জাতীয় ঢাকা সারাদেশ

কর্মীদের ৭ দফা, গ্রামীণফোন বলছে দাবি সমাধান হয়েছে

হটনিউজ ডেস্ক: গ্রামীণফোন এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন এর ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করে সাত দফা দাবি তুলে ধরেন গ্রামীণফোনের কর্মীরা। গ্রামীণফোনের কাছে সাত দফা দাবি জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা। আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের প্রস্তাবিত সংগঠন ‘গ্রামীণফোন এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন’–এর (জিপিইইউ) ব্যানারে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দাবিগুলো উত্থাপন করেন জিপিইইউর সাধারণ সম্পাদক মিয়া মো. শাফিকুর রহমান মাসুদ। তাঁদের দাবিগুলো হলো, জিপিপিসি বেতন বৃদ্ধির যে প্রস্তাবনা দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা। গ্রামীণফোন পিপল কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক জাহিদকে চাকরিতে পুনর্বহাল করে তাঁর মানহানির ক্ষতিপূরণ দেওয়া। কমপ্লায়েন্স হেড তোফায়েল আউয়ালকে চাকরি থেকে অপসারণ করা। কর্মীদের সব ধরনের প্রজেক্ট বন্ধ করে চাকরির নিশ্চয়তা বিধান করা। কর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করে কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা। কর্মীদের যেসব সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, সেসব চালু করা। ভাতা না দিয়ে কর্মীদের দিয়ে অতিরিক্ত কাজ না করানো এবং তাঁদের নিয়মিত ছুটি ভোগের ব্যবস্থা করা।

কর্মীদের ৭ দফা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গ্রামীণফোন বলেছে, গ্রামীণফোন কর্মীদের স্বার্থ–সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে থাকে। দেশের আইনমতো প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো গ্রামীণফোন সমাধান করেছে। প্রতিষ্ঠানটি এ–ও বলছে, যৌন হয়রানির বিষয়ে গ্রামীণফোন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিমালা মেনে চলে।

সংবাদ সম্মেলনে জিপিইইউ লিখিত আকারে অভিযোগও উপস্থাপন করে। লিখিত অভিযোগে বলা হয়, কয়েক বছর ধরে গ্রামীণফোন শুধু জনশক্তি কমায়নি, বরং এর পাশাপাশি কর্মীদের সুযোগ-সুবিধাও একতরফাভাবে বন্ধ করেছে। গত পাঁচ বছরে ৫৪ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করলেও প্রতিষ্ঠানটি এর সামান্যই তার কর্মীদের পেছনে ব্যয় করেছে।

লিখিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, ২০১৫ সালে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০ ভাগ বাড়ানো হয়। তা ছাড়া অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও বৃদ্ধি করা হয়। এর প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যসহ আবাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা, যাতায়াত—সব ক্ষেত্রেই খরচ অস্বাভাবিক বেড়েছে। গ্রামীণফোনের সাম্প্রতিক বছরের আয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম ও অন্যান্য খরচের কথা বিবেচনা করে গ্রামীণফোনের কর্মীদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত গ্রামীণফোন পিপল কাউন্সিল (জিপিপিসি)–এর নেতারা একটি যৌক্তিক হারে বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব দেন। কিন্তু কর্মী–সংকট না থাকা এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় রেখে বেতন দেওয়ার খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে জিপিপিসির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং একতরফাভাবে সামান্য বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হয়। একতরফাভাবে সামান্য বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়ার পর কর্মীরা যাতে কোনো আন্দোলন করতে না পারেন, সে জন্য বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়ার আগেই দেশের প্রচলিত আইন–আদালতের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জিপিপিসির বর্তমান সেক্রেটারি বি এম জাহিদুর রহমানকে ১৬ এপ্রিল চাকরিচ্যুত করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জিপিইইউর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফজলুল হক, বাংলালিংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি গোলাম সোহাগ, আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন ইউএনআই বিএলসির সমন্বয়ক মোস্তফা কামাল, জিপিইইউর সাংগঠনিক সম্পাদক মাতুজ আল কাদরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

গ্রামীণফোনের বিবৃতি

জিপিইইউর সংবাদ সম্মেলনের পর গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যৌন হয়রানির বিষয়ে গ্রামীণফোন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিমালা মেনে চলে। আইন অনুযায়ী একজন ‌ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো গ্রামীণফোনের কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল ওম‌্যান লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএনডব্লিউএলএ)–এর মতো প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত একটি স্বাধীন কমিটি নিবিড়ভাবে তদন্ত করে।

গ্রামীণফোন হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসরণ করে নির্ধারিত পদ্ধতিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তবে এ বিষয়ে দুপক্ষেরই আইনগত দিক বিবেচনা করার সুযোগ আছে। বিষয়টির স্পর্শকাতরতা ও জড়িতদের গোপনীয়তা রক্ষার কথা বিবেচনা করে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সমীচীন নয় বলে মনে করে।

পাশাপাশি কর্মীদের বেতন ও বোনাস সম্পর্কে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গ্রামীণফোন কর্মীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে থাকে। দেশের আইনমতো প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো গ্রামীণফোন সমাধান করেছে। উল্লেখ্য, দেশের বড় বড় প্রতিষ্ঠানকে মানদণ্ড বিবেচনা ধরে গ্রামীণফোন তার কর্মীদের প্রতিযোগিতামূলক, ন্যায্য এবং সুষম আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করছে। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ভালো ব্যবসায়িক সাফল্যে কর্মীরা বিগত বছরের তুলনায় বেশি ত্রৈমাসিক ‘পারফরম্যান্স’ বোনাস ইতিমধ্যে পেয়েছেন এবং একইভাবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লভ্যাংশ শেয়ার পেতে যাচ্ছেন।