কৃষি রংপুর

উত্তরের জনপদে পুড়ছে আমন চারা

Kurigram-sm20130807044241আহসান হাবীব, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,উত্তর জনপদ: বাংলার ঋতু বৈচিত্র যেন আর খাটছে না। বর্ষা ঋতুতে (শ্রাবণ) যেন চলছে চৈত্রের তীব্র তাপদাহ। বৃষ্টির অভাবে কুড়িগ্রামের মাঠ ঘাট ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। গত বছরের তুলনায় বৃষ্টিপাত হয়েছে মাত্র এক তৃতীয়াংশ।গত বছর জুলাই মাসে জেলায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ৩৭৪ মিলিমিটার। আর চলতি বছর রেকর্ড করা হয়েছে মাত্র ১২৬ মিলিমিটার। এদিক বৃষ্টির অভাবে আমন চাষ নিয়ে বিপাকে রয়েছেন জেলার চাষিরা। এখনও বেশিরভাগ জমিতে ধান রোপন করা হয় নি। তীব্র তাপদাহে বিবর্ণরূপ ধারণ করেছে আমন বীজতলা।বন্যা, কর্মসংস্থানের অভাবে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে কুড়িগ্রাম জেলা। অনগ্রসর এই জেলার কৃষকরা আমন রোপন নিয়ে রয়েছে মহাচিন্তায়। কিন্তু কৃষি বিভাগের যেন কোনই মাথা ব্যাথা নেই। অথচ সঠিক তথ্য প্রেরণ করলে সরকার বিশেষ উদ্যোগী হতে পারতো। যেমনটি ২০১০ সালে সরকার করেছিল। ওই বছর সরকার ভর্তুকি দিয়ে সেচের ব্যবস্থা করেছিল।

Kurigram-bg
মাঠের পর মাঠ ফাঁকা পড়ে থাকলেও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দাবি করেছেন ৪৯ ভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। কিন্তু কৃষি বিভাগের এ হিসেবকে কাজীর গুরু কাগজে আছে, বাস্তবে নেই বলে মন্তব্য করেছেন কৃষকরা।

জেলার সদর উপজেলার সুভারকুটি, প্রসাদকালোয়া, ভেড়ভেড়ি, চিলমারী উপজেলার মসজিদের পাড়, বেলের ভিটা, মোজাইডাঙ্গা ঘুরে দেখা গেছে মাঠের পর মাঠ অনাবাদী পড়ে আছে।দু’ একজন সেচ দিয়ে জমি রোপন করলেও অনেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

সেচে আগ্রহ নেই কেন এমন প্রশ্নের জবাবে চাষিরা জানিয়েছেন, ধানের যে দাম তাতে এমনিতেই উৎপাদন খরচ ওঠে না। সে কারণে সেচ দিয়ে বাড়তি বিনিয়োগে আগ্রহী নয় অনেকেই। আবার কারো কারো ইচ্ছা থাকলেও সেচের ব্যবস্থা না থাকায় জমি রোপন করতে পারছে না।

প্রসাদকালোয়া গ্রামের আমন চাষি সচীন্দ্র নাথ রায় হটনিউজকে বলেন, ‘এমনিতের খরচ ওটেনা(উঠেনা)শ্যালো থাকি পানি নিলে খরচ পামু কেংকরে।’

তারা বৃষ্টির পানির অপেক্ষায় সময় গুণছে। এদিকে সময় গড়িয়ে যাওয়ায় বীজতলাতেই নষ্ট হচ্ছে আমন চারা। কুড়িগ্রাম থেকে উলিপুর যাওয়ার সময় পথের দু’ধারে যতদূর চোখ যায়। পুরো মাঠ খাঁ খাঁ করছে। কোথাও আমন রোপন করা হয় নি।

চিলামারী উপজেলার মোজাইডাঙ্গা গ্রামের আমন চাষি সামছুদ্দিন (পিতা জিকরুদ্দিন) জানান, তাদের হাতে টাকা নেই। এক বিঘা জমিতে সেচ দিতে ৮শ টাকা খরচ পড়ছে। যে কারণে এখনও আমন রোপন শুরু করতে পারেন নি।আশায় আছেন বৃষ্টির জন্য।

অথচ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের(কুড়িগ্রাম) উপ-পরিচালক প্রতীপ কুমার মন্ডল দাবি করেছেন ৫ আগস্ট পর্যন্ত ৪৯ ভাগ জমিতে আমন রোপন শেষ হয়েছে।

প্রতীপ কুমার মন্ডল দাবি করেন, ‘এখন পর্যন্ত কোন সমস্যা নেই। তবে খরা যদি অব্যহত থাকে তাহলে উৎপাদন ব্যহত হবে।কৃষকদের সেচ দিয়ে আমন রোপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’