জাতীয় বরিশাল লাইফ স্টাইল

বন্যায় ঈদ ম্লান ভোলার ৫০ গ্রামে

bhola-pic--BG-72520130809050751ডিস্ট্রিক করেসপন্ডেন্ট,হটনিউজ২৪বিডি.কম,ভোলা:বছর ঘুরে এসেছে খুশির ঈদ। চারদিকে ঈদের আমেজ বিরাজ করলেও ঈদের আনন্দ নেই ভোলার নদী ভাঙন কবলিত এলাকা ও বানভাসী মানুষের।

জেলার ৫টি উপজেলার বেড়িবাঁধে আশ্রয় নেওয়া ছিন্নমূল ও জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত এসব মানুষের ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে।নদী ভাঙন আর জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সহায় সম্বল হারিয়ে তারা এখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। তাদের দিন কাটছে কষ্টে। ঈদ হাসির পরিবর্তে তাদের কান্না বয়ে এনেছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভোলার নদীর উপকূলবর্তী এলাকায় বাস করেন লাখো মানুষ। দিন মজুর, জেলে ও আর ক্ষেতখামারে কাজ করে খাবার জোটে তাদের। ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এসব এলাকার মানুষ জানমাল।এরপর ৪ দফা জোয়ারের পানি তাদের সব কিছু কেড়ে নেওয়ার পর গত তিনদিন ধরে আবারও প্লাবিত হয়েছে তাদের ঘরবাড়ি। শুক্রবার ভোরে ঈদের দিনও পানিতে প্লাবিত হয়েছে জেলার অন্তত ৫০টি গ্রাম।

এর মধ্যে আবার চলছে নদী ভাঙন। গৃহহারা হয়ে আর পানির হাত থেকে বাচঁতে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছে বহু পরিবার। ঈদ এলেও খুশি নেই তাদের মনে। জোয়ারের পানিতে বিস্তীর্ণ জনপদ তলিয়ে যাওয়ায় এসব পরিবারের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই।সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের গৃহবধূ সালমা বলেন, ঈদ চলছে কিন্তু আমরা ছেলে-মেয়েদের নিয়ে আনন্দ করতে পারছি না। পানির ভেতর রয়েছি, ভালো খাবারও তুলে দিতে পারব না সন্তাদের।কাচিয়ার সিরাজ মিয়া বলেন, আমাগো তো কিছুই নাই, ঈদ এলেও পোলা পাইনগো নতুন জামা কাপর নিতে দিতে পারুন না। আপনারাই দেখছেন আমরা কি কষ্টে আছি। এর মধ্যে আবার নতুন জামা-কাপড় কিনুম কি দিয়া।কাচিয়ার কাঠির মাথা এলাকার গৃহবধূ হোসনে আরা হটনিউজকে বলেন, গত বছর ঈদ করতে পারেনি। মনে করেছিলাম এ বছর ভালোভাবে ঈদ করবো। কিন্তু এ বছরতো আরও খারাপ অবস্থা। পানিতে সব তলিয়ে গেছে।স্কুলছাত্রী রেহানা (৮) ও সুমা (৯) জানায়, সবাই নতুন জামা কাপড় পরে ঈদের আনন্দ করছে। কিন্তু আমরা নতুন জামা কাপড় পাই নাই।bhola-pic--BG-72520130809050751ভোলার জেলা প্রশাসক খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান হটনিউজকে বলেন, অসহায়, গরীব ও দুস্থরা যাতে ঠিকমতো ঈদ পালন করতে পারে সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে ভিজিএফ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। জেলার এক লাখ ৫৮ হাজার পরিবারকে পরিবার প্রতি ১০ কেজি হারে তাদের মাঝে চাল দেওয়া হয়েছে। আশা করছি এরা ঠিকভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারছে।