জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর সারাদেশ

বৃহস্পতিবার ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিন

Fazutunnnesa-sm20130807151451স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ,হটনিউজ২৪বিডি.কম,ঢাকা:বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিন।১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। মাত্র তিন বছর বয়সে বাবা শেখ জহুরুল হক ও পাঁচ বছর বয়সে মা হোসনে আরা বেগমকে হারান তিনি। ফজিলাতুন্নেছার ডাক নাম ছিল ‘রেনু’।গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে তিনি প্রাথমিক লেখাপড়া করেন। অতঃপর সামাজিক রীতি-নীতির কারণে গ্রামে গৃহশিক্ষকের কাছে লেখাপড়া করেন। ছোটবেলা থেকেই প্রখর স্মৃতি শক্তির অধিকারী রেনুর পড়াশোনার প্রতি প্রচণ্ড আগ্রহ ছিল।মনেপ্রাণে একজন আদর্শ বাঙালি নারী ছিলেন রেনু। অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তা, শান্ত, অসীম ধৈর্য ও সাহস নিয়ে জীবনে যে কোনো পরিস্থিতি দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবেলা করতেন। স্বামীর রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সর্বান্তকরণে সহযোগিতা করেছেন। বাঙালির মুক্তি সংগ্রামে অন্যতম এক অনুপ্রেরণাদাত্রী।ছায়ার মতো অনুসরণ করেছেন স্বামীর আদর্শকে বাস্তবায়ন করবার জন্য। জীবনে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করেছেন, অনেক কষ্ট, দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে তাঁকে। বঙ্গবন্ধু জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সময় কারান্তরালে কাটিয়েছেন বছরের পর বছর। তাঁর অবর্তমানে মামলা পরিচালনার ব্যবস্থা করা, দলকে সংগঠিত করতে সহায়তা করা, আন্দোলন পরিচালনায় পরামর্শ দেওয়াসহ প্রতিটি কাজে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। আন্দোলন চলাকালীন সময়ে প্রতিটি ঘটনা জেলখানায় সাক্ষাৎকারের সময় বঙ্গবন্ধুকে জানাতেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও নির্দেশ নিয়ে আসতেন, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে সে নির্দেশ জানাতেন। নেপথ্যে থেকে তিনি ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার চোখ বাঁচিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতেন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করার পর তদানীন্তন পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে বেশ কয়েকবার জিজ্ঞাসাবাদ করে গ্রেফতারের হুমকি দেয়।

যুদ্ধকালীন সময়ে অসীম মনোবল, সাহস ও ধৈর্য্য নিয়ে তিনি পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন। অপেক্ষা করেছেন প্রিয়তম স্বামীর জন্য। ডিসেম্বর বাঙালির বিজয়ে পাকি বাহিনীর আত্মসমর্পনের পর একাত্তরের ১৭ ডিসেম্বর তাদের বন্দিদশার অবসান ঘটে। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। অবসান ঘটে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছার দীর্ঘ প্রতীক্ষার। বাঙালি জাতি ফিরে পায় তাদের নেতাকে আর ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ফিরে পান তার স্বামীকে।

যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশ গড়ার কাজে বঙ্গবন্ধুর পাশে ছিলেন ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। সাহস যুগিয়েছেন, অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করার সময় পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে শাহাদাত বরণ করেন বেগম মুজিব।

বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিন উপলক্ষে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ উপলক্ষে বুধবার সকাল ১০টায় বনানী কবরস্থানে বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব স্মরণে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ, কোরানখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

সকাল ১১টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে মহিলা আওয়ামী লীগ।

দিনটিকে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করতে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।