অর্থ ও বাণিজ্য স্বাস্থ্য

মুনাফা বেড়েছে ওষুধ খাতের ৮০ ভাগ কোম্পানির

DSE-CSE-sm20130815100243আছাদুজ্জামান,হটনিউজ২৪বিডি.কম,ঢাকা: দেশের শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিন ধরে মন্দা বিরাজ করছে।বিনিয়োগের অভাবে ব্যাংকে মোটা অংকের টাকা অলস পড়ে রয়েছে। বিনিয়োগ না বাড়ায় ব্যাংকসহ অধিকাংশ কোম্পানির মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে এ পরিস্থিতিতে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানিগুলো।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।সূত্র মতে, ওষুধ ও রসায়ন খাতের ২৪টি কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত। এর মধ্যে অর্ধবার্ষিকীতে (জানুয়ারি-জুন) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ১৫টি কোম্পানি।
আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে অর্ধবার্ষিকীতে ১২টি কোম্পানিরই মুনাফা বেড়েছে। আর মুনাফা কমেছে ৩টির। অর্থাৎ ওষুধ ও রসায়ন খাতের ৮০ শতাংশ কোম্পানির মুনাফা বেড়েছে।বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিনিয়ত ওষুধের চাহিদা বাড়ছে। যেহেতু ওষুধ নিত্যপ্রয়োজনীয় বস্তু তাই অর্থনীতিতে মন্দা থাকলেও তার প্রভাব খুব একটা এ খাতের ওপর পড়ে না। তাছাড়া বর্তমানে দেশের বাইরেও ওষুধের বাজার প্রতিনিয়ত প্রসারিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে ওষুধের লেনদেন প্রবৃদ্ধি। সে কারণে স্বাভাবিক ভাবেই অধিকাংশ কোম্পানির মুনাফা বেড়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী হটনিউজকে বলেন, ‘দেশের প্রতিনিয়ত ওষুধের চাহিদা বাড়ছে। ফলে প্রসারিত হচ্ছে ওষুধের বাজার। তাছাড়া দেশের বাইরেও বাংলাদেশি ওষুধের বাজার বর্তমানে বেশ প্রসারিত হয়েছে। ফলে ওষুধ খাতের কোম্পানির মুনাফায় ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।’

তার মতে, ওষুধ খাতের অধিকাংশ কোম্পানির মুনাফা বাড়ায় স্বাভাবিক ভাবে বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ার কথা। কিন্তু বিনিয়োগকারীরা আর্থিক প্রতিবেদন দেখে বিনিয়োগ করে না। তারা বিনিয়োগ করে হুজুগে। সে কারণে ওষুধ খাতের কোম্পানির মুনাফার ইতিবাচক প্রভাব সামগ্রিক বাজারে খুব একটা পড়বে না।

শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান হটনিউজকে বলেন, ‘বেশ কয়েক মেয়াদ ধরে সংকোচনমুলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে সুদের হার বেড়ে গেছে। ব্যাংকের কাছে পর্যান্ত পরিমাণে অলস টাকা থাকলেও তা বিনিয়োগ খুব একটা ব্যবহৃত হয়নি। ফলে আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলোর মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

তার মতে, যে সব কোম্পানির আর্থিক দায় বেশি সংকোচন মূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করার তাদের মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

ওষুধ খাতের কোম্পানির মুনাফায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ওষুধ খাতের কোম্পানিগুলোর কোনো আর্থিক দায় নেই। তাছাড়া ওষুধ কোম্পানিগুলোর লেনদেন প্রবৃদ্ধি পর্যাপ্ত পরিমাণে বেড়েছে।বর্তমানে দেশ থেকে পর্যান্ত পরিমাণে ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এ খাতের কোম্পানিগুলোর মুনাফায়।

এসিআই: অর্ধবার্ষিকে(জানুয়ারি-জুন) এসিআই দুই কোটি ৪২ লাখ টাকা মুনাফা করেছে। কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় দাঁড়িয়েছে দশমিক ৮৫ টাকা। আগের বছরে যা ছিল শূন্য দশমিক ৮ টাকা। এর আগের বছরে একই সময়ে কোম্পানিটির ২২ লাখ ৪০ হাজার টাকা মুনাফা করেছিল।

