অপরাধ ঢাকা

আশিয়ান সিটি এমডির বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা

Nazrul-sm20130811084728হটনিউজ২৪বিডি.কম,ঢাকা:আশিয়ান সিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার-ই এক সময়ের ব্যক্তিগত সহকারী রাজধানীর গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করেন।একের পর এক কু-প্রস্তাব দিয়েও কাজ না হওয়ায় ওই সহকারীর নামে মোবাইল ও ল্যাপটপ চুরির মামলাও দায়ের করান আশিয়ান এমডি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরার ওই ভুক্তভোগী সম্প্রতি নিয়োগ পেয়েছিলেন আশিয়ান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) হিসেবে। চাকরি করেছেন মাত্র ১১ দিন। এরই মধ্যে নজরুল ইসলামের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে তার উপর। আসতে থাকে একের পর এক কুপ্রস্তাব।মন গলাতে নজরুল ইসলাম জোর করে তাকে উপহার হিসেবে কিনে দেন দামী ব্রান্ডের মোবাইল (আইফোন-৫)। দেওয়া হয় আশিয়ান গ্রুপের পরিচালক হওয়ার ও বিয়ে করার প্রস্তাব। এতেও কোন কাজ না হওয়ায় পাঁচ কোটি টাকা দিয়ে তাকে কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তার ভাইয়ের কাছে। সব চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর গত ৪ আগস্ট রাজধানীর গুলশান থানায় ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে তিনটি মোবাইল ফোন ও দু’টি ল্যাপটপ চুরির মামলা করা হয়। মামলার বাদী আশিয়ান গ্রুপের ডিএমডি জাকির হোসেন।

মামলা দায়েরের মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে উপরের তদবিরে ওই ভুক্তভোগীকে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে আসে। তবে র‌্যাব-১ এর হস্তক্ষেপে ওই যাত্রায় পুলিশি হয়রানি থেকে বেঁচে যান ভুক্তভোগী। পরে গত ৮ আগস্ট রাজধানীর গুলশান থানায় আশিয়ানের এমডিকে আসামি করে একটি নারী নির্যাতন মামলা করেন ভুক্তভোগীর ভাই। মামলা নম্বর-১৩।

এদিকে এ ঘটনার পর থেকে পুরো পরিবারকে একের পর এক হুমকি দিয়ে যাচ্ছে আশিয়ান এমডিসহ তার সহযোগীরা। তার পরিবারকে দেখে নেওয়ার জন্য নজরুল ১০০ কোটি টাকা বাজেট করেছেন। ওই হুমকি ফেনা দেওয়া হয়েছে এমন রেকর্ড র‌্যাবের কাছে আছে বলে জানান ভুক্তভোগী।ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল কিসমত হায়াৎ জানান, সত্যিই বিষয়টি অমানবিক। নজরুল ইসলাম তাকে হয়রানি করছিলো বলে র‌্যাবের কাছে অভিযোগ দিয়েছিলো ভুক্তভোগী মেয়েটি। বর্তমানে ওই মেয়েটি ও তার পরিবারের সদস্যরা মোবাইল খুলতেও ভয় পাচ্ছে বলে র‌্যাবকে জানিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ওই মেয়েটিকে আটকের প্রসঙ্গে সাতক্ষীরা পুলিশ প্রথমে গুলশান থানার রিক্যুইজিশনের বিষয়টি বলেছিলো। তবে ওই বিষয়টি অস্বীকার করে গুলশান জোন পুলিশ। পরে এক পর্যায়ে বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরে সাতক্ষীরা থানা পুলিশ মেয়েটিকে ছেড়ে দেয়। মেয়েটি ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি এবং বিভিন্ন ধরনের কু-প্রস্তাব সংক্রান্ত ফোন রেকর্ড রয়েছে।

গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম হটনিউজকে মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আশিয়ান সিটির এমডি নজরুল এবং ভুক্তভোগী দু’জনই জামিনে রয়েছেন। তবে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।