জাতীয় প্রধান খবর রাজনীতি সারাদেশ হটনিউজ স্পেশাল

বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক, হটনিউজ২৪বিডি.কম :১৯৭৫ সালের এই দিনে সেনাবাহিনীর একদল কর্মকর্তা ও সৈনিকের হাতে সপরিবারে জীবন দিতে হয় স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবকে। রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালনের জন্য বৃহস্পতিবার সরকারি ছুটি।

PM-president+1সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করার মধ্য দিয়ে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত করার পাশাপাশি তোলা হয় কালো পতাকা।সকাল সাড়ে ৬টায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল এ সময় সশস্ত্র সালাম জানায়। বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। পরে কোরআন থেকে তেলাওয়াত করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।এরপর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।জাতীয় সংসদের স্পীকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ও প্রধান হুইপ আব্দুস শহীদ এরপর বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান।রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়।দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে স্থাপিত স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ককের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান হাজারো মানুষ।এদিন বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতেও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।১৫ অগাস্টের বিয়োগান্তক ঘটনা স্মরণ করে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে এনে দণ্ড কার্যকরের জন্য সরকারকে তাগিদ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।শোকাবহ স্মৃতির দুয়ারে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেছেন, ঘাতকচক্র বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তার স্বপ্ন ও আদর্শের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ ও তিতিক্ষার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনাদর্শ বাঙালি জাতির অন্তরে প্রোথিত হয়ে আছে।৩৮ বছর আগে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাড়িতে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে প্রাণ হারান তার স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেসা, ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল, শেখ জামালের স্ত্রী রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই শেখ নাসের।ধানমণ্ডির বাড়িতে পুলিশের বিশেষ শাখার সাব ইন্সপেক্টর সিদ্দিকুর রহমান ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিলকেও গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়।সেই রাতে আরো নিহত হন বঙ্গবন্ধুর বোনের স্বামী আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ, মেয়ে বেবী ও শিশুপৌত্র সুকান্ত বাবু, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি, নিকটাত্মীয় শহীদ সেরনিয়াবাত ও রিন্টু।বনানী কবরস্থানে তাদের কবরে সকাল সাড়ে ৭টায় পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী।পরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিতে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান এবং আওয়ামী লীগ নেতারা সমাধি প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন।বিকালে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে মহিলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত মিলাদ মাহফিলে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। ১৬ অগাস্ট বিকেল সাড়ে ৩টায় ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায়ও তিনি উপস্থিত থাকবেন প্রধান অতিথি হিসাবে।বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রবাদপুরুষ শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা হয়ে ওঠেন তিনি। তার নেতৃত্বে রক্তাক্ত সংগ্রামেই অভ্যূদয় ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশের। আর স্বাধীনতার চার বছরের মাথায় নির্মমভাবে প্রাণ হারাতে হয় বঙ্গবন্ধুকে।জাতির জনককে হত্যার বিচার দেশের মাটিতে শুরু হয় ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর। বিচারিক আদালতে রায় হলেও এরপর বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় গেলে উচ্চ আদালতে তা ঝুলে ছিল।২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর বিচার সম্পন্নের উদ্যোগ নেয়। বিচার শেষে চূড়ান্ত রায়ের পর পাঁচ আসামির ফাঁসির আদেশ কার্যকর হয়।ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েকজন এখনো বিদেশে পালিয়ে রয়েছেন, যাদের ফিরিয়ে আনতে চেষ্টার কথা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।