জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর রাজনীতি সারাদেশ

মাগো তোমার চরণে জানি পাব ঠাঁই

সজীব বিশ্বাস,হটনিউজ২৪বিডি.কম ,ম্যানচেস্টার কানেক্টিকাট:‘মা গো! আমায় বলতে পারিস কোথায় ছিলাম আমি- Hasina-bg20130808160015কোন্ না-জানা দেশ থেকে তোর কোলে এলাম নামি?’

-হ্যাঁ, ছেলেবেলায় পড়া কাজী নজরুল ইসলামের সুরে এভাবেই শুধালো মাকে এক ছেলে যে, সাত সমুদ্র তেরো নদী পার হয়ে মায়ের ডাকে মায়ের প্রতি ভালোবাসার টানে মায়ের কোলে ছুটে এসেছে! ছেলেটি এমন এক মায়ের কাছে ফিরে এসেছে যে ‘মা’ এক বর্ণের এক বিশাল সর্বজনীন নাম এবং পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ও মধুরতম শব্দ!ছোট্ট একটি শব্দ এই ‘মা’ নিয়ে কত ছড়া, কত কবিতা, কত গল্প, কত উপন্যাস-উপাখ্যান, কত গান রচিত হয়েছে- তার হিসাব কী কেউ রেখেছেন! এই মায়ের ভালোবাসাকে কি কখনো খণ্ডন করা যায়! এই মা-এর তুলনা যে একমাত্র এই মমতাময়ী মা-ই, যার কাছে খুঁজে পাওয়া যায়, মমতার সুশীতল স্নিগ্ধ ছায়া!অধীর আগ্রহে মার কাছে ছুটে আসার সময় সাত সমুদ্র তেরো নদী পার হতে হাজার হাজার মাইল অতিক্রম করার সময় ছেলেটি শুধু মায়ের কথাই ভেবেছে এবং মায়ের কথাই- সর্বক্ষণ হৃদয়ে শুধু হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের এই গানটি বার বার বেজে উঠেছে-

“মা… মা…
পথের ক্লান্তি ভুলে
স্নেহ ভরা কোলে তব
মাগো বল কবে শীতল হব…
কতদূর আর কতদূর… বলো মা…।।

আঁধারের ভ্রুকুটিতে ভয় নাই
মাগো তোমার চরণে জানি পাব ঠাঁই…
যদি এ পথ চলিতে কাঁটা বেঁধে পায়
হাসিমুখে সে বেদনা সব…
কতদূর আর কতদূর… বলো মা…।।
চিরদিনই মাগো তব করুণায়
ঘরছাড়া প্রেম দিশা খুঁজে পায়..
ঐ আকাশে যদি মা কভু ওঠে ঝড়
সে আঘাত বুকে পেতে লব…
কতদূর আর কতদূর… বলো মা…।।
যতই দুঃখ তুমি দেবে দাও
তবু জানি কোলে শেষে তুমি টেনে নাও…
মাগো তুমি ছাড়া এ আঁধারে গতি নাই
তোমায় কেমনে ভুলে রব…
কতদূর আর কতদূর… বলো মা…।।”

অবশেষে ছেলেটি পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের স্থান মায়ের হৃদয়ে এবং মায়ের আঁচলে ফিরে এসেছে- আর সেই মা-ই তার চালধোয়া স্নিগ্ধ হাত আঁচলে মুছে সেই আঁচল দিয়ে দীর্ঘ পথক্লান্ত ছেলের মুখমমণ্ডল মুছে দিলেন- পথের ক্লান্তি ভুলে ছেলের কাছে পৃথিবীতে এর চেয়ে সুখ ও শান্তি আর কী হতে পারে!

