অপরাধ খুলনা

যশোরে ভূয়া পুলিশ আটক , সাংবাদিকের সাথে দূর্ব্যবহার- কনেস্টবল সাসপেন্ড

Jessore Picture -1 -যশোর প্রতিনিধি : পুলিশ পরিচয়ে যাত্রীদের সাথে দূর্ব্যবহার এবং যাত্রী সাধারণের ল্যাগেজ তল্লাসীর নামে সর্বস্ব লুট করার অভিযোগে বাবুল আক্তার নামে এক ভূয়া পুলিশ সদস্যকে জনতা গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। রোববার দুপুরে যশোর শহরের চাঁচড়া মোড়ে এই ঘটনা ঘটে। একই সাথে সাদা পোষাকে সামারী করার অপরাধে তরিকুল ইসলাম নামে চাঁচড়া পুলিশ ফাড়ির এক কনেস্টবলকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয় চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ির সদস্য তরিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন সাদা পোষাকে শহরের চাঁচড়া মোড়ে যাত্রীবাহী বাসে তল্লাসীর নামে যাত্রী সাধারণকে হয়রানি করে আসছিলো। আর এই কাজে সে স্থানীয় রায়পাড়া মাদক চোরাচালান সিন্ডিকেটের সদস্য বাবুল আক্তারকে ক্যাশিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতো। বাবুল আক্তার নিজেকে পুলিশ পরিচয়ে যাত্রীদের সাথে চরম দূর্ব্যবহার ও তাদের ল্যাগেজ তল্লাসীর নামে মালামাল লুট করে আসছিলো। গতকাল দুপুরে এমন একটি ঘটনা ঘটায় ভূয়া পুলিশ পরিচয়দানকারী বাবুল আক্তার। ইনডিপেনডেন্ট টিভির যশোরস্থ ক্যামেরাপার্সন ও হট নিউজ ২৪ যশোর প্রতিনিধি রিপন হোসেন পেশাগত দায়িত্ব পালন করে ফেরার পথে চাঁচড়া মোড়ে বাবুল আক্তার ও তার কয়েকজন সহযোগীর খপ্পরে পড়েন। বাস থেকে নামার সাথে সাথে বাবুল আক্তার রিপর হোসেনকে চোরাকারবারী মনে করে তার ল্যাপটপের ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। রিপন সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বাবুল আক্তারের পরিচয় জিঙ্গাসা করলে সে নিজেকে পুলিশ সদস্য বলে পরিচয় দেয়। পরিচয় পত্র দেখতে চাইলে বাবুল আক্তার রিনের গায়ে হাত তোলে এবং তার ল্যাপটপের ব্যাগ ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়। এসময় সাদা পোষাকের পুলিশ কনেস্টবল তরিকুল ইসলাম ঘটনা স্থলে এসে বাবুল আক্তারের পক্ষ অবলম্বন করে রিপনের সাথে আবারও চরম দূর্ব্যবহার করে। খবর পেয়ে সিনিয়র সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পুলিশ কনেস্টবল তরিকুল ইসলাম ও ক্যাশিয়ার বাবুল আক্তার আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন এবং তাদের সাথে মারমুখি আচরণ করেন। এক পর্যায়ে উপস্থিত জনতা বাবুল আক্তারকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। বিক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা তাৎক্ষনিক পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্রকে ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করলে তিনি পুলিশের কতিথ ক্যাশিয়ার বা সোর্স বাবুল আক্তারকে মামলা দিয়ে চালান করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সাথে তিনি অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন। তদন্ত রিপোর্টের পর এসপি জয়দেব কুমার ভদ্র পুলিশ কনেস্টবলকে তরিকুলকে সাসপেন্ড করে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করার নির্দেশ দেন। উলেক্ষখ্য যশোর পুলিশে ক্যাশিয়ার প্রথা একটি পুরাতন সিস্টেম। জেলার প্রতিটি থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে অবৈধ অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার হিসেবে এসব পাবলিক ক্যাশিয়ারকে ভূয়া পুলিশ সাজিয়ে রাস্তায় নামানো হয়। এরা নিজেদেরকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে জনগণকে জিম্মি করে নানাভাবে অর্থ আদায় করে তা সংশ্লিষ্ট থানা বা পুলিশ ফাঁড়িতে জমা করে। সূত্র বলছে যশোর জেলার ৯টি থানায় এবং ২৩টি পুলিশ ফাঁড়ি ও ৫টি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে এরকম প্রায় ৭০ জন পাবলিক ক্যাশিয়ার রয়েছে। এছাড়া প্রায় ৩শো ডাকসাইডের অপরাধী পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করছে। যাদের অধিকাংশই নানা অপরাধ মূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। সূত্র বলছে এদের কারনেই জেলার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি ঘটছে।