অপরাধ ঢাকা

আইসিএল চেয়ারম্যানসহ ১০ পরিচালককে দুদকে তলব

dudok-ICL20130821082116সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট,হটনিউজ২৪বিডি.কম,ঢাকা: গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আইডিয়াল কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের (আইসিএল) চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদের ১০ পরিচালককে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) সশরীরে হাজির হতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার বিকেলে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে তাদের নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে সেপ্টেম্বর মাসের ২ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে তাদের হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে।

এ ঘটনায় গঠিত প্রধান অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ও দুদকের উপ-পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন বাংলানিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

যাদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে তারা হলেন- প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম, পরিচালক মো. খায়রুল ইসলাম, কাজী শামসুর নাহার মিনা, আশরাফুল ইসলাম (ইমরান), শেখ আহমেদ, এস এম মোরশেদ জুয়েল, মো. সাইফুজ্জামান (মার্শাল), মো. আনিসুর রহমান (বাবু), মো. আবুল হাশেম এবং এ টি এম খোরশেদ আলম।

দুদকে আসা অভিযোগে দেখা যায়, আইসিএল ২০০১ সাল থেকে দ্বিগুণ মুনাফার লোভ দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে হজ আমানত, ডিপিএস, মাসিক মুনাফা, দ্বিগুণ বৃদ্ধি আমানত, শিক্ষা আমানত, আবাসন আমানত, ব্যবসায়িক আমানত, দেনমোহর আমানত, কোটিপতি ডিপোজিট স্কিম, লাখপতি ডিপোজিট স্কিম প্রকল্পের নামে অর্থ সংগ্রহ করে।

জানা গেছে, এ প্রতিষ্ঠানের পাঁচ লাখ গ্রাহকের কাছ থেকে সংগৃহীত আমানতের পরিমাণ প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শফিকুর রহমান।

অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এমডির অন্যতম সহযোগী ছিলেন তার স্ত্রী ও আইসিএল গ্রুপের পরিচালক কাজী সামসুন নাহার মিনা, শ্যালক ও পরিচালক কাজী ফখরুল ইসলাম, ভাগ্নে ও পরিচালক শেখ আহামেদ এবং ঘনিষ্ট বন্ধু পরিচালক এসএম মোর্শেদ জুয়েল।

আইসিএল গ্রুপের নাম সর্বস্ব ১৩টি প্রতিষ্ঠান ফেলে রেখেই উধাও হয়ে যান গ্রুপটির মূল উদ্যোক্তা ও এমডি শফিকুর রহমানসহ পরিচালনা পর্ষদের অন্য সদস্যরা।

বর্তমানে তালা ঝুলছে রাজধানীর পুরানা পল্টনে প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানের ৩৬টি শাখা কার্যালয়ে। প্রায় পাঁচ লাখ গ্রাহক তাদের সর্বস্ব খুইয়ে এখন দিশেহারা।

দুদক জানায়, পরিচালনা পর্ষদের ওই ১০ সদস্যর জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলেই দুর্নীতির মূল হোতা গ্রুপের এমডিকে পুনরায় নোটিশ দেওয়া হবে। এর আগে নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি দুদকে হাজির হননি।