ঢাকা রাজনীতি

দেড় ডজন নেতারএবারো ঈদ কারাগারে

Jamat-bg20130807131436
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,হটনিউজ২৪বিডি.কম,ঢাকা:এবারো কারাগারে ঈদ কাটছে বিভিন্ন দলের দেড় ডজন রাজনৈতিক নেতার। কারাবাসের এ মিছিলে সচরাচর বিরোধীদলীয় নেতারা এগিয়ে থাকলেও বেশ ব্যতিক্রম ঘটছে এবার।

সম্প্রতি সরকারি দলের এক সংসদ সদস্যও শামিল হয়েছেন এ মিছিলে। তবে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি কারাবাসে আছেন সদ্য নিবন্ধন অবৈধ ঘোষিত জামায়াতের নেতারা। এদের কেউ মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত হয়েছেন। কারোবা বিচার চলছে।

কারান্তরীণদের মধ্যে কেন্দ্রীয় কারাগার ঢাকা ও কাশিমপুরেই আছেন অধিকাংশ নেতা।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি সাংবাদিক পিটিয়ে শ্রীঘরে গেছেন সম্প্রতি। জামিন পেয়েও বাতিল হয়ে শ্রীঘরে যাওয়া রনির আপিলের শুনানি ঈদের পর ধার্য হওয়ায় কারাগারেই এবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে হবে তাকে।

বিএনপি নেতাদের মধ্যে মানবতা বিরোধী অপরাধে বিচার চলছে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও সাবেক এমপি আব্দুল আলিমের। তারা ছাড়াও কারাগারে আছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লু‍ৎফুজ্জামান বাবর, আব্দুস সালাম পিন্টু, নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু প্রমুখের।

জামায়াত নেতাদের মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত হয়ে কারাগারে আছেন- সাবেক আমীর গোলাম আযম, বর্তমান নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আব্দুল কাদের মোল্লার।

আর বিচার চলছে জামায়াতের বর্তমান আমীর মতিউর রহমান নিজামী, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য মীর কাশেম আলী, আবুল কালাম মোহাম্মদ ইউসুফ ও আব্দুস সুবহানের।

এর বাইরে দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি ডা. শফিকুর রহমানও কারাগারে আটক রয়েছেন।

এদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে আটক আছেন সাবেক চার দলীয় জোট সরকারের সবচেয়ে আলোচিত-সমালোচিত স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। ‘উই আর লুকিং ফর শক্রুজ’ উক্তিখ্যাত বিএনপির এ নেতা সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় থেকে আটক রয়েছেন।

২০০৪ সালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালায় জঙ্গিরা। এ ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানের বিরুদ্ধে। তবে সরকার পরিবর্তনের পর এ ঘটনায় নাম উঠে আসে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুল সালাম পিন্টুর। তিনিও সাবেক জরুরি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল থেকে কারাগারে রয়েছেন।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএপির সাবেক এমপি নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু কারাগারে আটক আছেন পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহে সহযোগিতা করার অভিযোগে। ২০০৯ সালের ২ জুন তাকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সেই থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

২০১০ সালের ডিসেম্বরে রমনা থানায় দায়ের হওয়া এক মামলায় আটক হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। পরে তাকে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় আটক দেখানো হয়। বর্তমানে মানবতা বিরোধী অপরাধে তার বিচার চলছে। কাশিমপুর কারাগারে আটক রয়েছেন তিনি।

নাটোরের এক হত্যা মামলায় কারাগারে আটক রয়েছেন বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। গত বছর ৮ ডিসেম্বর জেলা শহর যুবলীগের যুগ্ম-সম্পাদক পলাশ চন্দ্র কর্মকার গুলিবিদ্ধ হন দুলুর বাসার সামনে। এ ঘটনায় রাতেই পুলিশ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে আটক করে। তারপর থেকে কারাগারে রয়েছেন তিনি।

জামায়াত নেতাদের মধ্যে মানবতা বিরোধী অপরাধে ৯০ বছর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত গোলাম আযম ঈদ কাটাবেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী রয়েছেন কাশিমপুর, আলী আহসান মুজাহিদ ঢাকায়। কামারুজ্জামানের ঈদ কাটবে কাশিমপুর কারাগারে। এটিএম আজহার রয়েছেন গাজীপুর জেলা কারাগারে।

সরকারি দলের এমপি গোলাম মাওলা রনি আছেন ঢাকার অদুরে কাশিমপুর কারাগারে।