চট্টগ্রাম রাজনীতি

শেষ সময়ে মহিউদ্দীন বন্দনা

mohiuddin20130809050332নিউজ২৪বিডি.কম ,চট্টগ্রাম:পঁচাত্তর উত্তর দলের দু:সময়ে চট্টগ্রামে যে ক’জন নেতা আওয়ামী লীগের হাল ধরেছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম তৎকালীন তুখোড় শ্রমিক নেতা এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরী।পরর্বতীতে সামরিক শাসন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় নগর আওয়ামী লীগে জায়গা করে নেন তিনি। নব্বই দশকের শুরু থেকে মহিউদ্দীনের অনেকটা একক আধিপত্য শুরু হয় নগর আওয়ামী লীগে।নগর আওয়ামী লীগে তিনবার নির্বাচিত সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরীর একক আধিপত্যে এবার ভাঙন ধরে দল ক্ষমতায় আসার পর। তার নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে সৃষ্টি হয় পৃথক, কমপক্ষে দু’টি সক্রিয় ধারা।

একটির নেতৃত্বে আছেন নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও কোতয়ালী আসনের সাংসদ নূরুল ইসলাম বিএসসি। আরেকটির নেতৃত্বে আছেন নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ডা. আফছারুল আমিন।আর মেয়র পদে মহিউদ্দীনের পরাজয় তার বিরোধী ধারাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।বিএসসি ও আফছারুলে বাইরে বন্দর এলাকার সাংসদ এম এ লতিফ এবং নগর আওয়ামী লীগ নেতা আজম নাছির উদ্দীনের নেতৃত্বে আরও দু’টি ধারার সৃষ্টি হলেও সেগুলো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়তে পারেনি।

তবে ক্ষমতার শেষ সময়ে এসে মহিউদ্দীন বিরোধী ধারাগুলো ঝিমিয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে হটনিউজে সাক্ষাৎকার দিয়ে নূরুল ইসলাম বিএসসি মহিউদ্দীনকে তার নেতা বলে ঘোষণা দিয়েছেন।আর ডা.আফছারুল আমিনও বলছেন, দলের ভেতর মহিউদ্দীনের অনেক অবদান আছে। দু’নেতাই মহিউদ্দীনের সঙ্গে বিভিন্ন দলীয় সভা-সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন, যা ছয় মাস আগেও কল্পনা করতে পারেনি দলের নেতা-কর্মীরা।বিরোধিতা থেকে বন্দনার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, ‘এসব বিষয়ে আমি কিছু বলব না। আমার কী বলার আছে? অনেকে অনেক কিছু বলেছেন, আমি কিছু মনে রাখিনি। দল চালাতে গিয়ে কখনও কারও মনে আঘাত দিয়ে থাকতে পারি। কিন্তু নিজের স্বার্থে কিছু করিনি।’জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ডা. আফছারুল আমিন হটনিউজকে বলেন, ‘দলে ওনার (মহিউদ্দীন) অনেক অবদান আছে। আমার সঙ্গে তো আর্থিক লেনদেন কিংবা সম্পদের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে কোন বিরোধ ছিল না। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমাদের চিন্তার ফারাক ছিল। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় আমরা অনেক কাছাকাছি চলে এসেছি। যা এখন সবাই প্রকাশ্যে দেখছেন।’

আর সাংসদ নূরুল ইসলাম বিএসসি হটনিউজকে বলেন, ‘মহিউদ্দীন চৌধুরী দলের জন্য অনেক করেছেন, এখনও করছেন। তিনি নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি। সুতরাং তার সঙ্গে আমার দ্বন্দ থাকার প্রশ্নই ওঠেনা। সামান্য মান-অভিমান ছিল, সেগুলো ভুলে গেছি।’দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত সংসদ নির্বাচনে নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কোতয়ালী আসনে নূরুল ইসলাম বিএসসি’র মনোনয়নের ঘোর বিরোধী ছিলেন মহিউদ্দীন। তবে কেন্দ্রঘোষীত মহাজোট প্রার্থীর বিপরীতে দাঁড় করিয়ে ডা.আফছারুল আমিনকে জয়ী করতে নিরলস কাজ করেছিলেন মহিউদ্দীন।নির্বাচনের পর অভিমানী নূরুল ইসলাম বিএসসি দলের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক, কয়েকজন সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য, বেশ কয়েকটি থানা ও ওয়ার্ডের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের নিয়ে গড়ে তোলেন স্বতন্ত্র একটি ধারা। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ব্যানারে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন শুরু করেন তারা।

২০১০ সালে মেয়র নির্বাচনে মহিউদ্দীনের পরাজয়ে ডা.আফছারুল আমিনও চলে যান পাশ থেকে। সিডিএ চেয়ারম্যান ও নগর আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক আবদুস ছালামকে সঙ্গে করে গড়ে তোলেন আরও একটি ধারা।কেন্দ্রীয় নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করে এমনকি প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে এসে আবার ঢাকায় নিয়ে বেশ কয়েক দফা সমঝোতা বৈঠক করেও বিরোধ মেটাতে পারেননি। সেই বিরোধ ক্ষমতার শেষ বছরে এসে অনেকটাই মিলিয়ে যাচ্ছে।বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই বিএসসি ও আফছারুল গ্রুপের নেতারা মহিউদ্দীনের কর্মসূচীতে যোগ দিচ্ছেন। পাল্টা ব্যানারে কোন কর্মসূচি পালন করছেন না মহিউদ্দীন ও আফছারুল।গত জুন মাস থেকে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে অতিথি হয়ে যাচ্ছেন মহিউদ্দীন ও আফছারুল। সাংসদ বিএসসি বলছেন, মহিউদ্দীন যেসব কমিটি করছেন তার বিরোধিতা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। কারণ, তার বিশ্বাস মহিউদ্দীনের মনোনীতরা নৌকার প্রার্থীর বিরোধিতা করবেন না।ডা.আফছারুল আমিন হটনিউজকে বলেন,এতদিন গণতন্ত্রের চর্চা হয়নি, প্রচলন ছিলনা। এখন চর্চা শুরু হয়েছে। দলের ভেতর বিশুদ্ধতা এসেছে।

আপাতত নেতাদের মধ্যে ঐক্যের সুরে নগর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিশেষত মহিউদ্দীনের অনুসারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে নগর আওয়ামী লীগের এক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হটনিউজকে বলেন, আসলে ওনারা (বিএসসি ও আফছারুল) ভেবেছিলেন, মেয়র পদে হেরে গেলে মহিউদ্দীন ভাই আর রাজনীতি করতে পারবেন না। কিন্তু রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে মহিউদ্দীন ভাই আবার মাঠ নিজের দখলে নিয়েছেন।

মন্ত্রীর অনুসারী এক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হটনিউজকে বলেন, ক্ষোভ, বঞ্চনা এবং হতাশা থেকেই মহিউদ্দীন ভাইয়ের বিরুদ্ধে গ্রুপিংয়ের রাজনীতি শুরু হয়েছিল। তিনি যেভাবে দল চালাচ্ছিলেন সেভাবে আর রাজনীতি করার সুযোগ ছিলনা। এখন যখন আবারও ঐক্য ফিরে আসছে, সবার উচিৎ সেই ঐক্যকে ধরে রাখা। কারও এমন কোন বক্তব্য, বিবৃতি দেয়া উচিৎ নয় যাতে ঐক্য বিনষ্ট হয়।