অর্থ ও বাণিজ্য জাতীয় ঢাকা

অভিহিত মূল্যে তালিকাভুক্ত ব্যাংকের শেয়ার

Dhaka-stock-exhange-sm20130817182303 আফিফা জামান,হটনিউজ২৪বিডি.কম ,ঢাকা: দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে পুঁজিবাজারে দরপতন চলছে। এ সময়ের মধ্যে লাখ লাখ বিনিয়োগকারী তাদের পুঁজি হারিয়ে বাজার ছেড়েছেন।তবে আশার কথা হলো শেয়ারের মূল্য প্রায় তলানিতে থাকায় নতুন নতুন বিনিয়োগকারীও পুঁজিবাজারে আগ্রহী হচ্ছেন।দীর্ঘ এ দরপতনে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ব্যাংক খাতের শেয়ার। কারণ বর্তমানে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ ব্যাংকের শেয়ার দর ফেস ভ্যালু বা তার কাছাকাছি দরে লেনদেন হচ্ছে।
ব্যাংকের শেয়ারের দর কমে যাওয়ার পেছনে ব্যাংকের প্রান্তিক প্রতিবেদনগুলোতে মুনাফা কমে যাওয়া কিংবা লোকসান দেখানোই সবচেয়ে বড় কারণ বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।তারা বলছেন বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। ফলে এ দেশের ব্যাংকগুলো আগের মত মুনাফা করতে পারছে না। আর ব্যাংকগুলোর মুনাফা কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা এ খাতের শেয়ার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
এদিকে ডিএসই’র তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তালিকাভুক্ত ৩০ ব্যাংকের মধ্যে একটি ব্যাংকের শেয়ার মূল্য অভিহিত মূল্য বা ফেসভ্যালুতে এবং সরকারি মালিকাধীন একটি ব্যাংকের শেয়ার অভিহিত মূল্য বা ফেস ভ্যালুর নিচে লেনদেন হচ্ছে।

ব্যাংক দুটি হলো- প্রিমিয়ার ব্যাংক ও আইসিবি ইসলামী ব্যাংক। ফলে এসব ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগ করে আটকে আছেন লাখ লাখ বিনিয়োগকারী।

গত বুধবার প্রিমিয়ার ব্যাংকের শেয়ারের বাজার দর নেমে এসেছে ১০ দশমিক ৪০ টাকায়, যা ওই ব্যাংকের অভিহিত মূল্যের কাছাকাছি।

অন্যদিকে, আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে মাত্র ৬ টাকায়। উভয় ব্যাংকের শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা।

তথ্য বিশ্লেষণে আরও জানা যায়, গত বুধবার পর্যন্ত মোট ১৪টি ব্যাংকের শেয়ার দর অভিহিত মূল্যের কাছাকাছি চলে এসেছে। যা গত ১০-২০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন বলে দাবি করছেন বাজার সংশ্লিষ্ঠরা।

এমনকি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও (১৯৯৬) শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিতে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর শেয়ার দর ফেস ভ্যালুর এত কাছাকাছি আসেনি।

এ বিষয়ে ডিএসই’র সাবেক সভাপতি শাকিল রিজভী জানান, আগেও অনেকগুলো ব্যাংকের শেয়ারের দর অভিহিত মূল্যের নিচে নেমেছিল। সে সময় ব্যাংকিং খাতের সংস্কার কার্যক্রম চলায় এমনটি হয়েছিল। তবে বর্তমানে ব্যাংকগুলোর শেয়ার দর যেভাবে কমছে তা গত দশ বছরের মধ্যেও কমেনি।

ডিএসই’র তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার ১৪টি ব্যাংকের শেয়ার দর ৬-১৫ টাকার মধ্যে লেদনদেন হয়। সেগুলো হলো: আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক ১৫ টাকায়, যমুনা ব্যাংক ১৪ দশমিক ৫০ টাকায়, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক ৬ টাকায়, প্রিমিয়ার ব্যাংক ১০ দশমিক ৪০ টাকায়, এক্সিম ব্যাংক ১২ দশমিক ১০ টাকায়, ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক ১২ দশমিক ৪০ টাকায়, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ১২ টাকায়, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (মিটিবিএল) ১৪ দশমিক ৬০ টাকায়, ওয়ান ব্যাংক ১৫ টাকায়, ন্যাশনাল ব্যাংক ১২ টাকায়, ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংক ১২ দশমিক ২০ টাকায়, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ১৪ দশমিক ৭০ টাকায়, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক ১২ দশমিক ৫০ টাকায়, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ১৩ দশমিক ৫০ টাকায় লেনদেন হয়েছে।

এছাড়াও তালিকাভুক্ত আরও ১৬টি ব্যাংকের শেয়ার নিম্নক্তো দরে লেনদেন হচ্ছে। এবি ব্যাংক ২৫ দশমিক ১০ টাকায়, ব্যাংক এশিয়া ১৮ দশমিক ৭০ টাকায়, ব্র্যাক ব্যাংক ২৯ দশমিক ২০ টাকায়, সিটি ব্যাংক ১৮ টাকায়, ঢাকা ব্যাংক ২০ দশমিক ৯০ টাকায়, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক একশ টাকায়, ইস্টার্ন ব্যাংক ২৬ টাকায়, আইএফআইসি ব্যাংক ২১ দশমিক ৭০ টাকায়, ইসলামী ব্যাংক ৩৬ দশমিক ৩০ টাকায়, প্রাইম ব্যাংক ২১ দশমিক ৫০ টাকায়, পূবালী ব্যাংক ২৯ দশমিক ৭০ টাকায়, রূপালী ব্যাংক ৬২ দশমিক ৫০ টাকায়, সাউথইস্ট ব্যাংক ১৬ দশমিক ২০ টাকায়, ট্রাস্ট ব্যাংক ১৮ দশমিক ২০ টাকায়, ইউসিবিএল ১৮ দশমিক ৯০ টাকায় এবং উত্তরা ব্যাংক ২৫ দশমিক ৪০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে।

বর্তমান ধারা অনুযায়ী ব্যাংকের শেয়ার দর কমতে থাকলে কয়েক দিনের মধ্যেই অনেকগুলো ব্যাংকের শেয়ার দর অভিহিত মূল্যের নিচে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান বাজার সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, অনেকগুলো ব্যাংকের শেয়ার দর যেখানে নেমে এসেছে তা গত প্রায় এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। ব্যাংকগুলোর শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) কমে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে। এছাড়া ব্যাংকগুলো এখন যা আয় করছে তার বড় অংশ দিয়ে প্রভিশনিং (নিরাপত্তা সঞ্চিতি) করতে হচ্ছে।

এছাড়া ব্যাংকিং খাতের কু-ঋণের যে অবস্থা, তাতে নিকট ভবিষ্যতে আয় বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনাও কম। তাই এ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন বিনিয়োগকারীরা।

শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান হটনিউজকে বলেন, ‘বেশ কয়েক মেয়াদ ধরে সংকোচনমমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে সুদের হার বেড়ে গেছে। ব্যাংকের কাছে পর্যান্ত পরিমাণে অলস টাকা থাকলেও তা বিনিয়োগ খুব একটা ব্যবহৃত না হওয়ায় ব্যাংকগুলোর মুনাফা কমে যায়। ফলে আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলোর মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।’