অপরাধ জাতীয় বরিশাল

সরকারের দাবি খাস সম্পত্তি ,কাজ বন্ধ

kalapara-03 (12-08-13) 01নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া, ১২ আগস্ট ॥ কোন প্রকার অনুমতি ছাড়াই সরকারের সংরক্ষিত পর্যটন এলাকায় কুয়াকাটায় হাউজিং কোম্পানি সেঞ্চুরির একটি স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে। প্রায় কোটি টাকা মূল্যের খাস খতিয়ানের ৫১৮৪ নম্বর দাগের ১৭ শতক জমির উপর কোম্পানির বহুতল ফাইভষ্টার মানের হোটেল গোল্ড কোষ্ট নির্মাণের কাজ চলছে। যদিও বা কোম্পানির মনকাড়া বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে ১০ একর জমিতে গঙ্গামতি এলাকায় গড়ে উঠবে হোটেল গোল্ড কোষ্ট। কিন্তু বর্তমানে কুয়াকাটা জিরো পয়েন্টের কাছেই ১৭ শতক বিতর্কিত জমিতে শুরু হয়েছে এই নির্মাণ কাজ। কলাপাড়া ভূমি অফিস দাবি করেছে এই জমি সরকারের খাস সম্পত্তি। হাউজিং কোম্পানি যে জমি ক্রয় করেছে তার খতিয়ান নম্বর ১০৫০ দাগ নম্বর ৮১৮৪। যার অবস্থান কুয়াকাটা থেকে ১০ কিলোমিটার দুরে মিশ্রিপাড়ায়। ইতোমধ্যে সরকারিভাবে ১০ জানুয়ারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ওই জমি সংরক্ষিত এলাকার আওতায় নেয়া হয়েছে। যেখানে কোন ধরনের স্থাপনা করতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের অনুমতির প্রয়োজন রয়েছে। এসংক্রান্ত একটি চিঠি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ২০১২ সালের ২০ মে সিনিয়র সচিব মোল্লা ওয়াহেদুজ্জামান পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসককে দিয়েছেন। তারপরও কীভাবে এই নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে তা নিয়ে নানা গুজব চলছে। লোকজনের মন্তব্য এখনই পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। নইলে সরকারের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি বেহাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সোমবার এই কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে ভূমি অফিস দাবি করেছে।

২০০৮ সালে হাউজিং কোম্পানী সেঞ্চুরী কুয়াকাটায় প্রজেক্টের কাজ শুরু করে। পরে ২০১১ সালে হোটেল গোল্ড কোষ্ট নামের ফাইভ ষ্টার মানের একটি হোটেল নির্মানের প্রচার চালায়। এর জন্য কুয়াকাটার গঙ্গামতি এলাকায় ১০ একর জমি প্রকল্পের আওতায় নেয়া হয়েছে বলে নজরকাড়া লিফলেট ব্রুশিয়ারসহ বিভিন্ন প্রচার চালায়। পর্যটন কেন্দ্রের মাষ্টার প্লান নিয়ে সরকার জোড়ালো ভাবে কাজ শুরু করলে থমকে যায় হাউজিং কোম্পানি সেঞ্চুরী কুয়াকাটার বাধেঁর বাইরের জমিতে করা প্রকল্প। রাতারাতি প্রকল্পের জায়গা পরিবর্তন করে কুয়াকাট জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন জেলা পরিষদ ডাক বাংলো ঘেষে ১৭ শতক জমিতে ফাইভষ্টার মানের হোটেল গোল্ড কোষ্টের নির্মাণ কাজ শুরু করে। অথচ এই জমি নিয়ে রয়েছে নানা বির্তক।
জমির দাতারা সেঞ্চুরীকে জমির দলিল দেয় ১০৫০ খতিয়ানের ৮১৮৪ দাগ থেকে কিন্তু বর্তমানে যেখানে ১৭ শতাংশের জমিতে হোটেলের কাজ শুরু করেছে তার দাগ নম্বর ৫১৮৪, যা খাস খতিয়ান ভূক্ত বলে ভূমি অফিস দাবী করছে। এ ব্যাপারে সেঞ্চুরী কুয়াকাটার লিগাল এ্যাডভ্ইাজার তারক রায় জানান, আমরা ৫১৮৪ দাগের মাত্র ১৭ শতক জমি নিয়েছি। এই দাগে মোট জমি এক একরের বেশি। বাকি জমির ব্যাপারে সরকার কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না কেন বলে পাল্টা প্রশ্ন করেন। স্থাপনা নির্মাণের ব্যাপারে তিনি রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন আইন ২০১০ এর ৪ এর খ অনুযায়ী যথাযথ অনুমোদন নেয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন। এ ব্যাপারে মহিপুর সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সুরেন চন্দ্র শীল জানান, দাতারা সেঞ্চুরীকে ৮১৮৪ দাগে যে জমির দলিল দিয়েছে তা কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে ১০ কিলোমিটার দূরের মিশ্রী পাড়া এলাকায়। এখন যেখানে ৫১৮৪ দাগে হোটেলের কাজ করছে তা সরকারি খাস জমি। এছাড়া কোন ধরনের অনুমতি ছাড়াই স্থাপনা নির্মাণ করায় নির্মাণ কাজ সোমবার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
তিনি আরো জানান, দাগ সংশোধন চেয়ে মূল ডিক্রী করলেও দলিল অবশ্যই পরিবর্তন করতে হবে। যে কারনে তারা জমা খারিজের জন্য (১০৬২-কে ১২/১৩) গত এক মাস আগে ভূমি অফিসে আবেদন করেছেন কিন্তু তা খারিজের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এব্যাপারে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক অমিতাভ সরকার জানান, প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, মহিপুর অফিসের তহশিলদারকে কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।