চট্টগ্রাম শিক্ষাঙ্গন

ফল বির্পযয়ে দায়ী ভারসাম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা

চট্টগ্রাম,হটনিউজ২৪বিডি.কম:সদ্য প্রকাশিত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার (এইচএসসি) ফল বিপর্যয়ের পেছনে ‘ভারসাম্যহীন’ শিক্ষাব্যবস্থাকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।একই সঙ্গে সৃজনশীল প্রশ্ন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পরীক্ষার সময় বারবার পিছিয়ে যাওয়ার প্রভাবও পাসের হার কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ বলে মন্তব্য করেছেন তারা।ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনে ‘ভারসাম্যহীন’ শিক্ষাব্যবস্থাকে দায়ী করে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান হটনিউজকে বলেন, ‘বর্তমানে শিক্ষা ক্ষেত্রে শহর ও গ্রামের মধ্যে ব্যবধান বাড়ছে। শিক্ষার্থীরাও একমুখী হয়ে ভারসাম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।’তিনি বলেন, ‘শহরে ভালো মানের শিক্ষক ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকায় এখানে শিক্ষার্থীরা ভাল করছে। অন্যদিকে সুযোগ-সুবিধার অভাবে গ্রামের ছেলে-মেয়েরা ঝড়ে পড়ছে। এই ভারসাম্যের অভাবে প্রতিবছরই হাজার হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা থেকে পিছিয়ে পড়ছে।’শনিবার (৩ আগস্ট) সারাদেশে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ০৯ শতাংশ। যা গতবারের চেয়ে ১১ দশমিক ০৯ কম। নগরীতে পাসের হার ৭HSC20130810062326৪ দশমিক ০৮ শতাংশ হলেও চট্টগ্রাম জেলায় তা ৫২ দশমিক ৭৯ শতাংশ।অন্যদিকে কক্সবাজারসহ তিন পার্বত্য জেলাতেও শিক্ষার্থীদের পাসের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এর মধ্যে কক্সবাজারে পাসের হার গতবারের চেয়ে ৮ দশমিক ৬১ ভাগ কমে ৬২ দশমিক ৬১, রাঙামাটিতে ৯ দশমিক ৭৪ কমে ৪৯ দশমিক ০৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া খাগড়াছড়িতে ৪৬ দশমিক ৮৬ এবং বান্দরবানে ৫৫ দশমিক ৪১ ভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে।ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে শিক্ষার্থীরা বাণিজ্য শাখার দিকে বেশি হেলে পড়ছে, বিজ্ঞান কিংবা মানবিকে তারা পড়তে চাইছে না। এতে বাণিজ্যের দিকে চাপ বেড়ে গেছে। ফলে শিক্ষার অন্যান্য শাখার ক্ষেত্রে কোন ভারসাম্য নেই।’কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় পড়াশোনা সহজ ও কম পড়ে পাস করা যায় ভেবেই শিক্ষার্থীরা এদিকে আসছে। তবে শিক্ষা ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও মানবিক শাখার প্রতিও আগ্রহ বাড়াতে হবে।’এদিকে প্রথমবারের মতো সৃজনশীল প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ায় অনেকে সুন্দরভাবে উত্তর পত্রে লিখতে পারেনি। যার কারণে অনেক শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় খারাপ করেছে।প্রসঙ্গত, পাঠ্য বইয়ের আলোকে এইচএসসিতে সৃজনশীল পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্রে দেওয়া একটি অনুচ্ছেদ পড়ে তার ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। এক্ষেত্রে রচনামূলক ৬০ নম্বর এবং নৈর্ব্যক্তিকে ৪০ নম্বরের প্রশ্ন থাকে বলে চট্টগ্রাম বোর্ড সূত্র জানায়।চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. পীযুষ দত্ত হটনিউজকে জানান, সৃজনশীল প্রশ্ন না বোঝায় অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় খারাপ করেছে। কেননা প্রশ্নপত্রের রচনামূলক ও নৈর্ব্যক্তিক অংশে পৃথকভাবে পাসের বাধ্যবাধকতায় সার্বিকভাবে বোর্ডে পাসের হার কমেছে।তিনি জানান, এ বছর সৃজনশীল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হওয়ায় মানবিকে পৌরনীতিতে কম সংখ্যক শিক্ষার্থী পাস করেছে। একই কারণে বিজ্ঞান শাখার রসায়ন এবং বাণিজ্যের ব্যবসায় নীতি ও প্রয়োগে পাসের হার কমে গেছে।সৃজনশীল পদ্ধতি ভাল উল্লেখ করে শিক্ষাবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘প্রথম বছরেই ফলাফল বিপর্যয় সৃজনশীল পদ্ধতির সফলতার পথে একটি অন্যতম বাধা। এক্ষেত্রে প্রশ্নকর্তার মান নিশ্চিত করতে হবে। যোগ্য কি না তা বিবেচনা করে তাকে নিয়োজিত করতে হবে। আর তিনি যদি রাজনৈতিক বিবেচনায় হন তাহলে এ উদ্দেশ্যের সফলতা আসবে না।’গ্রামে ও শহরে শিক্ষার বৈষম্য কমাতে এই সৃজনশীল পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি জোরদার করতে হবে।’পাশাপাশি চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফলাফল কমে যাওয়ার পেছনে অন্য কোন সমস্যা হয়েছে কিনা তাও অনুসন্ধান করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে পাসের হার কমার জন্য রাজনৈতিক অস্থিরতাকে দায়ী করেছেন চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শেখর দস্তিদার। তিনি হটনিউজকে বলেন, ‘বারবার সহিংসতার ঘটনায় পরীক্ষার সময় পেছানোর কারণে শিক্ষার্থীদের মনোবল ভেঙ্গে যায়। যা ফলাফলের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে।’