ছেলে বায়না ধরলো, তার জন্মদিনে মায়ের হাতে রান্না করা তার প্রিয় খাবার মোরগ-পোলাও খাবেন। নয়নের মনি ছেলের আবদার বলে কথা- যত ব্যস্ততাই থাকুক না কেন, শাড়ির আঁচল পেঁচিয়ে চুলে খোঁপা বেঁধে মা ছুটে গেলেন রান্নাঘরে নিজ হাতে মোরগ-পোলাও রান্না করতে। এখানে বাংলার জনপ্রিয় প্রবাদটি ‘যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে’। মনে হয়, শুধু এই মমতাময়ী মায়ের জন্যই প্রযোজ্য। এখানে রান্না ঘর বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি প্রধানমন্ত্রীত্ব, বাধা হয়ে পড়েনি দলীয় প্রধান, বাধা হয়ে পড়েনি দেশরত্ম ও গণতন্ত্রের মানসকন্যা, বাধা হয়ে পড়েনি জাতির জনকের কন্যা, এ সব কিছুই তার কাছে তুচ্ছ শুধু একটি, একটি পরিচয়ের কারণে, তিনি যে একজন আবহমান বাংলার স্নেহময়ী মা জননী, যার ভালোবাসা চিরন্তন শ্বাশত।

কিন্তু, দৃঢ় প্রতিজ্ঞা নিয়ে মায়ের ভালোবাসায়, মায়ের ডাকে, মায়ের কোলে এভাবে ছুটে আসা কে এই ছেলে? কী তার নাম, পরিচয়? আর তার মায়ের পরিচয়ই বা কী?

ছেলেটি হলেন সর্বকালের সর্বশেষ্ঠ বাঙালি সন্তান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অতি আদরের দৌহিত্র এবং গনতন্ত্রের মানস কন্যা দেশরত্ম শেখ হাসিনা এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরমাণুবিজ্ঞানী ড. এম. ওয়াজেদ আলী মিয়ার ছেলে বাংলাদেশের ডিজিটাল বাংলাদেশের পথিকৃৎ সজীব ওয়াজেদ জয়, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালেয় থেকে কম্পিউটার সায়ন্সে গ্রাজুয়েশন করেন এবং পরবর্তীতে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোক প্রশাসনে মাস্টার্স করেন।
কিন্তু, দেখা গেছে, মায়ের চিরন্তন ভালোবাসা নিয়েও রাজনীতি!

সন্তানের প্রতি মায়ের পবিত্র চিরন্তন ভালোবাসার অমর্যাদা করে শ্রুতিকটু মন্তব্য করেছেন অনেক বড় বড় রাজনৈতিক নেতা। যারা এ ধরনের মন্তব্য করেছেন, তারা কি তাদের মায়ের কাছ থেকে সবসময় রূঢ় ব্যবহার পেয়েছেন? নিশ্চয়ই না। তাহলে মায়ের পবিত্র স্নেহ-মমতা-ভালোবাসার প্রতি কেন এই আক্রমণাত্মক মন্তব্য?

অবশ্য যারা এই ধরনের মন্তব্য করেছেন, তারাই সেটা ভালো বলতে পারবেন।

ছেলেটি তার মমতাময়ী মাকে এবং দেশবাসীকে জানিয়ে দিয়েছেন, ‘ঐ আকাশে যদি মা কভু ওঠে ঝড়, সে আঘাত বুকে পেতে লব’ এবং মাকে নজরুলের কবিতার ভাষায় আরো জানিয়ে দিয়েছেন-
‘আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে?
তোমার ছেলে উঠলে গো মা রাত পোহাবে তবে!’

হ্যাঁ, এই দীর্ঘ রাত পোহাবার পর একটি সুন্দর স্নিগ্ধ সোনালি সকালের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম তথা নতুন প্রজন্ম। অপেক্ষা করছে, ত্রিশ লাখ শহীদের পবিত্র আত্মা এবং তাদের পরিবার। অপেক্ষা করছে, মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবার, আরো অপেক্ষা করছে এবং ছেলেটির দিকে অধীর আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বাংলার মুক্তিকামী কোটি কোটি বাঙালি। কিন্তু, রাত পোহাবার কত দেরি!!