জাতীয় ঢাকা রাজনীতি

ইতিহাসের ভয়ানক দিন ২১ আগস্ট

i-smndex20130820091429স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, হটনিউজ২৪বিডি.কম,ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আরও একটি কলঙ্কের দিন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর তার উত্তরসূরি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টার দিন।

তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ৯ বছর আগে ২০০৪ সালের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটেছিল। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিচালিত পৈশাচিক ওই হামলায় প্রাণ হারিয়ে ছিলেন আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা আইভী রহমানসহ ২৪ জন। আর আহত হয়েছিলেন প্রায় চারশ’ নেতাকর্মী।

সেদিন অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনাকে মানববর্ম তৈরি করে তার প্রাণ রক্ষা করেছিলেন আওয়ামী লীগের নেতারা। তবে নারকীয় হামলায় বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার প্রাণ রক্ষা পেলেও তার শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়ে তিনি কিছুটা সুস্থ হলেও আজো সেই স্মৃতি তাকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়।

আহতদের অনেকেই পঙ্গুত্বের অভিশাপ নিয়ে বেঁচে আছেন। অনেকেই এখনও শরীরে গ্রেনেডের স্প্লিন্টার বয়ে বেড়াচ্ছেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সারাদেশে বোমা হামলা এবং গোপালগঞ্জে পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। বিকাল ৪টার দিকে সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশের পর শোক মিছিলের কর্মসূচি ছিল।

বিকাল সাড়ে ৪টা নাগাদ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। সমাবেশের প্রধান অতিথি শেখ হাসিনা বিকাল ৫টার দিকে সমাবেশস্থলে পৌঁছান। তিনি বুলেটপ্রুফ মার্সিডিজ বেঞ্জ জিপ থেকে নেমে নিরাপত্তাকর্মী বেষ্টিত অবস্থায় একটি ট্রাকের ওপর তৈরি মঞ্চে উঠে বক্তৃতা শুরু করেন। বক্তৃতায় দেশব্যাপী অব্যাহত বোমা হামলার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

২০ মিনিটের বক্তৃতা শেষে তিনি ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ উচ্চারণ করে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করার ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিকাল ৫টা ২২ মিনিটে দক্ষিণ দিক থেকে মঞ্চকে লক্ষ্য করে একটি গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। গ্রেনেডটি মঞ্চের পাশে রাস্তার ওপর পড়ে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। পরে একে একে আরো ১২টি গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়।

এ সময় কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারাসহ দলীয় নিরাপত্তাকর্মীরা শেখ হাসিনাকে ঘিরে রাখেন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে গাড়িতে করে সুধাসদনে নিয়ে যাওয়া হয়। শেখ হাসিনাকে বহনকারী গাড়ির ওপরও গুলিবর্ষণ করা হয়। নিক্ষিপ্ত তিনটি গ্রেনেড অবিস্ফোরিত থেকে যায়।

উপর্যুপরি বোমা হামলায় হতাহতদের রক্তে রক্তাক্ত হয়ে যায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ। বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন দলের নেতাকর্মীরা। তারা গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদ জানাতে থাকলে পুলিশ তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পুলিশ বিক্ষুব্ধ জনতার ওপর প্রথমে বেপরোয়া লাঠিচার্জ ও পরে কাঁদানে গ্যাসের সেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষুব্ধ জনতার দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পুলিশ নিরীহ পথচারীদেরও লাঠিপেটা করে।

গ্রেনেড বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, স্টেডিয়াম মার্কেট, বায়তুল মোকাররম মার্কেট, নবাবপুর রোড, নর্থ সাউথ রোড, পুরানা পল্টনসহ আশপাশের এলাকার দোকানপাট ও যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে পালাতে থাকেন লোকজন।

আহত তিন শতাধিক নেতাকর্মীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং শতাধিক নেতাকর্মীকে অন্যান্য হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।