জাতীয় ঢাকা

ঈদের আগে বেতন পাচ্ছেন না

imagesশেরপুর থেকে শাহরিয়ার আহাম্মেদ শাকির:ঈদের আর মাত্র দুই দিন বাকী। কিন্তু এখনও জুলাই মাসের বেতনই পাননি শেরপুর জেলার সাড়ে পাঁচ হাজার বেসরকারী স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকগণ। এতে হতাশা বিরাজ করছে এসব শিক্ষক কর্মচারীদের ঘরে ঘরে। আর ঈদের আমেজও নেই তাদের ঘরে।

এবার রোজা শুরু হয় ১১ জুলাই। কিন্তু রোজার শুরুতে শিক্ষকরা জুন মাসের বেতন পায়নি। ফলে ধার-দেনা করে রোজার মাসের খরচ জোগায় শেরপুর জেলার ১শ ৭২ টি বেসরকারী হাইস্কুল, ১শ ৪টি মাদ্রাসা, ১৯টি বেসরকারী কলেজের প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষক কর্মচারী। গত সপ্তাহে জুন মাসের বেতন উত্তোলন করে রোজার মাসের দেনা পরিশোধ করতেই শেষ হয়েছে তাদের জুন মাসের বেতনের টাকা। কোন কোন শিক্ষকের রোজার মাসের বাড়তি খরচ হওয়ায় এখনও দেনাই পরিশোধ করা হয়নি তাদের। আবার শেরপুরের দু একটি উপজেলার শিক্ষকরা এখনও জুন মাসের বেতনই পাননি। তাদের অবস্থা আরো বেগতিক। এদিকে বেসরকারী শিক্ষকরা এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জুলাই মাসের বেতনই পাননি। ঈদের আগে ব্যাংক খোলা আছে মাত্র ৭ জুলাই। ৭ জুলাই পর্যন্ত তাদের বেতন উত্তোলনের শেষ তারিখ। অথচ ৬জুলাই পর্যন্ত বেতনের মেমো বা এমপিও ব্যাংকে এসে পৌছায়নি। শিক্ষকরা হন্য হয়ে অপেক্ষা করছেন বেতনের উঠানোর জন্য। কিন্তু ৭জুলাই বেতনের মেমো নম্বর বা এমপিও আসলেও একদিনে বেতন জমা নেয়া এবং পাস করানো ও বেতনের টাকা শিক্ষকদের মধ্যে প্রদান করা সম্ভব হবে না। এতে শিক্ষকদের জুলাই মাসেরবেতন ঈদের আগে আর পাওয়া সম্ভব নয়। ফলে ঈদের আনন্দ বেসরকারী শিক্ষকদের ঘরে এবার পৌছতে পারবে না বলে শিক্ষকরা মনে করছেন। আনন্দের পরিবর্তে হতভাগ্য বেসরকারী শিক্ষকদের ঘরে ঘরে হতাশা আর না পাওয়ার বেদনা। শিক্ষকদের ছেলে মেয়েরা বায়না ধরছে জামা কাপড় কেনার। বেতন পেয়ে তা কিনে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও সে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারছেন না শিক্ষকরা। এতে শিক্ষকদের মনও ভারাক্রান্ত। শিক্ষকরা বোনাস পান তাদের মূল বেতনের ২৫ ভাগ। এতে এক জন শিক্ষক দেড় হাজার থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত বোনাস পেয়েছেন। এ বোনাসের টাকা দিয়েই সরকার খালাস। এ অল্প পরিমান টাকার বোনাসেও ক্ষোভ রয়েছে শিক্ষকদের মধ্যে। এ বোনাসের পরিমান বাড়ানোর দাবীও শিক্ষকদের। শিক্ষকদের অভিযোগ এ নাম মাত্র বোনাস দিয়ে সরকার শিক্ষকদের উপহাস করছে। এ বোনাস দেয়ার চেয়ে না দেওয়াই ভাল। এদিকে শিক্ষকদের ঋণ করারও সুযোগ নেই। অনেক শিক্ষক আগেই চেক জমা দিয়ে ঋণ গ্রহণ করেছেন। কাজেই তাদের আর ঋণ করারও সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সময় মত টাকা ও অর্ডার ব্যাংকে আসলে টাকা দিতে কোন অসুবিধা হয় না। কিন্তু এমন সময় ব্যাংকে অর্ডার আসে তখন আর ব্যাংকের পক্ষে করার কিছু থাকে না। ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আপ্রাণ চেষ্টা করে শিক্ষকদের টাকা পরিশোধ করতে। এ ব্যাপারে মাদ্রাসা শিক্ষক রেজাউল করিম জানান, এবার আর আমাদের ঘরে ঈদ নেই। ছেলে মেয়েদের কি দিয়ে বুঝ দিমু সে পথও খোঁজে পাচ্ছি না। মাদ্রাসা শিক্ষকদের সর্ববৃহৎ ও একমাত্র সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন, শেরপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ মাওঃ নুরুল আমীন, বলেন সরকারের উচিৎ ঈদের আগেই শিক্ষকদের বেতনের টাকা পরিশোধ করা। এমনিতেই শিক্ষকরা বেতন ভাতা পান অন্যদের তুলনায় কম। এর মধ্যে আরো টাকা যদি সময় মত না পাওয়া যায়, তবে এর চেয়ে কষ্টের কোন সীমা থাকে না। তাই আমি বিশেষ ব্যবস্থায় ঈদের আগেই শিক্ষকদের জুলাই মাসের বেতন পরিশাধ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ করছি।