জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর রাজনীতি সারাদেশ

তরুণ প্রজন্মের জন্য বর্তমানকে উৎসর্গ করেছি : প্রধানমন্ত্রী

হটনিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য যে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার আমরা সে পদক্ষেপগুলো যেমন নেব, তেমনি তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করে তোলার লক্ষ্যে আমার বর্তমানকে আমি উৎসর্গ করে দিচ্ছি তরুণদের ভবিষ্যতের জন্য। তারাই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়বে। আজ রবিবার (২১ অক্টোবর) সকালে গণভবনে মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি (এমএনপি) সেবা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।তরুণদের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর দেশ গড়তে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণদের মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করতে হবে। তাদের প্রযুক্তি সম্পর্কে আরও জানতে হবে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য যা যা করা দরকার আমরা তা করবো। আমরা বর্তমান প্রজন্ম তরুণদের জন্য উৎসর্গ করছি। কারণ তরুণরাই ভবিষ্যতে এ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল। প্রযুক্তির দিক থেকে গত ১০ বছরে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। তবে প্রযুক্তি হলো বহমান নদীর মতো। প্রতিনিয়ত এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে।বাংলাদেশে প্রথম মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা বর্ণনা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির একজন মন্ত্রী প্রথম মোবাইল ফোনের কোম্পানি খুলেছিলেন। ওই সময় উনি আমাকে একটি ফোন উপহার দেন। মোবাইল ফোনটির আয়তন ও ব্যাটারির আকার ছিল তুলনামূলক অনেক বড়। আপনি যদি ফোন করেন তবে প্রতি মিনিট ১০ টাকা দিতে হবে। আর সেই যুগে ১০ টাকা কিন্তু কম না। একদিনের বাজার হয়ে যেতো। আবার যদি ফোন ধরেন তা হলেও ১০ টাকা। তখন আমি তাকে ফোনটি ফেরত দিয়ে বললাম ভাই ধরলেও ১০ করলেও ১০। এটা আমার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। এটা আমি পারব না।
শেখ হাসিনা বলেন, এ ছিল আমাদের দেশের অবস্থা। আমি আশা করি, আজকে যারা মোবাইল ফোন এক টাকা, দুই টাকা, তিন টাকা করে ব্যবহার করেন, তারা নিশ্চয় এই কাহিনিটা জানেন না। তাদের জানা উচিত। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জানা উচিত।তিনি বলেন, তরুণরা তাদের বাপদাদাদের কাছে জিজ্ঞাসা করলে জানতে পারবেন। তাদের ইতিহাসটাও জানা দরকার। আমরা আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে কিন্ত মোবাইল ফোনে কথা বলার এই সুযোগ করে দিয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সাল থেকে আমরা এনালগ, মনোলগ থেকে ডিজিটাল করার উদ্যোগ নিয়েছি। এ পরিবর্তনটা হয়েছে জনগণ, তরুণ সমাজের ভোটের কারণে। আওয়ামী লীগকে জয়ী করার কারণে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ব্যাপক কর্মসংস্থান হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরুণ সমাজ কিন্তু এটা বুঝতে পেরেছিল যে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় গেলে কর্মসংস্থান তৈরি হবে; পরিবর্তন হবে। আমি তরুণ সমাজের জন্য সরকারি চাকরির পাশাপাশি বেসরকারি খাতও উম্মুক্ত করে দিয়েছি। গত ১০ বছরে কর্মসংস্থান ব্যাপকহারে আমরা করে দিয়েছি- সেটা দেশের জন্য অনেক বড় সাফল্য।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৯৬-এর আগে বিএনপি সরকারের সময় কেউ মোবাইল, কম্পিউটার সেবা পায়নি। আমাদের বাংলাদেশের জন্য ওই সাবমেরিনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ এসেছিল, কিন্তু বিএনপি সরকার তা নাকোচ করে দেয়। তারা বলেছিল, বাংলাদেশ সাবমেরিনের সঙ্গে যুক্ত হলে নাকি সব গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, এখন আমরা নিজেরাই ডিজিটাল ডিভাইস তৈরি করছি। এ শিল্প আরও সম্প্রসারণ হলে তরুণদের আরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। এ জন্য যে ২৮টি হাইটেক পার্ক করা হচ্ছে, তা অবদান রাখবে।
শেখ হাসিনা বলেন, ইন্টারনেট সার্ভিসের মাধ্যমে গ্রামকে আমরা শহরে উন্নীত করব। যেখানে ইন্টারনেট সার্ভিস থাকবে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সংযোগ হবে। এর মধ্য দিয়ে নিজের ঘরে বসেই আউটসোর্সিংসের মাধ্যমে আয় করতে পারবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার আধুনিকায়নের জন্য আমরা স্কুলে স্কুলে মাল্টিমিডিয়ার ক্লাস রুম তৈরি করে দিয়েছি। আমরা যে ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণা দিয়েছি, আমরা সফল হতে পেরেছি। এ ডিজিটাল বাংলাদেশের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, কারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে। আর এর সঙ্গে আমাদের তাল মিলিয়ে চলতে হবে। তরুন প্রজন্মকে ওইভাবেই গড়ে তুলতে হবে।
এ সময় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ও প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক উপস্থিত ছিলেন।চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে বাংলাদেশে পরীক্ষামূলকভাবে বাণিজ্যিকভাবে বহুল প্রতীক্ষিত এমএনপি সেবা চালু করা হয়েছে। এই সেবা চালু হওয়ার ফলে গ্রাহকরা তার নম্বর অপরিবর্তিত রেখেই যেকোনও কোম্পানির নেটওয়ার্ক ব্যবহার করার স্বাধীনতা পাবেন, যা এর আগে নম্বর পরিবর্তনের ঝামেলার জন্য সম্ভব ছিল না।বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ১ অক্টোবর তাদের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এমএনপি সেবা দেওয়ার ঘোষণা দেয়।বিটিআরসি জানায়, বর্তমানে ৭২টি দেশে এমএনপি সেবা চালু রয়েছে। পাকিস্তানে ২০০৭ সালে ও ভারতে ২০১১ সালে এ সেবা চালু করা হয়।