায় আট বছর ধরে ভারী কোন যানবাহন চলাচল করতে পারছেনা। বছরের পর বছর সংস্কার না করায় সড়কটির কার্পেটিং উঠে গিয়ে ছোট বড় অসংখ্য খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে ওই সড়ক দিয়ে বড় কোন যানবাহন চলাচল করতে পারছেনা। এদিকে সড়কটি সংস্কার ও পূণঃনির্মাণের দাবিতে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে এলাকায় মিছিল-মিটিং, পোষ্টারিং আর মানববন্ধন কর্মসুচি অব্যাহত রয়েছে। রাস্তাটি অকেজো থাকায় গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে দশ থেকে পনের কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে পাশের বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়ক হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে করে যাতায়াতকারীদের বেশী সময় ও অতিরিক্ত অর্থ গুণতে হচ্ছে। সেই সাথে বাড়ছে জনদুর্ভোগও। নাটোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ বাদেশ আলী জানান, অর্থ বরাদ্দ না থাকায় সড়কটি বছরের পর বছর ধরে সংস্কার করা যায়নি। এখন রাস্তার পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে পুনঃনির্মাণ ছাড়া আর কোন উপায় নেই। এজন্য প্রায় দশ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন। টাকা না পাওয়ায় বরাদ্দ মিলছেনা। এতে করে সড়কটি কার্যত পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে। এব্যাপারে বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর এলাকার সরকার দলীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোঃ আব্দুল কুদ্দুস দাবি করেন, জনগুরুত্বপুর্ণ ওই সড়কটি সংস্কারের জন্য তিনি যোগাযোগ মন্ত্রীকে ধরে চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে এক কোটি টাকা ছাড় করান কিন্তু ওই বরাদ্দের শতকরা ৯০ ভাগই নাটোর সদরে ব্যয় করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগটি সওজ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ বাদেশ আলী অস্বীকার করেছেন। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বড়াইগ্রাম উপজেলার আহম্মদপুর বাসষ্ট্যান্ড থেকে রাজাকার মোড় পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। অবস্থা এতটাই খারাপ যে, এখন পায়ে হেঁটে চলাও দুস্কর। রাজাকার মোড় থেকে লক্ষীকোল বাজার পর্যন্ত তিন কিলোমিটিার রাস্তা এখনও কিছুটা চলাচলের উপযোগী রয়েছে। লক্ষীকোল বাজার থেকে রয়না ভরট স্কুল পর্যন্ত চার কিলোমিটার সড়কের অবস্থা এতটাই খারাপ যে, বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি বড়াইগ্রামের জালশুকা বাজারের দক্ষিণপাশ থেকে গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় ত্রিমোহনা ব্রিজ পর্যন্ত সড়কটি ছোট বড় খানা-খন্দে ভরে গেছে। বিধস্ত সড়কটিতে ঝুঁকি নিয়ে কেবল স্থানীয় যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। স্থানীয় রাজনীতিবিদ শ্রী রমানাথ মাহাতো বলেন, সড়কটি সংস্কার না করায় আট বছর ধরে ভারী যানবাহন চলাচল করছেনা। মোটরসাইকেল আর নছিমন চলাচল করছে অনেক ঝুঁকি নিয়ে। সড়কটি সংস্কার না করায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দূর্ঘটনা। কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে তার সংগঠনের পক্ষ থেকে এলাকায় মানববন্ধন কর্মসুচি পালনসহ সংশিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেও কাজ হয়নি। বড়াইগ্রাম পৌরসভার মেয়র ইসাহাক আলী বলেন, সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে জেলা সমন্বয় কমিটির মিটিংয়ে বারবার তুলে ধরা হলেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি। এখন সড়কটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। মৌখাড়া হাটের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাজেদুল বারী জানান, এক সময় এই সড়ককে ঘিরে বড়াইগ্রামের লক্ষীকোল আর মৌখাড়া বাজার গড়ে উঠেছিল। এই রাস্তা দিয়েই দেশের বিভিন্ন মোকাম থেকে মালামাল আনা নেওয়া করা হতো। এখন সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় ব্যবসায় মন্দাভাব শুরু হয়েছে। মৌখাড়া হাট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক প্রধান জানান, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এ হাটে মালামাল কিনতে আসেন কিন্তু সড়কটি খারাপ হওয়ায় ব্যাপারীরা আর এই হাটে আসতে চান না। এতে স্থানীয় কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বড়াইগ্রাম ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আফসার আলী জানালেন, সড়কটির দৈন্যদশার কারণে শুধু ব্যবসা বাণিজ্য নয়-সড়কের পাশে গড়ে ওঠা সাতটি মহাবিদ্যালয়, নয়টি হাইস্কুল, সাতটি মাদ্রাসা ও দশটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। জেলা পরিবহন মালিক সমিতির বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর এলাকার সভাপতি দুলাল সরকার জানান, সড়কটির দূরাবস্থার কারণে গুরুদাসপুর থেকে সকল বাস-ট্রাক পাশের বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়ক হয়ে জেলা সদরে চলাচল করছে। এতে জ্বালানি খরচ বাড়ছে। সেই সাথে আয়ও কমেছে অথচ এক সময়ে সড়কটি ব্যবহার করে লাভবান হয়েছে মালিক-শ্রমিকরা।