জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর রাজনীতি

ইসির সঙ্গে বৈঠক ২৫ অক্টোবর -রাষ্ট্রপতি

Abdul-hamid-0120130818123202নিজস্ব প্রতিবেদক ,ঢাকা, ১৮ আগস্ট: দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি জানাতে ২৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৈঠকের পর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবে কমিশন।
জানা গেছে, যে কোনো ফর্মুলার সরকারের অধীনেই ইসি নির্বাচন করতে প্রস্তত বলে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করা হবে ওই বৈঠকে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে অনুমতি প্রার্থনা করবে। ২৪ জানুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন করতে চায় কমিশন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনার আব্দুল মোবারক, আবু হাফিজ, ব্রি.জে. (অব.) জাবেদ আলী এবং মো. শাহনেওয়াজ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করবেন। নির্বাচন কমিশনের সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিকও সঙ্গে থাকবেন।

পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠানে বর্তমান গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের (আরপিও) সঙ্গে সংবিধানের যে অসামঞ্জস্য রয়েছে তাতে সংশোধন এনে এরইমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে কমিশন।
এছাড়াও আরপিওর ৯১ (ই) ধারা বাদ দিয়ে ইসি যে সম্পূরক সংশোধনী এনেছে তাও চলতি সপ্তাহে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনে আরপিও চূড়ান্ত হবে বলে ইসি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা জাতীয় সংসদের গত অধিবেশনে ঘোষণা দিয়েছেন চলতি বছরের ২৪ অক্টোবরেই শেষ হচ্ছে বর্তমান সরকারের মেয়াদ।

এ অবস্থায় ২৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ইসির সাক্ষাৎ খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ইসি। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী ২০১৪ সালের ২৪ জানুয়ারি নবম সংসদ ভেঙে দেওয়া হবে। নির্বাচন হবে বর্তমান সরকারের অধীনেই। সংবিধানের ১২৩ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে দেওয়ার আগের ৯০ দিনে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন করার বিধান রয়েছে।

এ হিসেবে নতুন বছরের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে পারে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রধান বিরোধী দলের অভিযোগ আছে, বর্তমান সরকারের (মহাজোট সরকার) অধীনে ‘একতরফাভাবে’ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

যদিও ১৮ দলীয় জোট এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ছাড়া নির্বাচনে যাবে না তারা। এমনকি আরপিওর ৯১ (ই) ধারা বাদ দেওয়ায় তারা হুমকি দিয়েছে বর্তমান কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের।
এছাড়া বর্তমান কমিশনের বিরুদ্ধে সংসদীয় সীমানা নির্ধারণ, বিএনএফকে নিবন্ধন দেওয়াসহ নানা ইস্যুতে রকিব কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির।

কিন্তু এর কোনো কিছুই আমলে নিচ্ছে না ইসি। উল্টো দলীয় সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রয়োজনীয় আইনকানুনও সংশোধন করছে। এমনকি বিরোধী দলের আপত্তি সত্ত্বেও সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী না রাখারও পরিকল্পনা নিয়েছে ইসি।

ইসি সূত্র জানায়, সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কমপক্ষে ৪৫ দিন হাতে রেখে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।

এক্ষেত্রে নভেম্বরের শেষ দিকে বা ডিসেম্বরের শুরুতে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। জানুয়ারিতে ভোট করার পরিকল্পনা কমিশনের।

সংসদ নির্বাচনের পরে নতুন সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের জটিলতা এড়াতেই সরকারের শেষ সময় নির্বাচন করতে চায় ইসি।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুল মোবারক রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক সম্পর্কে বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আইন অনুযায়ী এ নির্বাচন অনুষ্ঠানে কারো অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই ইসির। তবে আমরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করব। এটা আমাদের রুটিন ওয়ার্ক।’
আগামী জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ বলেন, ২৬ অক্টোবর থেকে আগামী বছর (২০১৪) ২৪ জানুয়ারির মধ্যে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংবিধানের কাঠামো অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে ইসি বদ্ধপরিকর। সরকার বা বিরোধী দল কেউ ইসিকে প্রভাবিত করতে পারবে না। এর মধ্যেই নির্বাচন হবে।

এক্ষেত্রে মেয়াদ শেষে বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় থাকার সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ সম্প্রতি ইসি কার্যালয়ে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে প্রস্তুত কমিশন। এক্ষেত্রে দুই ধরনের সরকারের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ইসি সূত্র জানায়, কমিশন অনেকটাই নিশ্চিত যে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ীই বর্তমান সংসদ বহাল রেখে দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এতে সংসদ নেতা, সংসদ সদস্যরা, স্পিকার, হুইপসহ সবাই নিজ নিজ পদে বহাল থেকেই নির্বাচনে অংশ নেবেন। আর এ কারণে নির্বাচনী আচরণবিধিতেও সংশোধনী আনতে হচ্ছে।

উল্লেখ্য, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর। ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি বসেছিল নবম সংসদের প্রথম অধিবেশন। সে অনুযায়ী ২০১৩ সালের ২৬ অক্টোবর থেকে ২০১৪ সালের ২৪ জানুয়ারির মধ্যেই দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে কমিশনকে।