জাতীয় ঢাকা রাজনীতি

ফরিদপুরের রাজনীতি সংঘাতময় হয়ে উঠছে

ফরিদপুর প্রতিনিধি, ১৩ আগস্ট: ফরিদপুর জেলার রাজনীতি সুস্থতা ছেড়ে ক্রমেই সংঘাতের দিকে এগুচ্ছে। এরইমধ্যে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। উত্তপ্ত হয়ে পড়ছে এখানকার রাজনৈতিক অঙ্গন।অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রতিপক্ষ হিসেবে অন্য কোন দলের নয়। একই দলের মধ্যে গ্রুপিংয়ের জের ধরে এসব হামলা মামলার ঘটনা ঘটছে। ক্ষমতাশীন দলের মধ্যেই বেশী হানাহানির ঘটনা ঘটছে।রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে হানাহানি বাড়ছে। মনোনয়ন দৌড়ে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে একই দলের একাধিক ব্যক্তি মাঠে। ফলে একে অপরকে বাঁধা দিতে হয়ে উঠেছে মরিয়া।স্থানীয়দের মতে, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দুটি বড় ঘটনা জেলার রাজনীতিকে উত্তপ্ত করে তুলেছে।Azad-0120130813153952গত ২০ জুলাই শনিবার ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ঠেনঠেনিয়া বাজার এলাকায় ফরিদপুর-২ (সালথা ও নগরকান্দা) আসনে আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রাথী মেজর (অব.) আ ত ম হালিমের গাড়ীর বহরে হামলা চালায় সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সমর্থকেরা।

এতে মেজর (অব.) হালিম ও স্থানীয় সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। গাড়ী বহরে হামলা চলিয়ে অন্তত ১২টি গাড়ী ভাঙচুর করে ও দুটি গাড়ী আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে হামলাকারীরা হালিমের দেহরক্ষীর নিকট থেকে শটগান ও হালিমের ব্যক্তিগত পিস্তলটি ছিনিয়ে নিয়ে গুলি ছোড়ে। এতে হালিমের ভাগ্নে নজরুল ইসলাম (৩৫) গুলিবিদ্ধ হন।
ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মারাত্মক আহত হালিমকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় প্রথমে। অবস্থার অবনতি হলে পরে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয় তাকে।
মেজর (অব.) আ ত ম হালিম ওই দিন তার বাবার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে শহরের রাজবাড়ী রাস্তার মোড় থেকে শতাধিক মাইক্রোবাস নিয়ে গ্রামের বাড়ী জেলার নগরকান্দার বল্লভদী গ্রামে যাচ্ছিলেন। পরে এ ঘটনায় হালিমের সমর্থকদের নামেই মামলা হয়।
ওদিকে গত ১১ আগস্ট ফরিদপুরে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি একে আজাদের গাড়ি বহরে হামলা চালিয়ে বেপরোয়াভাবে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর পৌরসভার সামনে এ ঘটনা ঘটে। আজাদের গাড়ির সামনের শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিজয় বসাকের নেতৃত্বে একদর পুলিশ গাড়িবহর থামিয়ে দেয়। এত উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে অতর্কিতে লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ।
এতে কমপক্ষে আজাদ সমর্থক ১২ জন আহত হন। পুলিশের বেপরোয়া লাঠিচার্জে আজাদের সমর্থকরা মোটরসাইকেল ফেলে চলে যায়।
পরে এ কে আজাদ গাড়ি থেকে নেমে পুলিশের কাছে তার সমর্থকদের বাধা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তার (একে আজাদের) সাথেও বাকবিতণ্ডা হয় পুলিশের।
উল্লেখ্য, রোববার সকালে ফরিদপুর শহরের চরটেপাখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এ. কে আজাদের গণসংবর্ধনার আয়োজন করে সদর আসনের চরাঞ্চলের ৫টি ইউনিয়ণের সাধারণ মানুষ। ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথেই এ ঘটনা ঘটে। পরে অবশ্য সংবর্ধনা স্থলে উপস্থিত হন আজাদ।
এছাড়া শহেরর বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে আজাদের সমর্থকদের মোটরসাইকেল আটকের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এঘটনায় একে আজাদের পক্ষ হতে হামলার নেপথ্যের নায়ক হিসেবে সন্দেহ করছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীকে।
ফরিদপুরের এ দুটি ঘটনা ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলায়ও একাধিক দলীয় প্রার্থীর প্রচার প্রচারণায় সরকারদলীয় সাংসদরে মধ্যেও মনোমালিন্য দেখা দিয়েছে। ঘটছে ছোট বড় এসব অপ্রীতিকর ঘটনা।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সাংসদ শাহ মোঃ আবু জাফর বলেন, জেলার কোথাও বিএনপি মধ্যে কোন হামলা মামলার ঘটনা ঘটেনি। বরং আওয়ামী লীগের এমপি ও মন্ত্রীরা জনশুন্য হয়ে পড়ায় সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকার দলীয়রা বিএনপি’র নেতাকর্মীদের হামলা মামলা করে বাড়ী ছাড়া করে রেখেছে। যাতে বিএনপি সংগঠিত হতে না পারে।