প্রধান খবর সাহিত্য

জন্মদিনে শহীদ কাদরী: আর্ট কলেজে পড়ার ইচ্ছা ছিল

shahid-quadri-120130815123046সজীব বিশ্বাস, হটনিউজ২৪বিডি.কম,নিউইয়র্ক:কবি শহীদ কাদরীর ছোটবেলায় খুব ইচ্ছে ছিল আর্ট কলেজে পড়ার। তখন ঢাকায় আর্ট কলেজ ছিল পুরনো ঢাকায়। ৫২ সালে কলকাতা থেকে চলে আসার আগে এক বছর একনাগাড়ে রঙ তুলি এবং কাগজ নিয়ে বেশ সিরিয়াসলি বাড়িতে বসে প্রচুর ছবি আঁকাআঁকি করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অত্যন্ত রাশভারী বাবার ইচ্ছে না থাকায় সেই পথে বেশী দূর এগোনো হয়নি।দশ বারো বছর বয়সের সময় শারলক হোমস জাতীয় লেখকদের লেখা প্রচুর পড়ে পশ্চিমের কাউবয়দের মতো পোশাক আশাকও পরতেন। একই বয়সে একা একা ঘুরে বেড়াতেন কোলকাতার জানা অজানা রাস্তায়। রাত করে ঘরে ফিরলে অধিকাংশ দিনেই বাবার হাতে লাঠি পেটা খেতে হতো। অবশ্য বাড়ির দারোয়ানের বিশেষ সহযোগিতায় হাতে গোনা ক’বার বেঁচেও গেছেন।বড় ভাই শাহেদ কাদরীকে খুব মিস করেন কবি। প্রায়ই ঢাকায় তাঁর সাথে ফোনে কথা হয়। লেখালেখির জগতে আসার পেছনে পুরো কৃতিত্ব তাঁর বড় ভাইয়েয়। জন্মদিনে বিশেষ আলাপচারিতার শুরুতেই ভাইয়ের কথা বলতে গিয়ে কবিকে বেশ আবেগতাড়িত দেখা গেলো। একটা সময় ছিল তাঁর ভাই ইংরেজি সাহিত্যের পোকা ছিলেন। প্রচুর লেখাপড়া করতেন, খুব ভালো আবৃত্তি করতেন শেক্সপিয়রের কবিতা। শহীদ কাদরী ভাইয়ের খুব কাছে থাকতেন সবসময়। তাই ইচ্ছায় অনিচ্ছায় তাঁকে শুনতেই হতো সবকিছু। আর সেই থেকেই লেখালেখির প্রতি তাঁর ঝোঁক হয়।কবি শহীদ কাদরীকে জন্মদিনের ভালোবাসা জানাতে ১৪ আগস্ট তাঁর নিউ ইয়র্কের জ্যামাইকার বাসভবনে ভক্ত এবং সুহৃদদের ছোটোখাটো মেলা জমে যায়। ফুলের তোড়ায় তোড়ায় ভরে যায় তাঁর লিভিং রুম। অনেকগুলো জন্মদিনের কেক ও আসে। কবির প্রিয় রবীন্দ্র সংগীত গেয়ে শোনান কেউ কেউ। গানের তালে তালে কবিকেও গুন গুন করে গাইতে দেখা যায়।কবির জন্মদিনটি শুরু হয় অবশ্য সকাল বেলায় হাসপাতালে গিয়ে ডায়ালাইসিস করার মাধ্যমে। প্রত্যেক সপ্তাহেই তাঁকে তিনবার হাসপাতালে যেতে হয় ডায়ালাইসিস করাবার জন্য। জীবনের এই পর্যায়ে এই সব ব্যপারকে সাধারন বিষয় হিসেবেই বিবেচনা করেন তিনি। হুইল চেয়ার নির্ভর জীবন তাঁর চিন্তা চেতনা এবং মননে তেমন কোন প্রভাব ফেলেনি বলা যায়। সাহিত্য এবং প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি তাঁর সাথে ম্যারাথন আড্ডা তাতে কোনই বাধ সাধেনা। কবি শহীদ কাদরীর সাথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা দিলেও সময় কথা দিয়ে চলে যায় তা অনেকেই টের পাননা ।কথা প্রসঙ্গে কবি শহীদ কাদরী তাঁর অসম্ভব জনপ্রিয় কবিতা ‘তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা’ সম্বন্ধে বলেন, এটি আমার প্রিয় কবিতা নয়। অনেকে এই প্রিয়তমা নিয়ে অনেক কিছু ভাবতে পারেন। কিন্তু আমার কাছে এই প্রিয়তমা হোল আমার প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ।কথা প্রসঙ্গে কবি আরেকটি তথ্য দিলেন যা কবির অগুনিত অনুরাগীকে অসম্ভব আনন্দ দেবে। খবরটা হোল কবি আরেকটি কাব্য গ্রন্থ লেখা নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। এই বিষয়ে কবি বলেন, আর যে ক’দিন আছি, চেষ্টা করছি একটি নতুন কাব্য গ্রন্থ দিয়ে যেতে।আলাপচারিতার এক পর্যায়ে ওঠে আসে ঢাকায় টেলিভিশন এর সাথে কবির সম্পৃক্ততার বিষয়টি। টিভি অনুষ্ঠান নির্মাণ, সম্পাদনা, পরিকল্পনা ইত্যাদি বিষয়ে তাঁর জানার পরিধি শুনে অনেককেই খুব অবাক হতে হয়।কবি শহীদ কাদরীর ৭১তম জন্মদিনে তাঁর বাসায় পৌঁছালে উষ্ণ স্বাগতম জানান কবি পত্নী নীরা কাদরী । এই সময়টায় অন্যান্যর ভেতর উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেলিভিশন এর প্রাক্তন কর্মকর্তা শেখ রিয়াজ উদ্দিন বাদশাহ, সাংবাদিক কৌশিক আহমেদ, লেখক মিনহাজ আহমেদ, শিল্পী জাহেদ শরিফ, আবৃত্তিকার গোপন সাহা, কবি আতিক কাজী সহ আরও ক’জন।বিদায় নিতে গেলে কবি বলেন আরেকটু থেকে গেলেই পারতে। তাঁর বাড়ির বাইরে বেরিয়ে দেখা হয়ে যায় সাহিত্য একাডেমীর মোশাররফ হোসেন, ছড়াকার মনজুর কাদের সহ আরেকটি দলকে ঢুকতে।এদের নিয়ে হয়তো কবির কাটবে আরো মধুর সময়।বাংলার অন্যতম কবি শহীদ কাদরীর এবারের জন্মদিনটি যুক্তরাষ্ট্রে উদযাপিত হবে ঘটা করেই। তার আয়োজন চলছে। এই প্রথমবার প্রবাসের সকল প্রতিনিধিত্বশীল সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন এক হয়ে একুশে পদক প্রাপ্ত বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান কবি কে তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে একটি অভূতপূর্ব এবং উৎসব মুখর সংবর্ধনা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হবে ২৯ সেপ্টেম্বর সন্ধায়, পিএস ৬৯, ৭৭-০২, ৩৭ এভিনিউ, জ্যাকসন হাইটসে।