জাতীয় ঢাকা

সময় মাসখানেক, রাতদিন খেটেও অনিশ্চয়তা

Gulistan-bg20130821190554স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,হটনিউজ২৪বিডি.কম,ঢাকা: ২২ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন সম্ভাবনার কথা বলা হলেও রাজধানীর গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হবে কিনা সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

রাতদিন ২৪ ঘণ্টা কাজ চললেও ফ্লাইওভারটির (মেয়র মোহ‍াম্মদ হানিফ ফ্লাইওভার) প্রস্তুতি এখনো সন্তোষজনক অবস্থায় আসেনি বলছেন সংশ্লিষ্টদের অনেকেই।

তাদের মতে, এর আগেও প্রায় তিন দফায় ফ্লাইওভারের কাজ শেষের সময়ছুঁট হয়েছে। এবারও তেমনই পরিস্থিতি রয়ে গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা হটনিউজকে বলেন, অনেক হিসেব করে দেখেছি আমরা, সম্পূর্ণ কাজ নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করা প্রায় অসম্ভব। ওপর মহল থেকে খুব চাপ আসছে। তারা এটা রেডি দেখতে চায়। সেজন্য মোটামুটি চলনসই করে হলেও চেষ্টা করছি রেডি করে দিতে।

তিনি বলেন, সবাইকে বলছি পাঁচ থেকে ১০ ভাগ কাজ বাকি রয়েছে, হয়ে যাবে সময়মতো। তবে সত্যটা হলো, আমরা নিজেরাও জানি না সেটা সম্ভব কিনা।

অবশ্য কর্তব্যরতদের একটি অংশ আশা করছেন, লোকবল ও প্রযুক্তি যে হারে বাড়ানো হয়েছে তাতে এবার কাঙ্ক্ষিত সময়েই কাজ শেষ হবে।

তারা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ সংশ্লিষ্ট অনেকেই অনবরত এই ফ্লাইওভারের বিষয়ে খোঁজখবর করছেন।

২২ আগস্ট দিবাগত রাতে এর নির্মাণ কাজ তদারকিতে থ‍াকা ইঞ্জিনিয়ার শাহীন হটনিউজকে বলেন, ২২ সেপ্টেম্বরের আর পুরো একমাসও নেই। নির্মাণকাজ দেখতে প্রধানমন্ত্রী আসার কথা শুনতে পাচ্ছি। আজ (বৃহস্পতিবার) দিনের বেলা তিনি হয়তো যেকোনো একটা সময়ে আসবেন। তাই কাজের অগ্রগতি বাড়ানো ও পরিচ্ছন্নতার দিক জোর দিচ্ছি সবাই।

তিনি বলেন, ২৪ ঘণ্টা কাজ চলছে। চেষ্টা করছি পুরো কাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করতে।

শাহীন জানান, বর্তমানে রাস্তা, পানি নিষ্কাশনে ড্রেন তৈরি ও ক্যানোপি তৈরির কাজ চলছে। আর গুলিস্তান অংশে ইপি-২৭ থেকে ইপি-৩০ পর্যন্ত মোট চারটি সেগমেন্ট লাগানোর কাজ বাকি রয়েছে।

প্রতি সেগমেন্টে স্বাভাবিকভাবে চার থেকে পাঁচদিন সময় লাগে বলে জানান তিনি। তাই যদি কোনো সমস্যা না দেখা দেয় তাহলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা যাবে বলে তার আশা।

শ্রমিকদের একপক্ষ গায়ে সেফটি ক্রস লাগিয়ে কাজ করছেন, অন্যপক্ষ সেটা ছাড়াই।

এ বিষয়ে শাহীন বলেন, যারা বিভিন্ন দিকের কাজেই হাত লাগাচ্ছেন, যেমন- যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, গুলিস্তান বা এদিক-ওদিক যাচ্ছেন, তারা এই ক্রস পরছেন নিরাপত্তা পেতে। তাদের পুলিশরাও সাহায্য করে। আর যারা নির্দিষ্ট একটি জায়গায় কাজ করেন, তাদের ক্রস পরতে হয় না।

ফ্লাইওভারের কাজে যেন কোনো ব্যাঘাত না ঘটে সেজন্য ২৪ ঘণ্টাই থাকছে পুলিশি প্রহরা। নিরাপত্তা, সন্ত্রাসী হামলা ঠেকাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

হরতাল, অবরোধ, ধর্মঘটসহ রাজনৈতিক উত্তাল পরিস্থিতি ও বৃষ্টিতে নির্মাণকাজ পিছিয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, বেসরকারি অর্থায়নে নগরীর সবচেয়ে বড় ফ্লাইওভার এটি।

২০১০ সালের জুনের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন। এটি নির্মাণ করছে ওরিয়ন গ্রুপ। টোল আদায় করে নির্মাণ ব্যয় তুলে নেবে কোম্পানিটি। এরপর এটি ডিসিসির কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ফ্লাইওভারটির ধারণক্ষমতা ২০০ টন এবং স্থায়ীত্বকাল ১০০ বছর। এটি ৩৮টি জেলার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করবে।

দৈর্ঘ্য ও আনুষঙ্গিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় এর নির্মাণ ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১০৮ কোটি টাকায়।

এর আগেও তিনদফা সময় বেধে দিয়ে কোনো লাভ হয়নি, উদ্বোধন করা যায়নি এই ফ্লাইওভার।

গত ডিসেম্বরে প্রথম দফা, চলতি বছর ২৬ মার্চ ২য় দফা এ ফ্লাইওভার উদ্বোধনের কথা ছিল। এরপর ৩০ জুনের মধ্যেও প্রকল্প শেষ করার কথা ছিল, কিন্তু হয়নি।

এদিকে, ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজের কারণে এই রুটের যাত্রীদের জীবন প্রায় দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ঢাকার কাছাকাছি জেলা ছাড়াও দূরপাল্লার ৩৮টি জেলার যাত্রী ও পরিবহনগুলো পড়েছে বিপাকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে বসে থাকতে হচ্ছে বলে অভিযোগ এসব যাত্রীর।