জাতীয় রাজশাহী স্বাস্থ্য

ডাক্তার শূন্য ঈদে রামেক হাসপাতাল!

download (23)স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,রাজশাহী:হটনিউজ২৪বিডি.কম:ঈদের ছুটিতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার শূন্য হয়ে পড়েছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল। ফলে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা স্থবির হয়ে পড়েছে। বর্তমানে এ নিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনরা চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। কারণ বাইরের ক্লিনিকগুলোতেও একই অবস্থা। তবে কর্তৃপক্ষ বলছেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকলেও ঈদের ছুটিতে বিশেষ ব্যবস্থায় রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।

গত বুধবার থেকেই রামেক হাসপাতাল ছাড়তে শুরু করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। ঈদের দিন থেকে ওয়ার্ডের মধ্যে তাদের চেম্বার একবারেই ফাঁকা। ফলে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার গতি ঝিমিয়ে পড়ে।

শনিবার রামেক হাসপাতালের 6নং ওয়ার্ডের বাবুজান শেখ নামের এক রোগী হটনিউজকে বলেন, ঈদের দিন থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পাশাপাশি অভিজ্ঞ কোনো নার্সও থাকছেনা। শুধু তাই নয়, হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে থাকা অন্য ইন্টার্ন ও নার্সরা ডিউটির নিয়মও মানছেন না। তারা স্বাধীনভাবে ওয়ার্ডগুলোতে যাতায়াত করছেন। এতে শহর ছাড়াও গ্রাম অঞ্চল থেকে আসা অনেক রোগী চিকিৎসা অভাবে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।

অথচ হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিটের জন্য অবশ্যই একজন করে রেজিস্ট্রার, একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকবেন এবং আগের নিয়ম মতো ইন্টার্ন ও সংশ্লিষ্ট নার্সরা ওয়ার্ডগুলোতে দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু এ নিয়ম মানা হচ্ছে না হাসপাতালের কোনো ওয়ার্ডেই।

শনিবার সকালে হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, ওয়ার্ডগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স নেই। রোগীর লোকজন নার্সদের টেবিলের সামনে ওষুধ লিখে নেওয়ার জন্য কাগজপত্র নিয়ে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে আরো বেশি দেরি করানো হচ্ছে।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় নতুন কোনো রোগী আসলে জরুরি বিভাগের কাগজপত্র নিয়ে ইন্টার্ন কক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে থাকছেন ভর্তির জন্য। ২৭নং শিশু ওয়ার্ডে জয়নাল আবেদিন নামের এক শিশুর পিতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটা কোনো হাসপাতালের চিত্র হতে পারে না।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ছুটির জন্য তো মানুষের অসুখ থেমে থাকেনা। তাহালে কেন এই অবস্থা প্রশ্ন রাখেন তিনি। বর্তমানে রামেক হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রায় একই অবস্থা। জয়নাল আবেদিনের মতো সব অভিভাবকের একই প্রশ্ন। দেখার কেউ নেই।

এ ব্যাপারে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমানের সঙ্গে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তা রিসিভ করেন নি।