কোম্পানিটির অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা। যা আগের বছরে একই সময়ে ছিল নয় কোটি ৮৯ লাখ টাকা। জানুয়ারি-জুনে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ২ দশমিক ৬৪ টাকা। যা আগে ছিল ১ দশমিক ৪৩ টাকা।

এমবি ফার্মা: অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদন অনুসারে মুনাফা হয়েছে ৩১ লাখ টাকা। আগের বছরে যা ছিল ২৯ লাখ টাকা। অর্ধবার্ষিকী শেষে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার প্রতি আয় ১ দশমিক ৫৬ টাকা। যা আগে ছিল ১ দশমিক ৪৯ টাকা।

বেক্সিমকো ফার্মা: প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৬৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। যা আগের বছরে একই সময়ে ছিল ৬১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। অর্ধবার্ষিকী শেষে শেয়ার প্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৮৮ টাকা।

গ্লোবাল হেভি কেমিক্যালস: প্রতিষ্ঠানটি মুনাফা করেছে সাত কোটি ৮৯ লাখ টাকা। আগের বছরে একই সময়ে যা ছিল ছয় কোটি ৪৬ লাখ টাকা। প্রতিবেদন অনুসারে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ১০ টাকা।

গ্লাক্সেস্মিথক্লাইন: প্রতিষ্ঠানটির মুনাফার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। যা আগে ছিল ২২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। অর্ধবার্ষিকী শেষে শেয়ার প্রতি আয় ২৮ দশমিক ৭৪ টাকা।

ইবনে সিনা : মুনাফার পরিমাণ দুই কোটি ৭৬ লাখ টাকা। আর শেয়ার প্রতি আয় ১ দশমিক ৪২ টাকা। আগের বছর একই সময়ে ছিল প্রতিষ্ঠানটির মুনাফার পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

জেএমআই সিরিঞ্জ: মুনাফার পরিমাণ এক কোটি টাকা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৭০ লাখ টাকা। অর্ধবার্ষিকী শেষে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে শূন্য দশমিক ৯৮ টাকা।

রেকিট বেনজিকার : মুনাফার পরিমাণ ৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা। শেয়ার প্রতি আয়ের পরিমাণ ১৩ দশমিক ৩৭ টাকা। আগের বছর একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা ছিল ৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং শেয়ার প্রতি আয় ১২ দশমিক শূন্য ৯ টাকা।

রেনেটা: অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে মুনাফার পরিমাণ ৬৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। আর শেয়ার প্রতি মুনাফা ১৯ দশমিক ৪২ টাকা। আগের বছর যা ছিল ৫৯ কোটি টাকা এবং ১৬ দশমিক ৭৪ টাকা।

সালভো কেমিক্যাল: মুনাফার পরিমাণ দুই কোটি ১৯ লাখ টাকা এবং শেয়ার প্রতি আয় শূন্য দশমিক ৪৭ টাকা। আগের বছর ছিল এক কোটি ৬৮ লাখ টাকা এবং শূন্য দশমিক ৩৬ টাকা।

স্কয়ার ফার্মা: মুনাফা হয়েছে ১৩৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা। আর শেয়ার প্রতি আয় ৩ দশমিক ৫৯ টাকা। আগের বছর ছিল ৯৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা এবং ২ দশমিক ৬৫ টাকা।

এসিআই ফর্মুলেশন: কোম্পানির অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে মুনাফা হয়েছে পাঁচ কোটি ২৩ লাখ টাকা। গত বছরে একই সময়ে যা ছিল ৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ চলতি বছরের অর্ধবার্ষিকীতে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা আগের বছরের তুলনায় কমেছে এক কোটি ১৩ লাখ টাকা। অর্ধবার্ষিকে শেয়ার প্রতি আয় দাঁড়ায় ১ দশমিক ১৬ টাকা।

ওরিয়ন ফার্মা: মুনাফার পরিমাণ ৫৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা। যা আগের বছর ছিল ৫৫ কোটি ২৮ লাখ। অর্ধবার্ষিকী শেষে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার প্রতি আয় ২ দশমিক ৩২ টাকা।