অর্থ ও বাণিজ্য

পেঁয়াজ আমদানি স্বাভাবিক, আমদানি মূল্য দ্বিগুণ বৃদ্ধি

onion-bg20130819073458 (1)হটনিউজ২৪বিডি.কম: ভারত সরকার পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্য তিনশ ডলার থেকে বাড়িয়ে ছয়শ ৫০ ডলার করায় বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। তবে সোমবার হিলি স্থলবন্দরে দু’শ ১৫ মেট্রিকটন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।

বাংলাদেশে পেঁয়াজের চাহিদার বেশির ভাগ পূরণ হয় ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজে। তাই এর প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে। তবে ভারতীয় খোলা বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ভারতীয় ৩০ থেকে ৪০ রুপিতে।

ভারত অংশের হিলি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট দিবাকর বিশ্বাস হটনিউজকে জানান, ভারতে যে হারে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে এ আশঙ্কাতেই সবার মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এবার অতি বৃষ্টির জন্য নাসিকে পেঁয়াজের ফলন ভাল না হওয়ায় জোগান কমেছে। তাই জোগান না বাড়লে এর দাম আপাতত কমার সম্ভাবনা নেই বলে জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, সরকার পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি ঠেকাতে রপ্তানি মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে। পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে টন প্রতি ছয়শ ৫০ মার্কিন ডলার। যা আগে ছিলো তিনশ মার্কিন ডলার।

এদিকে হিলি স্থলবন্দরের কাঁচামাল আমদানিকারক গ্রুপের আহ্বায়ক হারুনুর রশীদ হারুন হটনিউজকে জানান, ভারত সরকার এক সপ্তাহ আগেও প্রতি মেট্রিকটন পেঁয়াজ বাংলাদেশে রপ্তানি করতো তিনশ মার্কিন ডলার মূল্যে। কিন্তু হঠাৎ করে ১৪ আগস্ট থেকে প্রতি মেট্রিকটন পেঁয়াজের মূল্য ছয়শ ৫০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করে। এর পরেও ১৬ ও ১৭ আগস্ট ভারত থেকে পূর্বের দামেই পেঁয়াজ আমদানি হলেও ১৭ আগস্ট ভারতীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয় ছয়শ ৫০ ডলারের নিচে কোনো পেঁয়াজ বাংলাদেশে রপ্তানি করা যাবেনা।

এর ফলে ১৮ আগস্ট রোববার হিলি স্থলবন্দর দিয়ে কোনো পেয়াজ আমদানি হয়নি। তবে সোমবার থেকে আবারও ছয়শ ৫০ ডলারে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে।

তিনি আরো জানান, বর্তমানে ভারত থেকে আমদানিকরা প্রতি কেজি পেঁয়াজের হিলি স্থলবন্দরে পৌঁছার পর পড়তা পড়ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, সেখানে বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে ৫৬ টাকা থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে।
তবে ছয়শ ৫০ ডলার মূল্যে ভারত থেকে যেসব পেঁয়াজ আমদানি হবে তা ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হবে। আর আমদানিকারকেরা অতিরিক্ত দাম দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি করতেও চাচ্ছেন না।

হিলি স্থলবন্দরসহ হাকিমপুর উপজেলার সর্বত্র বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। রমজান মাসে যে পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ২৫ থেকে ৩৫ টাকায় সেখানে ঈদের পর বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। আর এই দাম শুনে ক্ষুব্ধ হচ্ছেন ক্রেতারা। অস্বাভাবিকভাবে এ পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্রেতারা।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম হিলি স্থল বন্দর দিয়ে রমজান মাসে যেখানে ভারত থেকে প্রতিদিন পেঁয়াজ আমদানি হতো ৩৫ থেকে ৪০ ট্রাক সেখানে বর্তমানে এ বন্দর দিয়ে ৫ তেকে ১৫ ট্রাক আমদানি হচ্ছে।

ঈদের পর ১২ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে চারশ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। রোববার পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকলেও সোমবার হিলি স্থল বন্দর দিয়ে ২শ ১৫ মেট্রিকটন পেঁয়াজ ভারত থেকে আমদানি হয়েছে।

সোমবার হিলি বাজারসহ হাকিমপুর উপজেলার বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দ্বিগুনেরও বেশি দাম হাঁকাচ্ছেন পেঁয়াজের খুচরা ব্যবসায়ীরা। ঈদের পর হিলি বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ খুচরা বিক্রি হচ্ছে প্রকার ভেদে ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা। আর দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে।

তবে আশার কথা শোনালেন হিলি স্থল বন্দরের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম। তিনি জানান, ভারতের ব্যাঙ্গালুর প্রদেশের পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে কিছুদিনের মধ্যেই পুরোদমে উঠা শুরু হবে তখন পেঁয়াজের সরবারাহও বাড়বে আর বাজারে পেঁয়াজের দামও অনেকটা কমে যাবে।

হিলি স্থলবন্দর কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মাজেদুল হক বাংলানিউজকে জানান, ঈদের পর এই বন্দর দিয়ে শনিবার (১৭ আগস্ট) পর্যন্ত চারশ ৩ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। তবে বোরবার এই বন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানীকরা পেঁয়াজ বোঝাই কোনো ট্রাক দেশে প্রবেশ করেনি। সোমবার ফের ভারত থেকে আমদানীকরা পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাক দেশে প্রবেশ করেছে।