সৃজনশীল প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘এ বছর আগের তুলনায় অধিক সংখ্যক বিষয়ে সৃজনশীল পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ শিক্ষকদের দেওয়া হয়নি। ফলে সার্বিকভাবে বোর্ডে ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ বছর চট্টগ্রাম বোর্ডে মানবিকের পাশাপাশি বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা শাখায়ও পাসের হার কমেছে। বাণিজ্যে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বেশি থাকলেও চট্টগ্রামে এ বছর গতবারের তুলনায় পাসের হার ১৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ কমেছে।

 

 

শনিবার (৩ আগস্ট) সারাদেশে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ০৯ শতাংশ। যা গতবারের চেয়ে ১১ দশমিক ০৯ কম। নগরীতে পাসের হার ৭৪ দশমিক ০৮ শতাংশ হলেও চট্টগ্রাম জেলায় তা ৫২ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

অন্যদিকে কক্সবাজারসহ তিন পার্বত্য জেলাতেও শিক্ষার্থীদের পাসের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এর মধ্যে কক্সবাজারে পাসের হার গতবারের চেয়ে ৮ দশমিক ৬১ ভাগ কমে ৬২ দশমিক ৬১, রাঙামাটিতে ৯ দশমিক ৭৪ কমে ৪৯ দশমিক ০৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া খাগড়াছড়িতে ৪৬ দশমিক ৮৬ এবং বান্দরবানে ৫৫ দশমিক ৪১ ভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে শিক্ষার্থীরা বাণিজ্য শাখার দিকে বেশি হেলে পড়ছে, বিজ্ঞান কিংবা মানবিকে তারা পড়তে চাইছে না। এতে বাণিজ্যের দিকে চাপ বেড়ে গেছে। ফলে শিক্ষার অন্যান্য শাখার ক্ষেত্রে কোন ভারসাম্য নেই।’

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় পড়াশোনা সহজ ও কম পড়ে পাস করা যায় ভেবেই শিক্ষার্থীরা এদিকে আসছে। তবে শিক্ষা ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও মানবিক শাখার প্রতিও আগ্রহ বাড়াতে হবে।’

এদিকে প্রথমবারের মতো সৃজনশীল প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ায় অনেকে সুন্দরভাবে উত্তর পত্রে লিখতে পারেনি। যার কারণে অনেক শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় খারাপ করেছে।

প্রসঙ্গত, পাঠ্য বইয়ের আলোকে এইচএসসিতে সৃজনশীল পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্রে দেওয়া একটি অনুচ্ছেদ পড়ে তার ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। এক্ষেত্রে রচনামূলক ৬০ নম্বর এবং নৈর্ব্যক্তিকে ৪০ নম্বরের প্রশ্ন থাকে বলে চট্টগ্রাম বোর্ড সূত্র জানায়।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. পীযুষ দত্ত বাংলানিউজকে জানান, সৃজনশীল প্রশ্ন না বোঝায় অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় খারাপ করেছে। কেননা প্রশ্নপত্রের রচনামূলক ও নৈর্ব্যক্তিক অংশে পৃথকভাবে পাসের বাধ্যবাধকতায় সার্বিকভাবে বোর্ডে পাসের হার কমেছে।

তিনি জানান, এ বছর সৃজনশীল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হওয়ায় মানবিকে পৌরনীতিতে কম সংখ্যক শিক্ষার্থী পাস করেছে। একই কারণে বিজ্ঞান শাখার রসায়ন এবং বাণিজ্যের ব্যবসায় নীতি ও প্রয়োগে পাসের হার কমে গেছে।

সৃজনশীল পদ্ধতি ভাল উল্লেখ করে শিক্ষাবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘প্রথম বছরেই ফলাফল বিপর্যয় সৃজনশীল পদ্ধতির সফলতার পথে একটি অন্যতম বাধা। এক্ষেত্রে প্রশ্নকর্তার মান নিশ্চিত করতে হবে। যোগ্য কি না তা বিবেচনা করে তাকে নিয়োজিত করতে হবে। আর তিনি যদি রাজনৈতিক বিবেচনায় হন তাহলে এ উদ্দেশ্যের সফলতা আসবে না।’

গ্রামে ও শহরে শিক্ষার বৈষম্য কমাতে এই সৃজনশীল পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি জোরদার করতে হবে।’

পাশাপাশি চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফলাফল কমে যাওয়ার পেছনে অন্য কোন সমস্যা হয়েছে কিনা তাও অনুসন্ধান করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে পাসের হার কমার জন্য রাজনৈতিক অস্থিরতাকে দায়ী করেছেন চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শেখর দস্তিদার। তিনি হটনিউজকে বলেন, ‘বারবার সহিংসতার ঘটনায় পরীক্ষার সময় পেছানোর কারণে শিক্ষার্থীদের মনোবল ভেঙ্গে যায়। যা ফলাফলের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে।’

সৃজনশীল প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘এ বছর আগের তুলনায় অধিক সংখ্যক বিষয়ে সৃজনশীল পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ শিক্ষকদের দেওয়া হয়নি। ফলে সার্বিকভাবে বোর্ডে ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ বছর চট্টগ্রাম বোর্ডে মানবিকের পাশাপাশি বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা শাখায়ও পাসের হার কমেছে। বাণিজ্যে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বেশি থাকলেও চট্টগ্রামে এ বছর গতবারের তুলনায় পাসের হার ১৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ কমেছে।