জাতীয় ঢাকা

সাবেক চেহারায় ঢাকা

Jam-in-bg20130818035546স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, হটনিউজ২৪বিডি.কম,ঢাকা: পুরনো চেহারায় ফিরে এসেছে ঢাকা শহর। সন্ধ্যায় শাহবাগ থেকে উত্তরা পৌঁছাতে গত দশ দিনের তুলনায় ভিন্ন অনুভুতি। প্রিয় শহর ফিরে আসছে আবার আগের রূপে।

শনিবার সন্ধ্যায় ২০ কিলোমিটার রাস্তা ২০ মিনিটে পার হওয়া গেলো না। সময় লাগলো ঘণ্টারও বেশি। এইতো আমার শহরের চেনা রূপ।

ঈদের দুদিন আগে থেকেই খালি হতে শুরু হয়েছিলো সেই শহর। রাস্তায় নামলে তখন খালি খালি লাগছিলো আমজাদ সাহেবের। গাড়ির কোলাহল কম, ধোঁয়া নেই, রাস্তায় গাড়ির জট নেই। কোথাও যেতে চাইলে সহজেই পৌঁছানো যায়। এই রাজধানীর সঙ্গে অভ্যস্ত নন তিনি।

শনিবার সন্ধ্যায় শাহবাগ থেকে উত্তরা যেতে বাংলামটর, কারওয়ানবাজার, ফার্মগেট, ‍বিজয় সরণি ও বনানীতে ট্রাফিক সিগন্যালে বেশ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে আমজাদ সাহেবকে। এ সময় উত্তরা, খিলক্ষেত, বনানী, মহাখালী হয়ে ঢাকায় প্রবেশের পথে দেখা গেছে গাড়ির দীর্ঘ জট। এ জটই ইশারা দিয়েছে ঈদের ছুটি আর টানা হরতাল শেষে পুরনো রূপে ফিরছে শহর।

পুরনো রূপ, হর্নের ভয়াল চিৎকার, ডাস্টবিনের দুর্গন্ধ আর কালো ধোঁয়ায় চোখ জ্বলার। তারপরও এ শহরকে ছেড়ে থাকা যায় না। এ শহরই পেটে ভাত যোগায় দেশের দুই কোটি মানুষের।

সরকারি-বেসরকারি কর্মসংস্থলগুলোতে ঈদের ছুটি শেষ হয় গত রোববার। এরপর মঙ্গল ও বুধবার ছিল জামায়াতে ইসলামের টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল। বৃহস্পতিবার ছুটি মেলে জাতীয় শোক দিবসের। এরপর আবার শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ঈদের পরে মূলত রোববার থেকেই পুরোদম ফিরে পাচ্ছে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও কলকারখানা।

ছুটি কাটিয়ে আর দম ফেলার সুযোগ নেই রাজধানীবাসীর। হুড়মুড় করেই গত দুদিনে রাজধানীতে প্রবেশ করেছেন তারা। আর রাজধানীর পেট ভরে উঠেছে নগরবাসীর চাপে।

গত কয়েকদিনের শান্ত শহরকে ফিরে পেতে অপেক্ষা করতে হবে আরো দু’মাসের। কোরবানির ঈদে আবারো ফাঁকা হবে শহর। এখন রাজধানী আবার হয়ে উঠেছে কর্মচঞ্চল।

গত শুক্র ও শনিবার ছিল রাজধানীমুখী মানুষের ভিড়। ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষ শনিবারও দুর্ভোগ পোহায় মহাসড়কে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও রাজবাড়ির গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটেও ছিল তীব্র যানজট। সবকিছুর মধ্যে পড়ে চিড়েচ্যাপ্টা হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। ঢাকামুখী অতিরিক্ত যাত্রী, যানবাহনের চাপ আর অব্যবস্থাপনার কারণেই যানজট এতো তীব্র হয়ে ওঠে।

এ অবস্থার মধ্য দিয়ে রাজধানীতে প্রবেশ করে প্রিয় শহরকে আগের চেহারায় দেখে অভ্যস্তই হবে কর্মস্থলে ফেরা মানুষেরা।