অপরাধ ঢাকা

অধিকারের আদিল পাঁচ দিনের রিমান্ডে

images (5)আদালত প্রতিবেদক:তথ্য বিকৃতির অভিযোগে ডানপন্থী মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সেক্রেটারি আদিলুর রহমান খান শুভ্রকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। গতকাল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পরিদর্শক আশরাফুল ইসলাম আসামি আদিলুরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে দশ দিন রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন। এসময় আসামি আদিলের আইনজীবী সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি এ জে মোহাম্মদ আলী ও সানাউল্লাহ মিয়া রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানী শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম অমিত কুমার দে রিমান্ডে নেওয়ার এ আদেশ দেন। রিমান্ড শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন নেদারল্যান্ড দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি হেনরিক ভ্যান অ্যাচ, সুইডিশ দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি লো ভি ভনটেল ও আদিলের স্ত্রী সায়রা খানম।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ৫ মে হেফাজত ইসলাম কর্মসূচী পালন করার জন্য মতিঝিল শাপলা চত্বরে সমবেত হতে থাকে। এসময় হেফাজতের কর্মীরা বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে। পুলিশ এসব ধ্বংসাত্মক কাজে বাধা দিলে হেফাজতের কর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। হামলায় পুলিশের একজন সদস্যসহ কয়েকজন আহত হয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দিনব্যাপী হেফাজত কর্মীদের হামলা ও সংঘর্ষে মোট ১১জন নিহত হয়। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশ রাত ২টার দিকে হেফাজতের উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেয়। এই বিষয় নিয়ে আসামি আদিলুর হেফাজত ইসলামের সমাবেশে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের ঘটনা নিয়ে সম্পূর্ণ কাল্পনিক বিভ্রান্তিমূলক তথ্য অধিকারের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে সরকারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করেছেন। অধিকারের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ৬১ জন নিহত হয়। যা ইংরেজি ও বাংলা উভয় মাধ্যমে তা প্রকাশ করা হয়েছে। যার কারণে এদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এ ধরণের মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে আসামি দেশে-বিদেশে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে। এ ধরণের মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে আসামি তথ্য ও যোগাযোগ আইন ২০০৬ এর ৫৭(১) ও ২ ধারার অপরাধ করেছেন।

 

আসামির পক্ষে রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন শুনানীতে আইনজীবীরা আদালতকে বলেন, হেফাজতে ইসলামের সদস্যদের ‘হত্যার’ বিষয়ে অধিকারের দেয়া তথ্য সঠিক। অধিকার প্রকৃত তথ্য ও ঘটনা জনগণের কাছে তুলে ধরে। এছাড়া আসমি আদিলুর সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি একজন ভাল আইনজীবী। আসামি ঢাকা আইনজীবী সমিতির এক জন সদস্য। তাকে সন্দেহের ভিত্তিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় আটক করা হয়েছে। তাই আসামি আদিলকে রিমান্ডে নেয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। তাকে রিমান্ড বাতিল করে জামিন দিলে পলাতক হবে না।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি আবদুল্লাহ আবু আদালতবে বলেন, গত ৫ মে মতিঝিলে হেফাজতের সমাবেশের পুলিশি অভিযান নিয়ে অধিকারের বক্তব্য মিথ্যা। পুলিশ সে সময় কাউকে হত্যা করেনি; বরং হেফাজতের হামলা ও সংঘর্ষে পুলিশসহ ১১ জন নিহত হয়েছেন। এ বিষয় নিয়ে আসামি ভিন্ন ঘটনার মৃতদেহের ছবি সংগ্রহ করে বানোয়াট ক্যাপশন দিয়ে মতিঝিলের ঘটনায় ৬১ জন মারা গেছে বলে গণমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করেন। এছাড়া আসামি রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন অভিযোগ করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক।

গত ১০ জুন এরপর মানবাধিকার সংস্থা অধিকার একটি তথ্যানুসন্ধ্যান প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে দাবি করা হয়, ৫ ও ৬ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অভিযানে শত শত হেফাজতকর্মী নিহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে ৬১ জনের প্রাণহানি হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়। এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত ১০ জুলাই তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেই তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদন চেয়ে অধিকারের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখিত নিহতের সংখ্যা নিয়ে অধিকারের সুনির্দিষ্ট কোনও তথ্য প্রমাণ দেখাতে পারেনি। এ অভিযোগে গত ১০ আগস্ট আদিলুর রহমানকে আটক করে ডিবি পুলিশ।