অপরাধ ঢাকা রাজনীতি

ড্যান্ডি ডায়িং এর ঋণ খেলাপি : তারেক-কোকোসহ ১১ জনকে ১৯ সেপ্টেম্বর জবাব দাখিলের নির্দেশ

image_21384আদালত প্রতিবেদক : ড্যান্ডি ডায়িং এর ঋণ খেলাপের মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার ভাই আরাফাত রহমান কোকোসহ ১১ বিবাদীকে জবাব দাখিল করার জন্য শেষ বারের মতো আগামি ১৯ সেপ্টেম্বর জবাব দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ওইদিন বিবাদীরা জবাব দাখিলে ব্যর্থ হলে মামলাটি একতরফা শুনানির নির্দেশ দেয়া হবে। গতকাল ঢাকার এক নম্বর অর্থঋণ আদালত এর বিচারক রবি-উজ-জামান এ আদেশ দেন। গতকাল মামলার ৬ নম্বর বিবাদী বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বন্ধু ব্যাবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন ও তার স্ত্রী ৮ নম্বর বিবাদী শাহিনা ইয়াসমিনের পক্ষে জবাব দাখিলের জন্য সময়ের আবেদন করা হয়। এর আগে মামলার অপর বিবাদী প্রয়াত সাঈদ ইস্কান্দারের স্ত্রী নাসরিন আহমেদের পক্ষে জবাব দাখিল করা হয়। বাকী বিবাদীদের কেউই মামলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না। এই মামরার দায় থেকে মামুনের পক্ষে মামলা খারিজের আবেদন করা হলে বিচারক তা নথীভূক্ত রাখেন।

গত ২ অক্টোবর ৪৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ফেরত চেয়ে সোনালি ব্যাংকের মতিঝিল শাখার নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম এই মামলা করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে ২২ অক্টোবর জবাব দাখিলের জন্য বিবাদিদের বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দেয়। পরে মামলায় উল্লেখ করা বিবাদীদের ওই ঠিকানায় সাড়া না পেয়ে ১১ বিবাদিদের বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এই আদেশ দেন আদালত।

মামলার বিবাদীরা হলেন, ড্যান্ডি ডায়িং লিঃ, শামস এস্কান্দার, সাফিন এস্কান্দার, সুমাইয়া এস্কান্দার, তারেক রহমান, গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, আরাফাত রহমান, শাহীনা ইয়াসমিন, বেগম নাসরিন আহমেদ, কাজী গালিব আহমেদ, মিসেস শামসুন নাহার ও মাসুদ হাসান।

মামলায় বলা হয়, ১৯৯২ সালে তিন কোটি টাকা মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করে ড্যান্ডি ডায়িং। ১৯৯৩ সালের ৫ মে সোনালী ব্যাংক থেকে ১৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করা হয়। এরপর ১৯৯৬ সালে সাঈদ এস্কান্দারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পুনরায় ঋণ মঞ্জুর করেন। ২০১০ সালের ৪ এপ্রিল ড্যান্ডি ডায়িংকে দেওয়া ঋণের পরিমাণ ৪২ কোটি ৬৯ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। মামলায় আরো বলা হয়, ঋণ গ্রহণের প্রথম থেকেই প্রতিষ্ঠানটি খেলাপি হয়ে পড়ে। এরপরে সোনালী ব্যাংক থেকে বিবাদী প্রতিষ্ঠানকে কিস্তি পরিশোধের জন্য বারবার তাগাদা দিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এর আগে ২০০১ সালে সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রতিতষ্ঠানটির ১২ কোটি ১৬ লাখ টাকার সমপরিমাণ ঋণের সুদ মওকুফ করেছিল। মামলায় আরো বলা হয়, বিবাদীদের সোনালি ব্যাংক থেকে একাধিকবার ঋণ পরিশোধের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু বিবাদী প্রতিষ্ঠান ঋণ পরিশোধের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তাই ঋণের টাকা আদায়ের জন্য আদালতে এ মামলা করা হয়।