জাতীয় হটনিউজ স্পেশাল

প্রতারণার কাজে রোগীর নামে সিম ব্যবহার করতেন সাবরিনা!

হটনিউজ ডেস্ক:

দীর্ঘদিন ধরে ডা. সাবরিনা এক রোগীর নামে নিবন্ধিত মোবাইল সিম ব্যবহার করে সেটি প্রতারণার কাজে ব্যবহার করে আসছিলেন- এমনটাই জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র।

রিমান্ডে সাবরিনা দাবি করেছেন, ওই সিম কার নামে নিবন্ধিত তা তিনি জানতেন না। তবে পুলিশ বলছে, অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করা বড় ধরনের অপরাধ। কারণ এই সিম ব্যবহার করে বড় ধরনের অপরাধ করে তার দায় অন্যের ওপর চাপানো যায়।
বিষয়টি যাচাই করতে সাবরিনার গাড়ির চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পেরেছে, প্রায় এক বছর ধরে সাবরিনা এই সিম ব্যবহার করছেন। জালিয়াতির মামলায় গ্রেপ্তার আরিফুলের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রিমান্ডে সাবরিনা দাবি করেন, দুই মাস আগে তাঁদের তালাক হয়ে গেছে।

পুলিশ জানায়, জেকেজি হেলথকেয়ার থেকে এখন পর্যন্ত ২৭ হাজার রোগীকে করোনাভাইরাস পরীক্ষার প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৫৪০ জনের নমুনা আইইডিসিআরের মাধ্যমে পরীক্ষা করানো হয়েছিল। বাকি ১৫ হাজার ৪৬০টি প্রতিবেদন তৈরি করা হয় জেকেজি কর্মীদের ল্যাপটপে।

সরকারের কাছ থেতে বিনা মূল্যে নমুনা সংগ্রহের অনুমতি নিয়ে বুকিং বিডি ও হেলথকেয়ার নামে দুটি সাইটের মাধ্যমে টাকা নেওয়া এবং নমুনা পরীক্ষা ছাড়াই ভুয়া সনদ জালিয়াতি করার অভিযোগে গ্রেপ্তার জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান ও জাতীয় হৃদেরাগ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ডা. সাবরিনা চৌধুরীর মোবাইল ফোন চেক করে নানা ধরনের অনেক মেসেজ পেয়েছে পুলিশ।

প্রতিটি মেসেজের শুরুতেই সাবরিনা নিজেকে জেকেজির চেয়ারম্যান দাবি করেন বলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদকারী ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে সাবরিনাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে। এরই মধ্যে তিনি কিভাবে প্রতারণার ফাঁদ পেতে করোনা নমুনা পরীক্ষা ছাড়াই ভুয়া সনদ দিতেন সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।

সূত্র জানায়, ডা. সাবরিনা বিভিন্ন স্থানে নিজেকে একাধিক পরিচয় দিয়েছেন। কোনো কোনো স্থানে নিজেকে জেকেজির অনারারি আহ্বায়ক, কোনো স্থানে উপদেষ্টা, আবার জেকেজির অফিসিয়াল কর্মকান্ডে নিজেকে চেয়ারম্যান বলেই পরিচয় দিয়েছেন। এ ধরনের তথ্য প্রমাণাদি এখন পুলিশের হাতে। তিনি নমুনা সংগ্রহের জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দিতেন চেয়ারম্যান হিসেবে। এ ধরনের ম্যাসেজ ও চিঠিপত্র রয়েছে তদন্তকারী সংস্থার কাছে। গুলশান থানায় সাবরিনা একটি জিডি করেন তার একজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে। তাতে নিজেকে জেকেজির অনারারি আহ্বায়ক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সূত্র জানায়, অনুমোদনহীন জেকেজির সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতর নমুনা সংগ্রহের চুক্তি করে ১৬ এপ্রিল। জেকেজির এ সময় কোনো ট্রেড লাইসেন্স পর্যন্ত ছিল না। চুক্তি করার দু’মাস পর ১৬ জুন জেকেজির ট্রেড লাইসেন্স করা হয়। যার মালিক জেবুন্নেসা রীমা। জেবুন্নেসা হলেন সাবরিনার স্বামী আরিফ চৌধুরীর বোন। তিনিও প্রতারণা মামলার আসামি।