জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর রাজনীতি

বঙ্গবন্ধু যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন করেন

b-sm20130815090343সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট,হটনিউজ২৪বিডি.কম,ঢাকা:বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ শুধু স্বাধীনই হয়নি দেশ পুনর্গঠনেও তিনি অনবদ্য ভূমিকা রেখেছেন। বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমীতে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে ‍আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৮তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষ্যে এদিন বাংলা একাডেমী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে।সকালে ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে বাংলা একাডেমীর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। বিকেলে একাডেমীর আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। ‘বাংলাদেশ : বঙ্গবন্ধু ও আজকের’ শীর্ষক শিরোনামে বক্তৃতা প্রদান করেন ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমীর সভাপতি এমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।শামসুজ্জামান খান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বাঙালির হাজার বছরের গুমড়ে মরা স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে ভাষা দিয়েছেন, অসংগঠিত জাতিকে সুস্পষ্ট রাজনৈতিক নির্দেশনা প্রদান করে উপহার দিয়েছেন ভাষাভিত্তিক-অসাম্প্রদায়িক জাতিরাষ্ট্র। তাই অসংশনীয়ভাবে তিনি বাঙালি জাতির পিতা।’অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘১৫ই আগস্টের ঘাতকদের অবস্থান ছিল ইতিহাসের বিরুদ্ধে, কারণ বাংলাদেশের ইতিহাস মানেই বঙ্গবন্ধু। ঘাতকরা ভাবেনি যে লোকান্তরিত মুজিব বাঙালির মানসপট থেকে অন্তর্হিত না হয়ে ক্রমশ সূর্যের মতো ভাস্বর হবেন। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানিদের দ্বারা শ্মশান-বাংলায় রূপ নেয়া স্বদেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করার কঠিন ব্রত নিয়ে যৌবন থেকে আমৃত্যু সংগ্রাম করে গেছেন।’তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ যেন ১৯৭৫ সালের পর থেকে সামরিক শাসন ও রাজাকায়ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি বৈশিষ্ট্য অর্জনের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। তাই এই সমাজ-রাষ্ট্রে যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামী ও হেফাজতে ইসলামের মতো বর্বর মৌলবাদী শক্তির বিকাশ ঘটেছে।’অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুকে ভয়াবহ প্রতিকূল দেশীয়-আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়েছে। চারপাশের সবাই যেন আত্মত্যাগের বদলে রাতারাতি নিজস্ব প্রাপ্তির মহড়ায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলো। এসব কিছুই বঙ্গবন্ধু তার হৃদয়ের বিশালতা দ্বারা মোকাবেলা করতে চেয়েছেন; সব সময় যে সফল হয়েছেন তাও নয়, কিন্তু তার অসামান্য নেতৃত্বে স্বাধীনতা অর্জন ও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন তাঁকে বাংলা ইতিহাসে চির-অমরতা দান করেছে।’ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত আবৃত্তি পরিবেশন করেন মাহিদুল ইসলাম, সংগীত পরিবেশন করেন ফারহানা শিরিন। অনুষ্ঠানের শেষাংশে ২৮ মিনিটের একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।