জাতীয় ঢাকা

হুমকির মুখে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সেতু

Shariatpur River Erosion Pic (1)মোঃ বোরহান উদ্দিন রব্বানী, শরীয়তপুর : শরীয়তপুরের নড়িয়ায় স্মরন কালের ভয়াবহ ভাঙ্গন বেড়েই চলছে। গত ৭ দিনে নদী তীর সংরক্ষন বাধ, পাকা সড়ক, লঞ্চঘাট, মসজিদসহ চার শতাধিক বাড়ি-ঘর, ফসলী জমি পদ্মার ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গন ঝুকিতে রয়েছে নড়িয়া উপজেলা হাসপাতাল, দুটি পাকা সেতু ও তিন শতাধিক বসত বাড়ি। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারের সামান্য খয়রাতি সাহায্য ছাড়া ভাগ্যে কিছুই জোটেনি। এত প্রলয়ংকরি ভাঙ্গনের কাছে নিজেদের অসহায় বলে ব্যক্ত করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিন ঘুড়ে দেখা গেছে, শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের পাঁচগাও, চরজুজিরা, সাধুর বাজার, ওয়াপদা বাজার, ওয়াপদা লঞ্চঘাটসহ আশে পার্শ্বের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় গত এক মাস যাবৎ পদ্মা নদীতে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। গত তিন দিন যাবৎ ভাঙ্গন আরো তীব্রতর আকার ধারণ করেছে। তিন দিনের ভাঙ্গনে বিলীন হয়েছে শরীয়তপুর-চন্ডিপুর সড়কের ২ কিমি পাকা রাস্তা । মাত্র ৬ সপ্তাহ আগে শেষ হওয়া জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাষ্টের অর্থায়নে সম্পন্ন করা পদ্মা নদীর তীর সংরক্ষন বাধের ৮টি প্যাকেজের ৪ টি প্যাকেজ সম্পূর্ন রুপে নদীর ¯্রােতে বিলীন হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৬ কোটি টাকা কাজের সম্পন্ন পানিতে ভেসে গেছে। কয়েকশত পরিবার হয়েছে গৃহ হারা। প্রতিদিন শত শত মানুষ সরিয়ে নিচ্ছে তাদের বসত ঘর। কেটে ফেলছে মূল্যবান গাছপালা।

এলাকাবাসী জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে নড়িয়া উপজেলার সাধুর বাজার ও ওয়াপদা লঞ্চঘাট এর ২’শ হাত উত্তর দিকে থেকে নদীর পানি ৮/১০ ফিট উচু হয়ে প্রবল ¯্রােতের সাথে ভাংতে ভাংতে দক্ষিন দিকে এগুতে থাকে। এ সময় পাকা সড়ক, সড়কের পাশে থাকা বড় বড় রেইনট্রি ও চাম্বুল চাছগুলে নিমিসেই নদীর ¯্রােতে ভেসে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সদ্য সমাপ্ত ৬,৭,৮ ও ৯ নং প্যাকেজের আওতায় করা ঘানি ব্যাগ ও জিইও টেক্সটাইল ব্যাগের সাহায্যে নদীর তীর রক্ষা বাধের এক কিমি সম্পূর্ন নিঃশেষ হয়ে গেছে। বড় বড় এলাকা নিয়ে ফাটল ধরে পাকা রাস্তা গুলোও ভেঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে পদ্মা। সম্প্রতি ভাঙ্গনকবলিত এলাকায় পাহারারত নড়িয়া থানার দুই জন পুলিশ সদস্য সহ ১৪ এলাকাসী নদীর তীরে অবস্থানকালিন হঠাৎ পানির তোড়ে পাকা সড়কের সাথে নিচের দিকে দেবে যায়। এ সময় ¯্রােত তাদের ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। এলাকার শত শত মানুষ পানিতে দড়ি কাছি ফেলে তাদের উদ্ধার করেছে।

ঈদুল ফিতরের আগেরদিন গত সন্ধ্যায় এমভি মৌচাক নামের নোঙ্গর করা একটি দোতলা লঞ্চ ৫ জন স্টাফ সহ হঠাত করে নদীর ¯্রােতে নিমজ্জিত হয়ে যায়। এদের ২ জন লোক উদ্ধার হলেও গত ১০ দিনেও নিখোজ ৩ জনসহ নিমজ্জিত হওয়া লঞ্চটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে নড়িয়া উপজেলার মূলফৎগঞ্জ বাজারে অবস্থিত প্রায় ৭০ বছরের প্রাচীন নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কপ্লেক্স ও চন্ডিপুর লঞ্চঘাটের পশ্চিম পাশে দুটি ব্রীজ । জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহন না করলে এ গুরুত্বপূর্ন স্থাপনাগুলো রক্ষা করা সম্ভব হবেনা।

এদিকে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কনের্ল (অবঃ) শতকত আলী এমপি, শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিকগণ ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করছেন।

ঊাঙ্গন কবলিত মুলফৎগঞ্জ এলাকার এ্যাড. আবুল কালাম আজাদ বলেন, কিছুদিন আগে নদী তীর রক্ষার নামে প্রায় ১৩ কোটি টাকার ছিটে ফোটা কাজ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে কোন উপকারে আসেনি। নদীর ভাঙ্গনে মাত্র ১৫ দিন পরেই সব বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আমরা এখন মুলফৎগঞ্জ হাসপাতালটি রক্ষার জন্য সকলের কাছে মিনতি করছি। আমাদের আর কিছু চাওয়ার নেই।
কেদারপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ঈমাম হোসেন দেওয়ান বলেন, আমাদের পরিবারের ১৫ টি বসতঘর তিনদিন যাবত সড়িয়ে নিচ্ছি। নদী ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে আমার বাড়ির সামনের পুকুরের মধ্যে ঢুকে পরেছে। গত তিন দিনে ওয়াপদা বাজারের ৩০-৩৫টি দোকান, ওয়াপদা লঞ্চঘাট নদীর তোড়ে ভেসে গেছে। আমার প্রতিবেশী শিকারী বাড়ি ও কাজী বাড়ির ২৫-৩০ টি ঘর ভেঙ্গে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদার মানিক সরকার বলেন, আমরা মাত্র কয়েকদিন আগে ৮ টি প্যাকেজে ২ কিমি নদী রক্ষা বাধের কাজ করেছি। তার তিনটি প্যাকেজ সম্পূর্ন ভেঙ্গে গেছে। এখন চতুর্থ প্যাকেজে উপর ঝুকি এসেছে।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, আমরা মাননীয় ডেপুটি স্পিকার এর সহায়তায় ইতিমধ্যে ৮৫২টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ২১ মেট্রিক টন জি আর (খয়রাতি সাহায্য) এর খাদ্য শষ্য বিতরন করা হয়েছে। তাদের পূনর্বাসনের জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মন্ত্রনালয়ে ঢেউ টিন চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

শরীয়তপুর পারি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল খালেক জানিয়েছেন, এমন প্রবল ¯্রােত ও ভয়াবহ ভাঙ্গনের কাছে আমি অসহায়। আমার কাছে যতটুকু সহায়তা আছে তা ক্ষুধার্ত বাঘের মুখে এক টুকরো মাংসের মত। এতে কোন উপকার হবেনা।