অপরাধ খুলনা

দৌলতপুর উপজেলা প্রকৌশলী বিহীন সাড়ে তিন বছর

কাঞ্চন কুমার,কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা প্রকৌশলীর পদটি শূন্য রয়েছে প্রায় সাড়ে তিন বছর। ঐ পদে ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী জিলুর রহমান। যে কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছে এখানকার সড়ক ব্যবস্থা ও অবকাঠামো উন্নয়ন। প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত বরাদ্ধ পাওয়া গেলেও দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে কাজের মান অত্যান্ত খারাপ হওয়ার ফলে এ উপজেলায় সরকারের ভাবমুর্তি দারুন ভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। সম্প্রতি দৌলতপুরের সরকার দলীয় সংসদ সদস্যের প্রচেষ্টায় স্থানীয় সরকার বিভাগ এখানে একজন প্রকৌশলী দিলেও তিনি যোগদান করে দায়িত্ব না পেয়ে ৫ দিনের মাথায় প্রেষণে স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রধান কার্যালয়ে ন্যস্ত হয়েছেন। এ কারণে উপ-সহকারী প্রকৌশলী জিলুর রহমানের ক্ষমতা নিয়ে দৌলতপুরবাসীর মনে প্রশ্ন উঠেছে। অনেককে বলতে শোনা যাচ্ছে ‘এমপি সাহেবের চেয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী জিলুর রহমানের ক্ষমতা অনেক বেশী“97_full

প্রাপ্ততথ্যে জানা গেছে, উপ-সহকারী প্রকৌশলী জিলুর রহমান ২০১০ সালের ৩ মার্চ দৌলতপুর এলজিইডিতে যোগদান করেন। তখনকার উপজেলা প্রকৌশলী বদলি হওয়ায় তিনি ক্ষমতার দাপটে ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেবার পর থেকেই দুর্নীতি অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে কতিপয় ঠিকাদারের সাথে যোগসাজস করে কাজ না করে বিল উত্তেলন, নিম্নমানের কাজ করে ঠিকাদারের সাথে ভাগবাটোয়ারা, সিংহভাগ কাজের প্রাক্কলনের চেয়ে ৭ থেকে ২৫ ভাগ পর্যন্ত বরাদ্ধ বাড়িয়ে এনে ভাগাভাগি করে নেবার অভিযোগ উঠলে দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য আফাজ উদ্দিন আহমেদ এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর নিকট দৌলতপুরে একজন প্রকৌশলী দেবার জন্য পত্র প্রেরণ করেন। সেই মোতাবেক গত ২০ জুন এলজিইডি/সিই/্-৩৭/২০০৬/৪৮৮৪ নং স্বারকে খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলা প্রকৌশলী নিরাপদ পাল কে দৌলতপুর উপজেলা প্রকৌশলী হিসাবে বদলী করা হলে ৩০ জুন তিনি দৌলতপুরে যোগদান করেন। কিন্তু উপ-সহকারী প্রকৌশলী জিলুর রহমান নতুন প্রকৌশলী নিরাপদ পাল কে দায়িত্ব না বুঝিয়ে দিয়ে পরদিন ঢাকা চলে যান। এরপর গত ৮ জুলাই এলজিইডি/সিই/্ই-৮৫/২০১০/৫২৩২ নং স্বারকে দৌলতপুর উপজেলা প্রকৌশলী নিরাপদ পালকে প্রেষণে স্থানীয় সরকার বিভাগের (এলজিইডি) প্রধান কার্যালয়ে ন্যস্ত হয়। সংসদ সদস্য আফাজ উদ্দিন আহমেদ জানান, আমার কাছে অভিযোগ আছে যে, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রকৌশলীর কারণে ঐ কার্যালয়টি দুর্নীতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। তাই কোন উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন না করায় সরকারের অর্থ জনগণের কোন কাজে আসছেনা। তাছাড়া দৌলতপুর একটি বিশাল উপজেলা। এখানকার সড়ক ব্যবস্থা ও অবকাঠামোর সঠিক উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে আমি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মহোদয়ের নিকট আমার উপজেলায় একজন প্রকৌশলী দেবার কথা বলি। সেই মোতাবেক একজন প্রকৌশলী দেয়া হলেও তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন। এলজিইডি কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকেশলী গোলাম কবীরের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, নতুন প্রকৌশলীকে দায়িত্বভার না দেয়া এবং ভারপ্রাপ্ত হিসাবে জিলুর রহমানের ঐ পদে থাকাটা সমীচিন নয়। তবে, বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বলে তিনি জানান। ফলে, উপ-সহকারী প্রকৌশলী জিলুর রহমানের খুটির জোর সম্পর্কে দৌলতপুরবাসীর মনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ঠিকাদার ও সংশিষ্ট একাধিক সুত্র জানায়, সরকারের এক প্রভাবশালী যুগ্ম সচিব ও তার এক ভাতিজার (ঠিকাদার) সাথে ঘনিষ্ঠতার কারণে জিলুর রহমান তাদের খুঁিট হিসাবে ব্যবহার করছেন। এছাড়া জনশ্র“তি আছে জিলুর রহমান নিজেকে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির এক প্রভাবশালী নেতার কখনও ভাগ্নে আবার কখনও ভাতিজা পরিচয় দিয়ে থাকেন। এ বিষয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী জিলুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি মুচকি হাসি দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।