চট্টগ্রাম জাতীয় রাজনীতি

খালেদা জিয়ার মুখে রেলের উন্নয়নের কথা মানায় না-রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক

এস,এন, ইউসুফ ,`কুমিল্লা :রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক এমপি বলেছেন, যারা ক্ষমতায় থাকা কালে রেল লাইন তুলে নিয়েছে, যারা রেল ষ্টেশন বন্ধ করে দিয়েছে, যারা প্রতিদিন চলন্ত ট্রেন আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা ও রেলকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুখে এ কথা মানায় না। যিনি ক্ষমতায় থেকে একটি ট্রেন কিনতে পারেনী, একটি ষ্টেশন চালু করতে পারেনী, একটি রেল লাইন সংষ্কার করতে পারেনী তিনি আবার ক্ষমতায় গেলে রেলের উন্নয়ন করবে.? এদেশের জনগন জানে কার সময়ে দেশের শত শত রেল স্টেশন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। জনগন যানে কারা প্রতিদিন ট্রেনে আগুন দিয়ে ট্রেন পুড়ে দিচ্ছে। মন্ত্রী আজ ২০ আগষ্ট কুমিল্লা-আখাউড়া-ঢাকা-আখাউড়া রুটে

ডিজেল ইলেক্ট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (ডেমু) ট্রেন এর শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, রেল জনগনের সম্পদ দেশের সম্পদ যারা হরতালের নামে এবং রাজনৈতিক আন্দোলনের নামে রেলের ভিন্ন ক্ষতি সাধন করছে তারা দেশের শত্রু জাতির শত্রু। বিগত তিন-চার মাসে বিএনপি জামায়াতের হরতাল ও বিভিন্ন সহিংসতায় বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে এর পুরো টাকা বিএনপি-জামায়াতকে দিতে হবে। বর্তমান সরকারের আমলে রেলের যে উন্নয়ন হয়েছে তা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। আওয়ামীলীগই পারে দেশে উন্নয়ন করতে অন্যকেউ নয়। তাই স্বাধীনতা বিরোধী দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি কারীদের বিরুদ্ধে দেশের সকল জনগনকে সজাগ থাকতে হবে। এরা আবারো দেশকে পাকিস্তান বানাতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। রেলপথ মন্ত্রনালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে আয়োজিত আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহ আলম, র আ ম ওবায়দুল মুক্তাদির চৌধুরী এমপি, বেগম জোবায়দা খাতুন এমপি ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আবু তাহের।

 

বাংলাদেশ সরকার বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে ট্রেনের যাত্রীদের আধুনিক যাত্রীসেবা দেয়ার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে রাজধানীর সঙ্গে সমগ্র জেলায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে রেলপথকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার লক্ষ্যে অধিক সংখ্যক কমিউটার ট্রেন চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করে। ইতোপূর্বে ২০সেট মিটারগেজ ডিইএমইউ সম্পূর্ণ জিওবি অর্থায়নে সংগ্রহের লক্ষ্যে চাইনিজ একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে গত ০৪-০৮-২০১১ তারিখে চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত করে। যার ধারবাহিকতায় গত মার্চ মাস থেকে শুরু হয় ডেমু আমদানী। যা এই বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এসে পৌছার সময়সীমা থাকলেও ইতোমধ্যে সব কয়টি ট্রেন এসে পৌছে।

গত ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কমলাপুর রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে ঢাকা-নারয়নগঞ্জ রুটে সর্ব প্রথম চালু করে দেশের একমাত্র আধুনিক ডেমু ট্্েরন সার্ভিসের। ঢাকা-নারয়নগঞ্জের পর চট্টগ্রাম-লাকসাম এবং চট্টগ্রাম-ফৌজদারহাট এবং সর্ব শেষ গত ২১জুলাই ময়মনসিংহ-জয়দেবপুর রুটে যাত্রা শুরু করে ডেমুট্রেন। এরই ধারাবাহিকতায় একমাসের মধ্যে আজ ২০ আগষ্ট কুমিল্লা-আখাউড়া-ঢাকা-আখাউড়া রুটে আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু করেছে ডিজেল ইলেক্ট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (ডেমু) ট্রেন।

এই ট্রেন একবারে কমপক্ষে ৩০০ জন যাত্রী দ্রুত পরিবহন করতে পারবে। ট্রেনটি কুমিল্লা থেকে আখাউড়া ও ঢাকার উদ্দেশ্যে প্রতিদিন ভোর ৬টায় ছেড়ে যাবে। ঢাকা যাওয়ার পথে ১৬টি স্টেশনে যাত্রাবিরতি করে ঢাকায় পৌঁছবে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে। আবার দুপুর ১টায় ঢাকা থেকে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে ছেড়ে সন্ধ্যা ৭টায় কুমিল্লা রেলওয়ে ষ্টেশন এসে পৌছবে। আধা ঘন্টা বিরতির পর ট্রেনটি কুমিল্লা থেকে রাত সাড়ে ৭টায় ছেড়ে আখাউড়া রেল ষ্টেশনে পৌঁছবে রাত ৯টায়। রাতে আখাউড়ায় ট্রেনটির যান্ত্রিক পরীক্ষা ও জ্বালানি নিবে। রাত্রি যাপন শেষে ভোর সাড়ে চারটায় আখাউড়া থেকে ছেড়ে কুমিল্লা পৌঁছে সকাল ছয়টায় আবার ঢাকার পথে ছেড়ে যাবে।