অপরাধ ঢাকা

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলা ভাংচুর, লুটপাট

Shariatpur Pic-1শরীয়তপুর সংবাদদাতা : শরীয়তপুরে আওয়ামীলীগের দুগ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক গ্রুপ অপর গ্রুপের বাড়ি ঘরে হামলা করে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে নগদ টাকা, স্বর্নালংকারসহ মালামাল নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় হামলাকারীরা বাড়ির লোকজনদের পিটিয়ে ও কুপিয়ে ঘরের মালামাল তছনছ করেছে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। আহতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালসহ স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সংঘর্ষে জড়িত ৮ জনকে আটক করেছে পালং থানা পুলিশ।শরীয়তপুর সদর উপজেলার রায়পুর গ্রামের খালেদ মাহমুদসুজন, পালং থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা আঃ হালিম মোল্যা ও বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন সিকদার এর গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার কে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। গত শুক্রবার বিকেলে হালিম মোল্যার সমর্থকরা রায়পুর গ্রামের মতলেব মাদবরের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে মেয়ের পক্ষের লোকজন রায়পুর বাজারে মিষ্টি খেতে গেলে দুগ্রুপের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এ নিয়ে দু’গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। আজ শনিবার সকালে এ ঘটনার জের ধরে প্রথমে বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা জাহাঙ্গীর সিকদার সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ঢাল, শরকী ,রামদা, ছেনদা, টেটা, হকিষ্টিক নিয়ে বাড়িঘরে হামলা ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এর পর দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া সংঘর্ষে রুপ নেয়। এ সময় হামলাকারীরা আওয়ামীলীগ নেতা সাবেক চেয়ারম্যান আঃ হালিম মোল্যার সমর্থক রায়পুর গ্রামের আতিকুর রহমান, হাফেজ মাদবর, জলিল তালুকদার, জয়নাল মাদবর, সফি ফকির, মেজবাহার ফকির,ছোবহান মাদবর, কুদ্দুছ মাদবর দের বাড়ি ঘরে অতর্কিত ভাবে হামলা করে। হামলাকারীরা ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে ১৫ ভরি স্বর্নালংকার ১৫ লাখ টাকা ও ঘরের মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। আহতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় বাড়ির লোকজন বাধা দিলে আতিকুর রহমান, আনাজ উদ্দিন মোল্যা, মজিদা বেগম, কারু মাদবর, ছায়েদা আকতার, শাহিদা বেগম, হাফেজ মাদবর, সফি ফকিরসহ ২০জনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারান্তক আহত করে। এ সময় হামলাকারীরা বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া শিক্ষার্থী খালিদ মাহমুদ সুজনের একটি মোটর সাইকেল পিটিয়ে ভাংচুর করে ঘরের মালামাল তছনছ করে ফেলে। পরে পালং থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন আনে। ঘটনাস্থল থেকে পালং থানার পুলিশ মেহেদী হাসান, নাজমূল মাদবর, ও মেম্বার ছোবহান মাদবরসহ ৮জনকে আটক করেছে।

হালিম মোল্যার সমর্থক আহত ফেরদৌসি বেগম বলেন, চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর সিকদার এর লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসে আমাদের বাড়ি ঘরে হামলা করে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে ১০ ভরি স্বর্নালংকার নগদ ১০লাখ টাকা নিয়ে যায়। আমরা বাধা দিলে আমাকে চুলের মুঠি ধরে টান দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়।

মেম্বার ছোবহান মাদবর বলেন জাহাঙ্গীর চেয়ারম্যানের সমর্থক লোকমান হোসেন এর নেতৃত্বে ৫০/৬০ জন লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করে ভাংচুর লুটপাট করে আমাদের ২ভরি স্বর্ন ও নগদ ৫ লাখ টাকা নিয়ে যায় এবং আমাদের লোকজনদের পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করেছে।

এব্যাপারে চন্দ্রপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর সিকদার বলেন, এখানে আমার কোন গ্রুপ নেই। গত ইউপি নির্বাচনের পর থেকে লোকমান মাদবর ও ফজল মাদবর গ্রুপের মধ্যে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছে।্ তারই ধারাবাহিকতায় এ ঘটনা ঘটেছে। তাছাড়া আমি মারামারি বা অন্যায় কোন কাজে কোন পক্ষকেই সমর্থন করি না।

স্থানীয় লোকজন চন্দ্রপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও সাবেক চেয়ারম্যান সমর্থকদের মধ্যে বিরোধের কথা বললেও পালং থানার ওসি কে এম আবুল কাসেম বলেন, স্থানীয় ফজল মাদবর ও লোকমান মাদবর সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘ শত্রুতার জের ধরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোন পক্ষই মামলা করেনি। মামলা হলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।