জাতীয় ঢাকা

মুন্সিগঞ্জে গ্যাসের তীব্র সংকট, বিক্ষুদ্ধ গৃহিণীরা

0302131359884247Jalaniআব্দুস সালাম, মুন্সিগঞ্জ: মুন্সিগঞ্জে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে রান্না-বান্না নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন গৃহিণীরা। তারা এখন বাধ্য হয়ে গ্যাসের চুলা ছেড়ে খড়ি (লাকড়ি) বা কেরোসিনের চুলায় রান্না করছেন। আবার অনেকে রান্না করছেন মধ্যরাতে। এই নিয়ে গৃহিণীদের বিরক্তির যেন শেষ নেই, তাদের মধ্যে এখন চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এছাড়া গত কয়েক বছরের মতো চলতি মাসেও গ্যাস সংকটের কারণে দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন শহরসহ আশপাশের হাজারো পরিবার। তারা দিন দিন বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন। অন্যদিকে, গ্যাসের দাবিতে মুন্সিগঞ্জবাসী আন্দোলনে রাজপথে নামলেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। এখন মুন্সিগঞ্জবাসীর সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে গ্যাস সংকট। এ বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা অবগত হলেও সমস্যা সমাধানে তাদের কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। সামাজিক নেতারা কয়েকদফা আন্দোলনে নামলেও তাদের হাতে কিছু মসলাপানি পড়লেই যেন তারা থমকে যায়। মুন্সিগঞ্জ গ্যাসের অফিস বিরোধী দলের মুন্সিগঞ্জ জেলা সভাপতি আব্দুল হাই সাহেবের বাড়ির সামনে। কিন্তু এ ব্যাপারেও তাদের কোন আন্দোলন করতে দেখা যায়নি। কারণ হিসেবে অনেকে মনে করেন তাদের বড় কারখানায় বড় মোটা পাইপ দিয়ে গ্যাসের লাইন নিয়েছেন। আন্দোলন করলে তারাই ফেঁসে যেতে পারেন তাই তারা আন্দোলনে নামছেন না। অপরদিকে গ্যাসের ব্যাপারে আন্দোলন করলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেয়ার হুমকিতে কেউ আন্দোলনে নামছেন বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা।

জানা গেছে, রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কিছুটা গ্যাস পাওয়া গেলেও দিনের বেলায় গ্যাসের অভাবে চুলা জ্বালাতে পারছেন না গৃহিণীরা। তাই তারা রাতের ঘুম হারাম করে দিনের রান্না আগের দিন রাতে করে রাখছেন।
শহরের মধ্য কোটগাও এলাকার চাকরিজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, প্রতিদিন রাত ১১টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত চুলায় কিছুটা গ্যাস পাওয়া যায়। দিনের বেলায় গ্যাস একেবারেই পাওয়া যায় না। ফলে প্রায়ই রাত জেগে রান্না করে আবার সকালে অফিস করতে হচ্ছে।
সাবিনা ইয়াসমিন জানান, গ্যাস সংকটের কারণে খাবার তৈরি করতে প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা থাকলেও তা নিরসনে কোনো উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। রমজানে লাকড়ি ও ক্রসিন দিয়ে রান্নার কাজ করতে হচ্ছে। গ্যাস পাওয়া না গেলেও বিল দিতে হচ্ছে নিয়মিতভাবে। মিটারের ব্যবস্থা করলে আমরা উপকৃত হতাম। অন্তত গ্যাস না জ্বালিয়ে বিল দিতে হতো না।
তিতাস গ্যাসের এক ঠিকাদার জানান, শিল্প কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বেশি দেওয়ায় বাসা বাড়িতে গ্যাস কম পাওয়া যাচ্ছে। কয়েকটি শিল্প কারখানায় গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দিলে এ সংকট থাকতো না বলে মনে করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ঠিকাদার।
গ্যাস অফিস সূত্র জানায়, মুন্সিগঞ্জে বর্তমানে আবাসিক প্রায় সাড়ে নয় হাজার এবং ৪৫টি শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগ রয়েছে। মুন্সিগঞ্জে গ্যাসের চাহিদা পাঁচ দশমিক ২৫ এমএমসিএম (মিলিয়ন ঘন মিটার)। এর বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে কত মিলিয়ন ঘন মিটার তা জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তিতাস গ্যাসের মুন্সিগঞ্জ কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মাধব চন্দ্র বিশ্বাস গ্যাস সংকটের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গ্যাস সংকট নিরসনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। তবে এখনো বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়নি। এছাড়া চাহিদা অনুযায়ী কতটুক গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে তার কোনো হিসেব আমাদের কাছে নেই।