জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর

পুলিশি বাধা সত্ত্বেও একে আজাদের সংবর্ধনায় মানুষের ঢল

A-K-Azad-Pic--SM-120130811034622ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের কৃতী সন্তান এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি, হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থপনা পরিচালক একে আজাদ শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় তাকে গণসংবর্ধনা দিয়েছেন ফরিদপুরের সাধারণ মানুষ। অনুষ্ঠানে আসতে পুলিশের বাধা ও একে আজাদের গাড়িবহরে লাঠিচার্জ সত্ত্বেও হাজারো মানুষের ঢল নামে সংবর্ধনাস্থলে।

ফরিদপুর অ্যান্ড ইউ ঢাকা ও ফরিদপুরের ৫টি ইউনিয়ন ডিক্রিরচর, আলিয়াবাদ, নর্থচ্যানেল, চরমাধবদিয়া এবং অম্বিকাপুর ইউনিয়নের জনগণের আয়োজনে শহরের চরটেপাখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান চলে সকাল রোববার বেলা ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত।

৫টি ইউনিয়ন ছাড়াও ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসে আজাদকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানের শুরুতে শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একে আজাদকে ফুলের তোড়া ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
আহম্মদ আলী মাষ্টারের সভাপতিত্বে একে আজাদের কর্মময় জীবনের নানা দিক তুলে ধরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা ফারুক হোসেন, ফরিদপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আওলাদ হোসেন বাবর, ফরিদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি আফজাল হোসেন খান পলাশ, আব্দুল লতিফ মিয়া, শাহ আলম মুকুল, মাহবুবুর রহমান খান, সাদেকুজ্জামান মিলন পাল, আবু সাইদ চৌধুরী বারী, মুস্তাকুর রহমান মুস্তাক, সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল হক ভোলা মাস্টার, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী, আজম খান প্রমুখ।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে একে আজাদ বলেন, ফরিদপুরের কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর টাকার অভাবে লেখাপড়া বন্ধ হবে না। এখন থেকে আমি তার দায়িত্ব নেবো। যারা পড়ালেখা করে যোগ্যতা অর্জন করবেন, তাদেরকেও চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। প্রত্যেক বাড়ির ছেলে-মেয়েদের শিক্ষিত করে তুলতে হবে। তা হলে তাদের পাশে দাঁড়াতে পারবো।

তিনি বলেন, আমি ফরিদপুরের মানুষের কাছ থেকে অনেক পেয়েছি। এখন তাদের কিছু দিতে এসেছি। ফরিদপুরে মিল-কারখানা করে মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করে তাদের সচ্ছল করাই আমার উদ্দেশ্য।

উল্লেখ্য, সংবর্ধনাস্থলে আসার আগে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ সাধারণ জনগণকে আসতে বাধা দেয়। এছাড়া ফরিদপুর পৌরসভার সামনে থেকে একে আজাদের গাড়িবহরে থাকা শতাধিক মোটরসাইকেল বহরে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। পুলিশের বেপরোয়া লাঠিচার্জে আজাদের ১০/১৫ জন সমর্থক আহত হয়।

এদিকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে পুলিশের লাঠিচার্জ ও বাধার সম্মুখীন হওয়ার ক্ষোভে একে আজাদ বলেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পক্ষে কাজ করার প্রতিদান তিনি এভাবে পাবেন, এটা ভাবতেও পারেননি।

তিনি বলেন, মন্ত্রীর পক্ষে ছিলাম, তাই লাঠিচার্জ করা হলো। আর বিএনপির নেতা চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের বিরোধিতা করেছিলাম, তাই তিনি ফুল পাঠিয়েছেন।

তিনি সভাস্থলে উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে লাঠিচার্জের ঘটনার বিচার দাবি করেন। সংবাদিক নেতাদের কাছেও এর বিচার দাবি করেন।

আজাদের সমর্থকরা লাঠিচার্জের স্বীকার হওয়ায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী। তিনি হটনিউজকে এ নিন্দার কথা জানান।