জাতীয় ঢাকা লাইফ স্টাইল শিক্ষাঙ্গন

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে হলের ঈদ

dhaka-hall-eid20130810224958আছাদুজ্জামান,হটনিউজ২৪বিডি.কম,ঢাকা:বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে হলে ঈদ করার স্বাদ একটু অন্যরকম। ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ। নেই নিত্যদিনের কোলাহল। হাকিম চত্বর, বটতলা, সবুজ চত্বর, টিএসসি, লাইব্রেরিও ফাঁকা। দোকানের মামারা থাকেন না অধিকাংশই। হলের এক ফ্লোরে থাকা ৮০-১০০ জনের মধ্যে হয়তো দেখা মেলে ২-৫ জনের।এমন সুনসান নীরবতায়ও শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ ঈদ কাটান হলে। মায়ের হাতের সেমাই, চটপটি নেই। নেই প্রিয়জনের মুখ। তবু কোথায় যেন দুঃখ, কষ্ট, বেদনামিশ্রিত একটু ভালো লাগা। ঈদ তো উদযাপন করা চাই। হোক সে নিজে হাত পুড়িয়ে রান্না করে খেয়ে। হোক ‍না তা কাছের জন ছাড়া।প্রতিবছরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী ঈদ করেন হলে। কেউ বাধ্য হয়ে, কেউ আবার শখ করে। বিচিত্র তাদের চিন্তা-চেতনা-অভিজ্ঞতা।হলের ঈদ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীমউদ্দীন হলের ২০৭ নম্বর রুমের ছাত্র কামরুজ্জামান জানান, হলে ঈদ করা এবারই প্রথম নয়। আগেও কয়েকটি ঈদ হলে কাটিয়েছি।কামরুজ্জামান বলেন, প্রয়োজন ও পড়াশুনার চাপে ঈদে হলে থাকতে হয়। পরিবারকে ছেড়ে ঈদ করতে মন খারাপ হয়। কিন্তু তারপরও থাকতে হয়। ঈদের ছুটিতে হলের ক্যান্টিন বন্ধ থাকায় খেতে হয় চাঁনখারপুল এলাকায় গিয়ে। ঈদের পরও এক সপ্তাহ এ অবস্থা থাকে। ঈদের দিন নামাজের পর হল কর্তৃপক্ষ খাবারের ব্যবস্থা করে। তারপরও থেকে যায় খাবারের কষ্ট।এ এফ রহমান হলের ছাত্র মাসুদ বলেন, কয়েকজন বন্ধু ও রুমমেট মিলে পরিকল্পনা করে ঈদের ছুটিতে হলে আছি। এটার একটা আলাদা মজা আছে। ঈদের দিন সারাদিন ঘুরে বেড়িয়েছি। এখন সবাই মিলে মুভি দেখছি। মজা করছি। অনলাইনে সময় কাটাচ্ছি।কবি জসীমউদ্দীন হলের ১২৮ নম্বর রুমের ছাত্র আব্দুর রহিম। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের মীরসরাই। রহিম বলেন, ঈদে বাস বা ট্রেনের টিকিটই পাইনি। পরে ভাবলাম কষ্ট করে না গিয়ে হলে থেকে যাই। আমার এক সাংবাদিক রুমমেট আমার সঙ্গে আছে। আমরা হলে থাকতে অভ্যস্ত। তারপরও পরিবারের কথা মনে হয়। সবাইকে মিস করি।আনন্দ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ঈদে হলে থেকে যানজটমুক্ত ঢাকায় বেড়াতে পারছি এটাই কম কিসের।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হলের শিক্ষার্থী মানিক বলেন, ১২ তারিখ আমি দেশের বাইরে যাবো। ঈদের পর গ্রাম থেকে আসতে সমস্যা হবে ভেবে থেকে গেলাম। কুয়েত মৈত্রী হলের ছাত্রী রোমানা জানান, গ্রামের বাড়ি রংপুর যাওয়ার পথে নানা সমস্যা আর টিকিট সংকট। ঈদের পর পরীক্ষা। তাই বাড়ি গিয়ে সময় নষ্ট না করে পড়াশোনা নিয়েই সময় কাটাচ্ছি। পরীক্ষা শেষে বাড়ি যাবো। মাকে বলেছি কোরবানি ঈদে অনেকদিন বাড়িতে থাকবো। হল জীবনে এটাই আমার প্রথম ঈদ। ছোটবেলা থেকে বাড়িতে ঈদ করেছি। হলে খুব একটা খারাপ লাগেনি।তবে হলে অনেকের ঈদই আবার কষ্টে কাটে। এসএম হলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, এমবিএ পাশ করে বেকার। চাকরি খুঁজছি। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও যোগাযোগ করি। বিসিএস হয়নি। বাড়িতে গেলে পরিবার ও এলাকাবাসীরা নানা কথা জিজ্ঞেস করবে। এখন অবসরপ্রাপ্ত বাবার টাকায় গ্রামে গিয়ে আবার টাকা আনার চেয়ে হলেই পড়ে আছি। এক বন্ধুর কাছে টাকা ধার করে চলছি। টাকা আয় না করলে জীবনে ঈদ থাকে না। পরিবারের সবাইকে ফোনে বুঝিয়ে বলেছি ঈদের পর আসবো।আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি বলেন, আমি জানি না আর কত যোগ্যতা হলে একটা ভালো চাকরি পাবো। আগে কম বেতন বলে কয়েকটি চাকরিতে জয়েন করিনি। ঈদের পর যেকোনো বেতনে জয়েন করবো। ঈদের ছুটিতে হলে বসে ব্লগে লেখালেখি করছি।
কবি জসীমউদ্দীন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, আমরা ঈদে হলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য আয়োজন রাখি। আর ঈদে হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে কর্মীরা সচেতন থাকে। আমি নিজে ঈদের ছুটির সময় সবকিছুর তদারকি করি। ছাত্রাবস্থায় আমিও হলে ঈদ করেছি। দুই একবার হলেও হলে ঈদ করার প্রয়োজন রয়েছে।

ঈদের খাবারের মেনু জানতে চাইলে তিনি জানান, বাসার মত তো আর হয় না, তবে যতটুকু পারা যায় লাচ্ছা সেমাই, মাংস, ডাল, পোলাও, সালাদ এসব দিয়ে শিক্ষার্থীদের চাহিদা পূরণের চেষ্টা করা হয়।