অর্থ ও বাণিজ্য কৃষি খুলনা জাতীয়

পাট জমির জঞ্জাল

Meherpur-Jute-pic-bg20130817140818 মেহেরপুর প্রতিনিধি: মেহেরপুর থেকে ফিরে: পাটকে অর্থকরী ফসল বা সোনালী আঁশ যে নামেই ডাকা হোক না কেন বাজারে দাম না থাকায় মেহেরপুরের চাষীদের কাছে এখন পাট জমির ‘জঞ্জালে’ পরিণত হয়েছে।ফলে এই জঞ্জাল সরিয়ে জীবিকা নির্বাহের জন্য পাট ক্ষেতে অন্য ফসলের আবাদ করাই যেন চাষীদের কাছে প্রধান বিষয়ে পরিণত হয়েছে। জয়পুরহাট জেলায় এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি অফিসের পরামর্শে পাটের এই বাম্পার ফলন বলে জানিয়েছে কৃষি অফিস।তবে পানির অভাবে জাগ দিতে না পারা ও দাম ভাল না পাওয়ায় চাষীদের মাঝে দেখা দিয়েছে হতাশা।জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলা সদর, মজিবনগর, গাংনী এ তিনটি উপজেলায় ২৩ হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। যা গত বারের তুলনায় দেড় গুণ বেশী। কৃষি অফিসের পরামর্শ আর অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার চাষীরা বেশী জমিতে পাট চাষ করেছেন। বিঘা প্রতি বেশ ভালো ফলনও পেয়েছেন। তবে দাম নিয়ে হতাশ তারা।ভাল ফলন হওয়া সত্ত্বেও জাগ দেওয়ার জন্য পানির অভাবে কয়েক হাজার টাকা ক্ষতি গুণতে হচ্ছে তাদের। বিঘা প্রতি পাট জাগ দিতে বাড়তি খরচা পড়ছে এক থেকে দেড় হাজার টাকা। পুকুর ভাড়া করে ও তেল পুড়িয়ে পাট জাগ দিতে হচ্ছে।গাংনীর শিমুলতলা গ্রামের পাটচাষী সিদ্দিকুর রহমান। গতবার তিনি ৫ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। এবার ১২ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। এমনিতে ভরা মৌসুমে বৃষ্টি না হওয়ায় পাট জাগ দিতে পারছেন না। আবার পাটের তেমন মূল্য নেই। এক মন পাট বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮শ টাকায়।বিঘা প্রতি ৭ থেকে ৮মণ পাটের ফলন হয়েছ। এতে বিঘা প্রতি আয় দাঁড়ায় সাড়ে ৫ হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা।এই হিসাবে বিঘা প্রতি পাট বনন থেকে শুরু করে ঘরে তোলা পর্যন্ত কয়েক হাজার টাকা ক্ষতি গুণতে হচ্ছে তাদের। এই বিষয়ে সিদ্দিকুর হটনিউজকে জানান, সার ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি হলেও বেশী দামের আশায় পাট চাষ করেছি। কিন্তু পানির অভাবে পুকুরে মাছ চাষ বন্ধ করে শ্যালো মেশিন দিয়ে পানির ব্যবস্থা করায় তুলনামূলকভাবে পাট উৎপাদনে খরচ বেশী হয়েছে। অথচ দাম ভাল পাচ্ছি না। সেই হিসাবে প্রতি বিঘা জমিতে এক থেকে দেড় হাজার টাকা ক্ষতি গুনতে হচ্ছে। এখন জমি থেকে পাট সরিয়ে পরবর্তী ফসল চাষের ব্যবস্থা করাই আসল দায়িত্বে পরিণত হয়েছে।পাট চাষ করে বিপাকের কথা জানান গাংনী উপজেলার কুঞ্জনগর গ্রামের পাট চাষী রফিকুল ইসলাম। তিনি এবার ৮ বিঘা জমিতে পাট চাষ করে বিপাকে পড়েছেন। মেহেরপুর সদর উপজেলার উজলপুর গ্রামের পাট চাষী মনিরুল দু:খ প্রকাশ করে বলেন, এবার ১৩ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। আর কোনো দিন এই আবাদের ধারে কাছেও যাবো না।

একই গ্রামের পাট চাষী রুহুল আমীন বলেন, বিঘা প্রতি পাট চাষ করতে খরচ হয় ৬ হাজার টাকারও বেশী। এক বিঘা জমিতে পাট উৎপন্ন হয় ৭/৮ মণ। যদি পাটের দাম ১১-১২শ টাকা পাওয়া যেতো তাহলে আমরা খরচা উঠাতে পারতাম। ভরসা পাট কাঠি। এখন দেখছি পাট কাঠি বিক্রি করেও খরচা উঠবে না। পাট চাষ প্রসঙ্গে মেহেরপুর সদর উপজেলা কৃষি অফিসার এসএম নূর উদ্দীন আবু আল-হালিম জানান, সনাতন পদ্ধতিতে পাট জাগ দেওয়ার কারণে পাটের গুণগত মান কমে যাচ্ছে। ফলে চাষীরা পাটে আশানুরূপ মূল্য পাচ্ছেন না।তিনি বলেন, কৃষি বিভাগ থেকে রিবোন রেটিং পদ্ধতিতে পাট জাগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তারা এ পরামর্শ মানতে নারাজ। চাষীরা সনাতন পদ্ধতিতে পাট জাগ দেওয়ার ফলে দামও ভাল পাচ্ছেন না। এতে করে তারা পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেনা।