অপরাধ চট্টগ্রাম শিক্ষাঙ্গন

স্কুল ছাত্রীর শ্লীলতাহানির প্রতিবাদে রাস্তায় শিক্ষার্থীরা

chouddagram photo.2স্টাফ রিপোর্টার,হটনিউজ২৪বিডি.কম: চৌদ্দগ্রামে এক স্কুল ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বের করেছে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা। শ্লীলতাহানীকারী মোঃ সাইফুদ্দিনের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবীতে এলাকাবাসী ও রাজাপুর দাখিল মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা বিক্ষোভ মিছিল ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতির নিকট স্মারকলিপি প্রদান করে।

জানা যায়, উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের রাজাপুর দাখিল মাদ্রাসার অফিস সহকারী মো. সাইফুদ্দিন (সাইফুল) মাদ্রাসার অফিস কক্ষে প্রাইভেট পড়ানোর নাম করে গত ৬ আগস্ট কাদৈর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনীর এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করে। এ ঘটনায় বিজলী আক্তার বাদী হয়ে একটি ও তার মা বাদী হয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি বরাবরে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

রাজাপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার ইদ্রিস আলী জানান, ওইদিন বিকাল ৫টার দিকে আমি রাজাপুর বাজারে যাওয়ার পথে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে আমি মাদ্রাসায় আশ্রয় নেই, মাদ্রাসায় গিয়ে দেখি আমার রুমের দরজাটা একটু খোলা মনে হচ্ছে, তাই আমি আমার রুমের সামনে গিয়ে দরজাটাতে একটু ধাক্কা দিয়ে দেখি দরজাটা খোলা, ভিতরে লাইট বন্ধ, অন্ধকার দুটি বাচ্চা ছেলে বসে আছে, লাইট জালিয়ে দেখি একজন সাইফুদ্দিনের ছেলে আর একজনকে চিনিনা। এরপর আমি ভেতরের রুমে ঢুকে দেখি আমার মাদ্রাসার অফিস সহকারী সাইফুদ্দিন ও একটি মেয়ে সহ অপ্রীতিকর অবস্থায় আছে, এ অবস্থায় দেখে আমি তাড়াতাড়ি বাইরে এসে স্থানীয় মেম্বার মো. আলী হায়দার ভাইকে ফোন করে মাদ্রাসায় নিয়ে আসি। তিনি মাদ্রাসায় এসে মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায়, সাইফুদ্দিন বিগত প্রায় একমাস ধরে তাকে প্রাইভেট পড়ানোর কথা বলে এনে তার সাথে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করেছে। এ বিষয়ে মেয়ের মা তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, তিনি তার মেয়েকে মো. সাইফুদ্দিনের কাছে প্রাইভেট পড়াতে পাঠিয়েছেন, কিন্তু সাইফুদ্দিন জোর করে আমার মেয়ের শ্লীলতাহানী করেছে, আমি এর ন্যায় বিচার চাই।

এদিকে অভিযুক্ত সাইফুদ্দিনের উপযুক্ত শাস্তির দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী, মাদ্রাসার শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকবৃন্দ। তারা তার দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবিতে এক বিক্ষোভ মিছিল বের করে। খোজ নিয়ে জানায়ায় ইতি পূর্বেও সাইফুদ্দিনের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার দশম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে জোরপূর্বক যৌন হয়রানীর অভিযোগ উঠলে সে শিক্ষকদের সামনে ক্ষমা প্রার্থনা চায়। এবং ভবিষ্যতে সে আর এরকম কোন কাজ করবেনা বলে অঙ্গীকার করেন। এঘটনায় মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রফেসর হায়াতুন নবী বলেন, কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে কারন দর্শানোর জন্য সময় বেধে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে আমরা তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেব।