জাতীয় প্রধান খবর রংপুর

ফেলানী হত্যার বাংলাদেশী স্বাক্ষীদের প্রথম দিনের স্বাক্ষ্য গ্রহন শেষ

Felani-Killing ডাঃ জি এম ক্যাপ্টেন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:কুড়িগ্রাম সীমান্তে কিশোরী ফেলানী হত্যাকান্ডে বাংলাদেশী স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্য গ্রহনের প্রথম দিন সোমবার ভারতে বিএসএফ’র বিশেষ আদালতে শুরু হয়েছে। মঙ্গলবারও চলবে স্বাক্ষী গ্রহন।

সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত স্বাক্ষীদের জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়। মঙ্গলবারও স্বাক্ষ্য নেয়া হবে বলে জানা গেছে।

কোচবিহার জেলার বিএসএফ’র ১৮১ সদর দপ্তরে স্থাপিত জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্টে ঘটনার প্রতক্ষ্য স্বাক্ষী ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম, মামা আব্দুল হানিফকে ভারতীয় সময় সকাল সাড়ে সাতটায় কঠোর নিরাপত্তায় বিশেষ আদালতে নেয়া হয়। কুড়িগ্রাম ৪৫ বিজিবি অধিনায়ক লেঃ কর্নেল জিয়াউল হক খালেদ এবং পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিংকন স্বাক্ষীদের সাথে রয়েছেন।

গত ১৩ আগষ্ট থেকে ভারতে ফেলানী হত্যা কান্ডের বিচারকাজ শুরু হয়েছে। আসাম ফ্রন্টিয়ারের ডিআইজি (কমিউনিকেশনস) সিপি ত্রিবেদীর নেতৃত্বে ৫ সদস্যের বিচারকের বিশেষ আদালতে কঠোর গোপনীয়তায় এ বিচার কাজ চলছে। বিচারের প্রথম দিন গত ১৩ আগষ্ট মামলার নতিপত্র জমাসহ মুল আসামী বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের জবানবন্দী নেয়া হয়। অমিয় ঘোষের বিরুদ্ধে ভারতীয় দন্ডবিধির ৩০৪ ধারায় (অনিচ্ছাকুত খুন) এবং বিএসএফ আইনের ১৪৬ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

ফেলানী হত্যায় বিচারের স্বাক্ষী দিতে গতকাল রোববার ১৮ আগষ্ট বিকেল সাড়ে ৩টায় লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থল বন্দর দিয়ে ৪ সদস্যের বাংলাদেশী প্রতিনিধি দল কোচবিহার যান।

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারী বাংলাদেশেী কিশোরী ফেলানী ভারত থেকে বাবার সাথে কুড়িগ্রামে আসার পথে অনন্তপুর সীমান্তে কাটাতারের বেড়ায় বিএসএফ’র গুলিতে নিহত হয়। দীর্ঘ ৪ ঘন্টা ফেলানীর লাশ কাটাতারে ঝুলে থাকার ছবি সংবলিত সংবাদটি দেশী-বিদেশী বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্বের সাথে প্রকাশিত হয়। হত্যার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবী ওঠে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে। এরই প্রেক্ষিতে অবশেষে দীর্ঘ আড়াউ বছর পর ভারতের কোচবিহারে শুরু হয়েছে বিচার কাজ।